গত নির্বাচনে তারেকের মনোনয়ন-ধান্দা ছিল ১৫শ কোটি টাকা, এবারের টার্গেট কত?

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। শুনেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি এই রোডম্যাপ মানে না। তিনি প্রতিদিনের মুখস্ত বুলিটা আবারও ঝেড়ে বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। বিএনপির অন্য নেতারাও একই সুরে গেয়েছেন। কিন্তু মুখে বিএনপি যতই বলুক না কেন এসব কথা, রোডম্যাপ ঘোষণার পর বিএনপির নেতাদের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এমনিতে বিএনপির বর্তমানে যে দশা, তাতে দলের নেতারা হতাশ। নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন অনেকেই। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এলাকায় মুখ রক্ষার প্রয়োজনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার এক ধরণের প্রচ্ছন্ন চাপ রয়েছে তাদের ওপর। অনেকে মনোনয়ন কেনার জন্য অর্থ সংকুলান করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। এখন বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। তাই দলীয় ফোরামে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে চলছে দেন-দরবার।

বিএনপির সকল নীতি-নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক অধিকার লন্ডনে পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সিদ্ধান্তই বিএনপির শেষ কথা। পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র পরামর্শে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণরে ঘোষণা দেন তারেক। ওই নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হলেও ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন তারেক। তিনি সেই নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যেই বলেন। যার পরিমাণ ১৫শ কোটি টাকারও বেশি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসনে তিন-চারজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন বলে সবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ছেন তারেক।

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই বলেন, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তারেক রহমান। আবার নির্বাচন আসছে। আর এ কারণেই বিএনপির নেতাদের মাঝে জেগেছে শঙ্কা। কেননা, নির্বাচন মানেই তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন বাণিজ্যের মৌসুম। এই সুযোগ তারেক কখনই হাতছাড়া করবেন না। তারেক ভালো করেই জানেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা না করায় সংগঠন হিসেবে বিএনপির কিছু যায় আসে না। কারণ নির্বাচনে জয়ের মত শক্ত অবস্থানে নেই বিএনপি। আবার নির্বাচন বর্জন করলে সরকারের পতন ঘটবে এটিও আশা করে না কেউ।

এরকম পরিস্থিতিতে তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত আর্থিক লাভের চিন্তায় শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিবেন। অনেকেই বলছেন, তারেককে টাকা দিয়ে সবকিছুই করানো যায়। এমনও হতে পারে, সরকারের সঙ্গে তারেক রহমান হয়ত একটি আপসরফায় গিয়ে বা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন। কারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ৩০০ আসনে মনোনয়ন বাণিজ্য করার সুবর্ণ সুযোগ আছে তারেক রহমানের সামনে। তাই বিএনপির অনেক নেতার প্রশ্ন, তারেক রহমান কি এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন? তাছাড়া এবার হয়ত রেটও বাড়াবেন দুর্নীতির বরপুত্র তারেক।

বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে কি না সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝপথে যদি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা বিএনপির জন্য হবে আত্মঘাতী। এমন সিদ্ধান্ত যে বিএনপি নেবে না, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, তারেক রহমান নির্বাচন থেকে যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার লোভ সম্বরন করতে পারবেন না। তাই বিএনপিতে তারেক-আতঙ্ক চলছে। আন্দোলন তীব্র হলেও ধান্দার ভাগ বাটোয়ারার সুযোগ তারেক মিস করবেন না, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তার লোভে যে তিনি বিএনপিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারেন, তার প্রমাণ তো দলের নেতাদের কাছেই আছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।