গণতন্ত্র মঞ্চের কুশীলব আ স ম রবের বৈজ্ঞানিক তন্ত্রমন্ত্রের ইতিহাস

0

সময় এখন:

ইভিএম বাতিলসহ নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ নামক অদ্ভূত যানের সওয়ারী হলেন জাসদ নেতা আ স ম রব। সারাবিশ্বে স্বীকৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতি। বিশেষ করে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং বুয়েটের প্রকৌশলীদের নির্মিত এই যন্ত্রটি; কারণ- এতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় বাইরে থেকে কারসাজি করা বা হ্যাকিংয়ের কোনো সুযোগ নাই এতে।

সহজে ভোট গ্রহণের সুবিধা, জাল ভোটের সুযোগ না থাকা এবং সর্বোপরি, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ২ মিনিটেই ফলাফল প্রিন্ট করে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে এই যন্ত্রে। তবুও কেন সেই প্রযুক্তি বাতিল করতে চায় গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা আ স ম রব? আসুন দেখা যাক।

বিএনপি-জামায়াত আমলে দৈনিক প্রথম আলো-তে বার্তা সংস্থা ইউএনবি’র বরাতে প্রকাশিত একটি খবরে দেখা যাচ্ছে, জাসদ সভাপতি আ স ম রব গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর হয়েছে। একইসাথে তাকে কুমিল্লায় কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, রামগতিতে নির্বাচন চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কনস্টেবলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং ব্যালট পেপার কারসাজির দায়ে আ স ম রবের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে।

নির্বাচনী সহিংসতা, ব্যালট পেপার নিয়ে কারসাজি করা, কেন্দ্র দখল করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরণের ভয়াবহ পরস্থিতি থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। ইভিএম ব্যবহার করায় নির্বাচনী সহিংসতা, প্রাণহানি এবং রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করে আয়োজিত নির্বাচন ভণ্ডুল করে অর্থের অপচয় ঘটানোর সকল অপতৎপরতা বন্ধে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার। কিন্তু এতে গাত্রদাহ হচ্ছে একটা গোষ্ঠীর।

জিয়ার হ্যাঁ/না প্রহসন, খালেদা জিয়ার দশ হুন্ডা, বিশ গুন্ডা, ভোট ঠান্ডা- এই নীতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার যে প্রক্রিয়া এবং তার ভয়াবহতা টের পেয়েছিল দেশের মানুষ। একইসাথে উপযুক্ত জবাবও দিয়েছিল জনগণ। ঢাকায় এবং মাগুরার স্মৃতি খালেদা জিয়া তথা বিএনপি নেতাদের মানসপটে এখনো তাজা থাকার কথা।

সেই বিএনপি কখনই চায় না, দেশে একটা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কারণ, তারা ভালো করেই জানেন, জনগণকে ভালো কিছু দেওয়ার মত যোগ্যতা তাদের নেই। তাই যে কোনোভাবে নির্বাচন ভণ্ডুল করা, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করাটাই তাদের লক্ষ্য।

সেজন্য জন্ম দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ নামের এক অদ্ভূত তন্ত্রমন্ত্রের খেলার। আর এখানে একই প্ল্যাটফরমে মেলা বসেছে কিছু ইউনিক চরিত্রের। যারা মূলত যাত্রাপালার সাইড ক্যারেক্টারের মত। মূল কুশীলবরা এখনো নেপথ্যে।

এই সাইড ক্যারেক্টারদের মধ্যে রয়েছেন- ফেসবুক পোস্টে লাইকসংখ্যাকে নিজের জনপ্রিয়তা ভেবে মেয়র পদে দাঁড়িয়ে জামানত খোয়ানো জোনায়েদ সাকি, রকেট-বিকাশ নির্ভর রাজনীতির প্রবক্তা কোটা নুরু এবং তার সাগরেদ- মার্কিন এজেন্ট রেজা কিবরিয়া, ঢাবিতে লাশ ফেলে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা ভাইবার মান্না, কেন্দ্র দখলকারী বৈজ্ঞানিক আ স ম রব প্রমুখ।

এই ধরণের রাজনৈতিক দর্শন (পড়ুন: অপদর্শন) এবং মনোভাব পোষণ করেন যারা, তারা কি কখনো রাষ্ট্রের কল্যাণ কামনা করতে পারে? বিবেককে জাগ্রত করুন। রাজনৈতিক পরগাছামুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে একাত্ম হউন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।