সাংবাদিকতার নামে ডেইলিস্টারের ঘৃণ্য চক্রান্ত ও নোংরামির আরেক দৃষ্টান্ত

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

দেশের সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মমত্ববোধের ইতিহাস পুরনো। তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে ছিলেন একজন সাংবাদিক এবং পত্রিকার পৃষ্ঠপোষক। সেই হিসেবে শেখ হাসিনা সবসময় সংবাদকর্মীদের প্রতি উদার আচরণ করেছেন।

কিন্তু বছরের পর বছর তাঁর আস্থার ঘৃণ্য প্রতিদান চরমভাবে দিয়ে আসছে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি এবং বিদেশি প্রভুদের গোলামি করা প্রথম আলো ও ডেইলিস্টার পত্রিকা। দেশের শুভ প্রতিটি উদ্যোগে যাদের নোংরা মিথ্যাচারের কোনো সীমা-পরিসীমা নাই।

এমনকি পদ্মাসেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে সবচেয়ে বড় নিয়ামক ছিল ট্রান্সকম গ্রুপের এই পত্রিকা দুটি। ওয়ান-ইলেভেনের কুখ্যাত মাইনাস ফর্মূলার উদ্ভাবকও ছিল এই দুটি পত্রিকার সম্পাদক- মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনাম। যাদের অপতৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত কঠোর হতে বাধ্য হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তাঁর নির্দেশে গণভবনে এই দুটি পত্রিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

তবুও থেমে নেই পত্রিকাগুলো চক্রান্ত। নিয়মিত অপসাংবাদিকতা করে যাচ্ছে এই হাউজের সংবাদকর্মীরা। তথ্য বিকৃতি ঘটানো, সামঞ্জস্যহীন সংবাদ শিরোনাম, ম্যানিপুলেশন, প্রকাশিত সংবাদ দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অগোচরে লিংক সরিয়ে নেওয়া, বিকৃত শিরোনাম করার পর লিংকের ভেতরে তা বদলে দেওয়া, ফটোশপকৃত ছবি- এমন নানান ঘটনা তাদের ‘বদলে দাও, বদলে যাও’ নীতির বহিঃপ্রকাশ।

শুধু এই দুটি পত্রিকাই নয়, একই হাউজের অন্তর্গত স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজ- ইয়ারকিও এই কাজটি করে যাচ্ছে সুকৌশলে।

গতকাল ২১শে মে তারিখে ‘মন্ত্রীর ফটোসেশন শেষে ফিরিয়ে নিলো ত্রাণ, খালি হাতে ফিরলেন মাহফুজ’- এমন চটকদার শিরোনামে ডেইলিস্টার একটি সংবাদ পরিবেশন করে। যাতে দাবি করা হয়- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বন্যা দুর্গত মাহফুজ মিয়ার হাতে ত্রাণ হস্তান্তরের ছবি তোলেন, তবে ফটোসেশন শেষে কর্মসূচির আয়োজকরা তার কাছ থেকে ত্রাণ কেড়ে নেন।

এমন ইচ্ছেকৃতভাবে তৈরি ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও নোংরা সংবাদটির স্ক্রিনশট দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যুৎগতিতে। দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং সরকারকে নিয়ে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুনামহানি হয়। সংবাদমাধ্যমের ওপর আস্থাশীল সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এমন সংবাদে।

সংবাদটি আলোড়ন সৃষ্টির পড়ার পর স্থানীয়দের কাছে খবর নিয়ে জানা যায়, পুরো সংবাদটি ভিত্তিহীন এবং মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। ত্রাণ ফিরিয়ে নেওয়ার এমন কোনো ঘটনা ঘটেইনি। এমনকি ছাপা হওয়া ব্যক্তির ছবি দেখে কেউ তাকে চেনেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

দেশের প্রতিষ্ঠিত (মান যা-ই হোক) একটি পত্রিকার এহেন মিথ্যাচারের খবর জানাজানি হলে ‘তওবা’ করতে বাধ্য হন ডেইলিস্টার কর্তৃপক্ষ।

সদ্যপ্রয়াত সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী তাঁর একটি কলামে (জনকণ্ঠে প্রকাশিত) বেশ কয়েক বছর আগে লিখেছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে নিয়ে। তিনি সেখানে মতিউর রহমানকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘তওবা সম্পাদক’ বলে।

কারণ গুজব এবং মিথ্যাচার ছাপানোর পর পরিস্থিতি জটিল করে তুলে স্বার্থসিদ্ধির পর প্রতিবাদের মুখে ভেতরের পাতায় কোনো এক চিপায় অতি ক্ষুদ্র ফন্টে ‘আমরা ক্ষমাপ্রার্থী’ লিখে দায় সারেন মতি। তার এমন কর্মকাণ্ড নিয়মিতই ঘটে। সেজন্য আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী এমন খেতাব দিয়েছিলেন মতিকে।

ঠিক একই কাজ করেন ডেইলিস্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামও। ‘সাহসিকতা, সততা ও সাংবাদিকতা’ সাইনবোর্ডে টাঙানো এই পত্রিকাটিতে একজন মন্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যাচার করার পর আজ ৩ লাইনের গুরুত্বহীন একটি ক্ষমাসূচক বার্তা ছাপা হয়। তাতে বলা হয়- ‘অভিযোগকারীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে খবর প্রকাশের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী এবং আমাদের দায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কিন্তু কী ব্যবস্থা নেবেন তারা, যে জনপ্রতিনিধির সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে এমন সংবাদের কারণে, সংবাদকর্মীকে একটা শোকজ নোটিস দিলে কি তা পূরণ হবে? একজন সংবাদকর্মীর প্রতিবেদন ছাপানোর আগে যে বিভাগীয় সম্পাদক বা বার্তা প্রধানের টেবিল ডিঙিয়ে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? একটি বড় পত্রিকার সম্পাদকেরও কি কোনো দায় নেই? বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কি কোনো বক্তব্য দেবেন?

মাত্র কয়েকদিন আগেই বাগেরহাটের ৫ বছরের শিশু আরিয়ানকে নিয়ে এক মিথ্যাচার চালিয়েছিল প্রথম আলো। সেখানে শিশু আরিয়ান মায়ের জন্য শাক কুড়াতে যায় বলে স্কুলে যেতে পারে না- শীর্ষক ফটো স্টোরি করা হয়েছিল। পরবর্তীদের দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, পুরোটাই ভুয়া। সেই ঘটনার পর কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।

তাই সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে রইল প্রশ্ন- বাংলাদেশে সংবাদসন্ত্রাস কবে বন্ধ হবে?

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।