ভিক্ষা করে পেট চালান বিমানের কেবিন ক্রু নার্গিস!

0

সময় এখন ডেস্ক:

এক সময়ের এয়ার হোস্টেস। ভালো ছাত্রী হিসেবেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে পেয়েছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে এই চাকরি। তার অনর্গল ইংরেজি বলার ধরন ও ইতিবাচক আচরণে বিমানের যাত্রীরা হতেন মুগ্ধ। অনেকেই তার আতিথেয়তায় ছিলেন পঞ্চমুখ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, নিজ যোগ্যতায় যে নারী ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, সেই যাত্রীসেবাদানকারী চটপটে এয়ার হোস্টেস এখন ভিক্ষা করেন।

কর্মজীবনে একসঙ্গে পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান করা সহকর্মীরা কেউ এখন আর তার খবরও নেন না। কেবিন ক্রুদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে গঠিত অ্যাসোসিয়েশন পর্যন্ত তার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। সাধারণ সদস্য তো নয়ই বরং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও খবর রাখেন না এই হতভাগিনীর।

জানা গেছে, ওই কবিন ক্রুর নাম শামীমা নার্গিস। বাবার নাম এম এ রকিব। বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানাধীন গাজিপুরা গ্রামে। বিমানের নথিপত্রে বর্তমান ঠিকানা এন্ট্রি করা আছে ২-বি/২, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, আইজি গেট, ফরিদাবাদ, ঢাকা।

১৯৮১ সালে নার্গিস ঢাকার বি.বি স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ইডেন কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৮৫ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বিমানে ফ্লাইট স্টুয়ার্টেড হিসেবে যোগ দেন। প্রায় ১৮ বছর চাকরির পর নার্গিসকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই মূলত দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন নার্গিস।

সম্প্রতি খিলক্ষেত থানাধীন বরুয়া গ্রামের এক টং দোকানে সাদাসিধে পোশাকে বসে এক ব্যক্তির কাছে এক টুকরা রুটি খুঁজে খাচ্ছিলেন। বললেন, কপাল দোষে ভিক্ষা করছি। আমার সাথের সবাই ভালো থাকলেও কেউ আমার খবর নেয় না। সব আপনজন এখন পর হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান ফ্লাইং সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব কেবিন ক্রুর সভাপতি আকতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নার্গিসের দুর্বিষহ জীবনের কথা আমরা শুনেছি। শুনে আমাদের খারাপও লাগছে। তিনি আমাদেরই একজন প্রিয় সহকর্মী ছিলেন। আমরা তার সন্ধান পেলে অবশ্যই পাশে দাঁড়াব। চিকিৎসার ব্যবস্থা করব এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা কিংবা চাকরির ব্যবস্থা করব।’

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ভলেন্টারি রিটায়ারমেন্ট স্কিমের (ভিআরএস) আওতায় বাধ্যতামুলক বিদায় দেয়া হয় নার্গিসসহ বিমানের ১ হাজার ৮৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। সে সময় মোট জনবল ছিল ৪ হাজার ৭০৬ জন। বিদায়ীদের ৩০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয় তখন। এরপর বিষয়টি মামলায় গড়ালে তাতেও খরচ হয় ও পরবর্তীকালে ভিআরএসপ্রাপ্ত লোকদের নিয়োগ দিতে হয় এবং এখনও ওই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।