উত্তরা থেকে বাংলাদেশি প্রথম বাণিজ্যিক পর্ন নির্মাতা গ্রেফতার

2

বাংলাদেশের একমাত্র বাণিজ্যিক পর্নচিত্র ও ওয়েবসাইট কনটেন্ট নির্মাতা ফুয়াদ বিন সুলতানকে উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ফুয়াদ বাংলাদেশি নারী পুরুষের যৌন সম্পর্কের ভিডিও ফুটেজ বিশ্বখ্যাত ৮টি পর্ন ওয়েবসাইটে প্রচার করতেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে ফুয়াদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফুয়াদের বাবা সুলতান আহমেদ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি।

ফুয়াদের কাছ থেকে পাইরেটেড সিডি ও পর্নগ্রাফি বিস্তারের কাজে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ ও বেশ কিছু ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ফুয়াদকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ফুয়াদ ২০১১ সালে কমিশনের বিনিময়ে বাসা ভাড়া করে দেয়ার ব্যবসা শুরু করেন এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেন। ফুয়াদ বৈধ পন্থায় দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের গুলশান ও উত্তরায় বিভিন্ন বাসা ভাড়া দিয়ে কমিশন নিতেন।

২০১৪ সালের দিকে তিনি ইন্টারনেটের ব্যবসা শুরু করেন। এ সময়ে তিনি বিভিন্ন পর্নসাইট এ বিচরণ করেন এবং তার নেশাকে (মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা) পেশায় পরিণত করার চিন্তা ভাবনা করেন।

দুটি বৈধ ব্যবসার অন্তরালে তিনি ২টি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি পর্নগ্রাফির ব্যবসা শুরু করেন। এই দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তিনি বিভিন্নভাবে সংগৃহীত মেয়েদের আপত্তিকর ছবি, মোবাইল নাম্বার এবং দৈহিক মিলনের বিনিময়ে নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ করে বিভিন্ন জনকে আকৃষ্ট করতেন।

এস্কর্ট সার্ভিসও দেয়া হতো ফুয়াদের ওয়েবসাইট থেকে।

অগ্রিম নির্দিষ্ট পেমেন্টের বিনিময়ে গ্রাহকের ঠিকানায় নারী যৌনকর্মী পাঠানোর ব্যবসা করতেন ফুয়াদ। এক্ষেত্রে উচ্চবিত্ত বা মাধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রী, তরুণী বা উঠতি মডেলদের সাথে নির্ধারিত অর্থ এবং শর্ত সাপেক্ষে যৌনকর্ম করার সুযোগ পেতো গ্রাহকেরা।

ফ্ল্যাটে দেহ ব্যবসা পরিচালনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে ফুয়াদ বলেন, পুরো বাড়িটি তাদের নিজেদের। বাড়ির দুইটি ফ্ল্যাটে ব্যবসা করার কারণে প্রতিমাসে মাসে ৪৫ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়।

উক্ত ফ্ল্যাট দুটিতে টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য ভাড়া দিতেন। আবার বিভিন্ন লোকেশনে মেয়ে সরবরাহ করতেন। শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া ছেলে-মেয়েদের দৃশ্য গোপন ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করেন।

পরে ব্ল্যাকমেইলিং করে আরো শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। ওই সব ভিডিও ফুটেজ তিনি তার পর্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিতেন।

ওই ফ্ল্যাট হতে অশালীন অবস্থায় মেয়েদের পাশে বসিয়ে নিজে মুখোশ পরিহিতাবস্থায় ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করা হতো যা অপ্রাপ্ত বয়স্কসহ অনেক লোক ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে প্রত্যক্ষ করতেন।

ফুয়াদ আরো জানান, তিনি ৮টি ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন। এছাড়াও বিভিন্ন যুবকদের নিকট হতে গোপনে ধারণনকৃত অশ্লীল ভিডিও কিনে নিতেন। পরে তা তার সাইটে উপস্থাপন করতেন।

তার এই সাইটগুলো থেকে ভিডিও বিদেশি অনেক পর্নগ্রাফি সাইটে উচ্চমূল্যে বিক্রয় হত। বিদেশি এমন লক্ষাধিক পর্নসাইট থাকলেও বাংলাদেশে ফুয়াদই প্রথম বাণিজ্যিক আকারে নিজেকে এই পেশায় নিয়োজিত করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।