সাক্কুতে আত্মবিশ্বাসী ফখরুল নির্বাচনে যেতে এক পায়ে খাড়া: দলের পক্ষে হতে চান প্রধানমন্ত্রী

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সাথে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী সাক্কু। মাত্র ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র সাক্কু। ইভিএম-এর বিরোধিতা করলেও কুসিক নির্বাচনে সেই ইভিএম-এর নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইভিএম-এর ওপর আস্থা দেখা গেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মাঝেও। যদিও মুখে স্বীকার করছেন না তারা। নির্বাচনে পরাজিত হলেও সুষ্ঠু এবং অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখে উচ্ছ্বসিত কুমিল্লার নগরবাসী। আর এতে আশায় বুক বেঁধেছে বিএনপি।

যদিও বিএনপিকে এখন আর রাজনৈতিক সংগঠন বলতে নারাজ সাধারণ নেতা-কর্মীরাও। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রধান দুজনই রাজনীতিতে ‘আনফিট’।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়েরকৃত একাধিক মামলায় সাজা ভুগছেন। তার পুত্র মানুষ হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের নাগরিকত্বও। ফলে তার আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরা এবং দলের পক্ষে ক্ষমতা গ্রহণেরও কোনো সুযোগ নাই।

তাই সংগঠনের নেতৃত্ব জিয়া পরিবারের সদস্যদের হাতে নেই, বলাই বাহুল্য। আর এমন ‘সুযোগে’ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে প্রস্তুত দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা- রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই।

এই সুযোগসন্ধানী নেতাদের মধ্যে দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলে তার জনপ্রিয়তা মোটামুটি। মাঠ বা রাজপথের নেতা হিসেবে তেমন কদর না থাকলেও বক্তৃতা, বিবৃতি প্রদানের কারণে দলের মুখপাত্র তিনিই। বিএনপির নাম এলেই গণমাধ্যমে দেখা যায় তার চেহারা।

সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের অহেতুক সমালোচনা আর বিরোধিতার জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে তাকে রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হতে হয়। খুব হতাশ এবং হাহাকারমাখা চেহারা নিয়ে প্রতিদিনই তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে বক্তব্য দেন। কখনো হাস্যকর কখনো খালেদা-তারেক বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠেন।

রাজাকার তালিকার ৭১০নং-এ থাকা রুহুল আমিন চখার পুত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সুশীল সমাজের কাছে অত্যন্ত আদরণীয় হয়ে উঠেছেন বিগত বছরগুলোতে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তিনিই দলের সর্বেসর্বা।

লন্ডন থেকে আসা আদেশ পালন করে নিজের অপরিহার্যতা যেমন প্রমাণ করেছেন নেতা-কর্মীদের কাছে, তেমনি ধীরে ধীরে নিজের গদি সুসংহত করে তুলতে দলের ভেতরে নিজের আলাদা একটি ফোরামও তৈরি করেছেন বলে শোনা যায়।

অন্যদিকে দিনরাত এক করে খেটে যাওয়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদে, আমানউল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য নেতাদের তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও টিভি বা সংবাদপত্রের সামনে হাজির হন ফখরুলই। পদের সদ্ব্যবহার করছেন পুরোপুরি।

গণতান্ত্রিক চর্চা নেই সংগঠনে- এটা পুরনো খবর। কিন্তু খালেদা-তারেক এর অবর্তমানে অন্য নেতাদের সুযোগ দিতে চান না ফখরুল- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু তা-ই নয়, মামলা এবং সাজার কারণে দলের শীর্ষ দুই নেতা- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যেখানে চাচ্ছেন না বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক, সেখানে মির্জা ফখরুলের আগ্রহ ১৬ আনা।

কুসিক নির্বাচনে সাক্কুর বিপুল ভোট প্রাপ্তি আশা দেখাচ্ছে তাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বললেও ঠিকই অংশ নেন এবং আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাকে পরাজিত করে জয়ী হন নির্বাচনে। এবারও নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তিনি।

ক্ষমতার মোহ তার এতটাই বেড়েছে যে, আগে যেভাবে প্রতিদিন দুবার করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলতেন; এখন সরাসরি সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে বিএনপির হাতে তুলে দিয়ে সরে পড়ার আব্দার করতে শুরু করেছেন। বিএনপির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার অর্থ হলো সংগঠনের পক্ষ থেকে কাউকে না কাউকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

আর এজন্য ‘অটোমেটিক চয়েজ’ মির্জা ফখরুল- এটা বলাই বাহুল্য। দলের সর্বেসর্বা হয়ে বিএনপির প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন তিনি। তাই নির্বাচনের মাধ্যমেই হোক বা ক্ষমতা ছেড়ে বিএনপিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া কিংবা পেছনের রাস্তা দিয়ে- যে কোনোভাবেই ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেই তিনি হবেন প্রধানমন্ত্রী- এমন দিবাস্বপ্নে বুঁদ হয়ে আছেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইদানিং এমনই আলোচনা চলছে।

জিয়া পরিবার থেকে বিএনপিকে মুক্ত করতে চাচ্ছে বিএনপির একাংশ- এমন ফিসফাস শোনা যাচ্ছিল গত বছর থেকেই। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দলের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টার খবর। বিএনপির সংস্কারবাদী পক্ষ সংগঠনের স্বার্থেই জিয়া পরিবারকে দূরে রাখতে চান বলয় থেকে, তাই এই পক্ষটিকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন মির্জা ফখরুল- এমন দাবি বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী এবং বহিষ্কৃত সিনিয়র নেতাদের। তাদেরকে ব্যবহার করে সংগঠনকে নিজের পকেটে পুরতে পারলেই মির্জা ফখরুলের জন্য মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে।

আর কোনোভাবে যদি পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার বন্দোবস্ত করা যায়, তবে মির্জা ফখরুলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকে না। তাছাড়া নির্বাচনে গেলেও বিএনপির বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে প্রধানমন্ত্রীর গদি পর্যন্ত পৌঁছে দেবে- এমনটা বিশ্বাস করেন ফখরুল এখনও।

তবে রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা বলে কিছু নেই, তাই এই রাজাকারপুত্রের স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নিতে সক্ষম, তা সময়ই বলে দেবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।