সাবধান, রমরমা যৌন বাণিজ্য এখন অনলাইনেই!

0

সময় এখন ডেস্ক:

‘ওয়েলকাম টু রিলাক্স স্পা অ্যান্ড এসকর্ট এজেন্সি, উই আর ১০০ পার্সেন্ট রিয়েল। উই আর প্রভাইডিং হাই ক্লাস এসকর্ট সার্ভিস ইন ঢাকা। উই হ্যাভ বিউটিফুল মডেল, অ্যাকট্রেস…।’ এভাবেই উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে ইন্টারনেটে চলছে এসকর্ট সার্ভিসের প্রচারণা।

একটি দুটি না, এরকম অর্ধশতাধিক ওয়েবসাইটের খোঁজ পাওয়া গেছে। আর এইসব ওয়েব সাইটগুলোর ডোমেইন কেনা হয়েছে দেশের কোনো না কোনো ঠিকানা ব্যবহার করে। এসব ওয়েব সাইটে দেওয়া আছে মেয়েদের ছবি ও বর্ণনা। এমনকি সেইসব ছবির মেয়েদের সঙ্গ পেতে মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ আছে নিরাপত্তার বিষয়টিও।

কথা হয় ‘ঢাকা এসকর্ট’ সার্ভিসের একটি ফোন নম্বরে। রিপন নামে এক ব্যক্তি জানান, বাসার নম্বর বললে ঠিকানা অনুযায়ী পাঠিয়ে দেওয়া হয় মেয়ে। রিপন বলেন, ‘সি গ্রেডে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা রয়েছে। বি গ্রেডে সুন্দরী মডেল, নিউজ প্রেজেন্টার ও উপস্থাপক। এ গ্রেডে দেশের পরিচিত কিছু নায়িকা-অভিনেত্রী রয়েছে।’

তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি আগ্রহী হলে বুকিং মানি হিসেবে ২৫ পার্সেন্ট টাকা পাঠাতে হবে। অথবা গুলশান-২ এলাকায় এসে কল দিলে সরাসরি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন সরাসরি টাকা দিতে পারবেন।’

এসকর্ট গার্ল সম্পর্কে অপর একটি সাইটের ডেস্ক কর্মকর্তা বিপ্লব সাহা বলেন, ‘কিছু মেয়েরা পূর্ব থেকেই পরিচিত। তাদের দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছেন তারা। পরবর্তীতে আরো অনেকে স্বেচ্ছায় যোগাযোগ করেছেন। অনেকেই ছবি দিতে রাজি হন না। সিভি পাঠিয়ে দেন। সিভিতে প্রকৃত নাম-ঠিকানা থাকলেও তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না।’

কথা হয় ফ্ল্যাটের এক তরুণীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এসকর্ট গার্ল হিসেবে ওয়েবে তার কোনো ছবি নেই। ফেসবুকে একটি আইডি ও পেইজ আছে তার। এতে অনেকেই নক করেন। নানা প্রস্তাব দেন।’ ব্যক্তির প্রোফাইল দেখে বিত্তশালী, স্মার্ট ও বিশ্বস্ত মনে হলেই সাড়া দেন তিনি। এছাড়াও এসকর্ট থেকেও ফোনে মাঝেমধ্যে খদ্দের পান।

এসকর্ট এজেন্সির পরিচালকরা জানান, কোনো খদ্দের যদি ওয়েবসাইটে ছবি দেখে ফোনে, ই-মেইলে এজেন্সিতে যোগাযোগ করে এসকর্ট গার্লকে বাসায় নিতে চান এরকম চুক্তি করেন। তখন এজেন্সি থেকে নির্ধারিত এসকর্ট গার্লকে ফোনে চুক্তির কথা জানানো হয়। পরে সেই চুক্তি অনুযায়ী এজেন্সির দেয়া ঠিকানা মতো পৌঁছে যাবে এসকর্ট গার্ল। এজন্য আগেই তাকে অর্ধেক পেমেন্ট করতে হয়। বাকি অর্ধেক পাবে কাজ হওয়ার পর। আর এজেন্সিকে দিতে হবে নির্ধারিত একটি কমিশন। কমিশনের পরিমাণ ২৫ থেকে ৪০ পার্সেন্ট বলেও জানান তিনি।

এসকর্ট সার্ভিসের এসব প্রচারণাকে ফাঁদ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার অনেকে মনে করছেন, কোনো মেয়েকে হেয় করতে বা সমস্যায় ফেলতে তাদের ছবি ওইসব ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।