ইমামকে হত্যা করা ঈমানী দায়িত্ব

0

আমাদের রাসুল (সা.) এর হাদিসকে যারা বিকৃত করেছে ও তার মান-সন্মানে আঘাত হেনেছে, তাদেরকে সাহাবা কেরামরা কখনই সহ্য করেনি। ইমাম মোস্তাফিজুর আশপাশের মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে, তাদের ঈমান নষ্ট করে কাদিয়ানি বানাচ্ছে। এই কারণেই ওই কাফের মোস্তাফিজকে হত্যা করা ঈমানি দায়িত্ব বলেই তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়েছে ফেলার জন্য।’ বলিষ্ঠ কণ্ঠেই এই কথাগুলো বলছিল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮নম্বর সার্জারি ইউনিটের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়া আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদের ইমাম মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলাকারী আব্দুল আহাদ মোহাম্মদ উল্লাহ।

আহাদ নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দার চারিয়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। সে গত ১ বছর ধরে ইসলামপুর দারুস সুন্নাত জাফরিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। তারা ৫ ভাই ও ৫ বোন। সে এর আগে চট্টগ্রামের মেকল মাদ্রাসায় ১ বছর লেখাপড়া করেছে।

আহাদ জানায়, ইমামকে হামলাকারী অপর দুইজন তার সহপাঠী ইসলামপুর দারুস সুন্নাত জাফরিয়া মাদ্রাসার ইলিয়াস হোসেন ও জহিরুল ইসলাম।

আহাদ আরও জানায়, গত তিন সপ্তাহ আগে সে জানতে পারে ইমাম মোস্তাফিজুর আশপাশের মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে ঈমান নষ্ট করে কাদিয়ানি বানাচ্ছে। এরপরই সে পরকিল্পনা করে এই কাফেরকে আর দুনিয়ায় রাখা যাবে না। গত তিনদিন আগে ধারালো দা সংগ্রহ করে ইলিয়াস ও জহিরুলকে সঙ্গে নিয়ে সে ঈশ্বরগঞ্জে আসে ইমামকে মারার জন্য।

আহাদ জানায়, সে কোনও দল বা গোষ্ঠীর সদস্য না। নিজ উদ্যোগেই ইমামকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে সে।

জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নের কানপুর গাংপাড়া আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদের ইমাম মোস্তাফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের কাহালোতে। তিনি গত দুই বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতি করছেন। মসজিদের পাশেই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।

ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন আইয়ুব আলী জানান, ইমাম মোস্তাফিজুর  নিরিবিলি জীবন যাপন করতেন। তিনি আশপাশের মুসলমনাদের মসজিদে এনে ধর্মের কথা শোনার জন্য দাওয়াত দিতেন। অনেকেই আসতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলোতে।

তিনি আরও জানান, গত দুই মাস আগে ঢাকা থেকে কোনও একটি মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন হুজুর ও ছাত্র আশপাশের মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে আসেন এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদটি এই এলাকায় রাখা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়ে যান। এরপরই এই ঘটনাটি ঘটেছে দাবি করেছেন তিনি।

আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ তাফসির চৌধুরী বলেন, ‘হামলাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবেই মোস্তাফিজুরকে হত্যার উদ্দেশেই হামলা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষজনকে দেখতে পারে না, তারাই এই হামলা করেছে।’

এদিকে সরিষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া জানান, ইমাম মোস্তাফিজুরের ওপর হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। তিনি তদন্ত করে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত ইমাম মোস্তাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে হামলাটি হয়েছে তা তদন্ত করার পর জানা যাবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।