যৌন চাহিদা মেটাতে রোবট!

0

নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট অনেকেই। মাঝে মাঝে এমনটা মনে হয়, নিজের পছন্দমত অর্ডার দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা তৈরি করে নেওয়া গেলে কতই না ভালো হতো! এটা স্বপ্নের মতো মনে হলেও প্রযুক্তি এখন এত উন্নত হয়ে গেছে যে অদূর ভবিষ্যতেই হয়ত এমনটা সম্ভব হবে! আর সেই প্রেমিক বা প্রেমিকা হবে রোবট। এখন হয়তো রোবটের সাথে প্রেম করার কথা শুনে আপনার গা শিউরে উঠছে কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে মানুষ আর রোবটের অবয়বে তেমন কোনও পার্থক্য থাকবে না। তখন মানুষের পরিবারে পাকাপাকিভাবে স্থান করে নেবে বিভিন্ন কাজে পারদর্শী রোবট আর এর পাশাপাশি প্রেমিকের স্থানও নিয়ে নিতে পারে তারা।

বিভিন্ন দেশের মানুষ নিঃসঙ্গতা কাটানো এবং প্রিয় মানুষের অভাব পূরণে “সেক্স টয়” ব্যবহার করে থাকে বটে, কিন্তু সেগুলোর নেই প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা। তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন শীঘ্রই দূর হবে এই বাধা এবং মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হবে সিলিকনে তৈরি এসব যন্ত্রমানব। আজ তারা বাড়ি পরিষ্কার রাখতে পারে, পোষা প্রাণীর মতো আচরণ করতে পারে, মহাশূন্যে পাড়ি দিতে পারে এবং বিভিন্ন শল্যচিকিৎসায় সহযোগিতা করতে পারে। এরাই ভবিষ্যতে পারবে আরও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে। তবে এ ব্যাপারে সন্দিহান অনেকে। মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কাজ করতে পারবে এমন রোবট তৈরি মানব সভ্যতার জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এর পরেও বিজ্ঞানীরা আশা করছে ২০৩০ সাল থেকে ২০৪০ সালের মাঝেই তৈরি করা সম্ভব হবে এমন রোবট যার থাকবে মানুষের মতো চিন্তাশক্তি, নমনীয় শরীর এবং প্রেমিক হবার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বৈশিষ্ট্য।

“Should Robots Feel” গ্রন্থের লেখক জেসন নেমেথ এর মতে, ভবিষ্যতে মানুষের সকল চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এমন প্রেমিক রোবটের অস্তিত্ব যথেষ্টই যৌক্তিক। তিনি নিশ্চিত নন দুইজন মানুষের মাঝে প্রেমের চাইতে মানুষ-রোবট প্রেম অধিক সফল হবে কিনা কিন্তু এ ব্যাপারে মানুষের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের পথ ঠিক করে দেবে। কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটির হ্যান্স মোরাভেক এর ধারণা ২০২০ সালের মাঝেই মানুষের মতো অবয়বের রোবট তৈরি করা সম্ভব হবে। তারা জ্বালানী হিসেবে ওয়াইন পান করবে, মানুষের মতো বাতাসে নিঃশ্বাস নেবে আর দেখতেও মানুষের মতই হবে। এমন অভিনব ডিজাইনে তাদেরকে তৈরি করা হলে তাদের প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণ করাটা মোটেও কঠিন হবে না বলে মনে করেন লেখক রে কুর্যওয়েল। আর মানুষের মাঝে ইতিবাচক অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারেও এই রোবটেরা পারদর্শী হবে যার ফলে এদের প্রতি মানুষের আকর্ষণ হবে অসামান্য। Love and Sex with Robots এর লেখক ডেভিড লেভি মনে করেন, রোবটের বৈশিষ্ট্য যতই মানুষের মতো হতে থাকবে, রোমাঞ্চপ্রেমী মানুষেরা ততই রোবটের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া শুরু করবে। সঙ্গী হিসেবে রোবট হবে নিখুঁত। কখনোই তারা বিরক্তি দেখাবে না বা অমনোযোগী হবে না। এদের মাঝে প্রোগ্রামিং করে বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করে দেওয়া হবে ফলে তারা কখনই আপনাকে ছেড়ে যাবে না।

এক্ষেত্রে অবশ্য আইনের কথা উঠে আসতে পারে। এসব রোবটকে কি যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হবে? রোবটদের অধিকারের ব্যাপারে কি কোনও আইন করা হতে পারে? যেমন এমন একটি আইন আসতে পারে, রোবটের অনুমতি ছাড়া তাকে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। আরও একটি প্রশ্ন হলো, রোবট এবং মানুষের মাঝে কি বিয়ে সম্ভব হবে? ভবিষ্যতের এই রোবট যদি মানুষের মাঝে সত্যিই ভালবাসার অনুভূতি নিয়ে আসতে পারে, তবে তাকে তো বিয়ে করার কথা অনেকেই চিন্তা করতে পারে। মানুষের মাঝে বিভিন্ন সম্পর্কের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা বুঝতে পারি যে মানুষ এবং রোবটের মাঝে প্রেমের সম্ভাবনা তেমন আজগুবি কিছু নয়। একটি বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মস্তিষ্ক এবং আবেদনময় শরীর নিয়ে রোবট মানুষের মাঝে প্রেমের উদ্রেক করতেই পারে। এতে আমাদের ভালো লাগুক আর খারাপ লাগুক, একে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দেই আর সম্ভব বলে আশা করি, আগামী অর্ধশতকের মাঝে এমন একটি ব্যাপার যে ঘটতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।