যেভাবে বঙ্গবন্ধুর কুৎসা করতেন ঢাবি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

1

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিরদিনই হলেন ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্যবস্তু। বাম বুদ্ধিজীবীদের মিথ্যাচারের মাত্রা এমন ছিল যে প্রগতিশীল সাহিত্য চর্চা ও পাঠদানকারিও তা থেকে দূরে সরে ছিলেন না। আমার সরাসরি শিক্ষক ও ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী শেখ মুজিবের প্রতি এতোই নির্মম যে কোনো ভালো কিছুতো দেখেন নি। উপরন্তু শোনা কথাকে পাণ্ডিত্যের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে গালগল্পের কত যে অবতারণা করেছেন সেই ১৯৭২ হতে- একুশ শতকে যার সুর বদলে গেছে।

স্যারের জীবন শুরু হয়েছে তমুদ্দিন মজলিশ দিয়ে। পরে চৈনিক। স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ পর্যন্ত জাসদের প্রতি সমর্থন – ওসমানীকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করে নির্বানের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। যেখানে সুযোগ পেতেন শেখ মুজিবকে অযথা হেস্তনেস্ত করতেন লেখায়। সেন্ট গ্রেগরীতে ড. কামালের সহপাঠী ছিলেন স্কুলে।

১৯৭৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ “নিরাশ্রয় গৃহী” জুড়ে মুজিবকে যতভাবে নিন্দা কুৎসা করা যায় করেছেন। মুজিব যে সমাজতন্ত্র চাপে পড়ে চেয়েছেন সহ স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি- বরং ধরা দিয়েছেন। পাকিস্থানের নেতা হতে চেয়েছেন – সব মনগড়া। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত “আরণ্যক দৃশ্যাবলী” গ্রন্থে বামমার্গীয় শিক্ষকের হীনমন্যতা ও গীবত ফুটে ওঠেছে।

শেখ মুজিব সম্পর্কে লিখেছেন, “যে পথে তিনি অগ্রসর হচ্ছিলেন তাতে নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছিল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা চান নিজস্ব… শোনা যায় দেশে যত না বিদেশে ততোধিক বিত্তবৈভব গড়ে ওঠেছিল তাঁর ও তাঁর পরিবারের।” ভদ্রোচিত মোড়কে কুৎসিত আলোচনার জ্বলন্ত নমুনা এটি।

কানে শোনা সূত্রটি অধ্যাপক মহাশয় চমৎকারভাবে আড়াল করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত দ্বিতীয় বিপ্লবের রাজনৈতিক সমালোচনা না করে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে না যেয়ে স্যার রাজবংশ বলে মিথ্যাচারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন। বঙ্গবন্ধুর বিত্ত-সম্পদ সম্পর্কে মিথ্যাচার কত অনায়াসে করতে পারেন মাস্টার মশাই – ছাত্র হিসেবে ভাবা দুষ্কর।

শোনা কথার আড়ালে প্রফেসর বঙ্গবন্ধুর সম্পদ সম্পর্কে যা লিখেছেন তার ব্যবচ্ছেদ করলে স্পষ্ট শেখ মুজিবকে হেয় করে স্বাধীনতা যে মুজিবের নেতৃত্বে হয়েছে তা ভূলুন্ঠিত করা।

স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে ওনার লেখনী থমকে ছিল। যত আক্রমণ মিথ্যাচার শেখ মুজিবকে নিয়ে। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের ডাকে সাড়া না দিয়ে স্যার ঢাবিতে নিয়মিত ক্লাস করাতেন – চীনাপন্থী পুরো গ্রুপটি ক্লাস নিয়েছে।


ছবি: লেখক

আহমদ শরীফ, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর এরা ক্লাস নিতেন – টিচার্স লাউঞ্জে আড্ডা দিতেন – সে সব অন্য বৃত্তান্ত। আমরা এই মিথ্যাচার প্রচারকারির ছাত্র ছিলাম! হায় কী সর্বনাশাকাল পাড়ি দিয়েছি!

লেখক: জাফর ওয়াজেদ
পরিচিতি: সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।