দেশে এক বছরে ধর্ষণের শিকার হাজারেরও বেশি কন্যাশিশু

0

সময় এখন:

২০২১ সালে বাংলাদেশে অন্তত ১ হাজার ১১৭ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে ২৭২ জনকে। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম নামে একটি সংগঠনের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে কন্যাশিশুদের ওপর একের পর এক নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমগুলোতে। প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যার শিকার হচ্ছে তারা। বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিবাহের ঘটনাও। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সব তথ্য নিয়ে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে আসছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।

সংগঠনটির হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে কন্যাশিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা ছিল ১১৬টি। এর মধ্যে ৮৮টি শিশু যৌন নিপীড়ন ভোগ করেছে। ২৮টি কন্যাশিশু প-গ্রাফির শিকার হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্রটি উঠে এসেছে ধর্ষণের পরিসংখ্যানে। গত বছর সারাদেশে ১ হাজার ১১৭ কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। যার অন্তত ১০০ শিশু ছিল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। মসজিদ, মাদ্রাসাতেও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ জন।

১৫৫টি শিশু দলগত ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের কারণে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। ধর্ষণের পর ৪৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৪টি শিশু নিজেরাই আ’ত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

২৭২ কন্যাশিশুকে গত বছর হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭ জনকে পূর্ব শত্রুতার কারণে, ১৩৪ জন পারিবারিক বিরোধে, ৪৫ জন ধর্ষণের পর, ২৭ জনকে প্রেমের কারণে, ৯ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়।

৮টি শিশু অপহৃত, ৫টি গৃহকর্মকালে হত্যার শিকার হয়েছে। এছাড়া নির্যাতন, নিপীড়ন, সম্পর্কের টানাপোড়নসহ বিভিন্ন কারণে ২০২১ সালে ২৪২টি শিশু আ’ত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

গত বছর গৃহকর্মে নিযুক্ত ৩৫ কন্যাশিশু নির্যাতন ভোগ করেছে। যাদের মধ্যে ৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাস্তির নামে নির্যাতন কিংবা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে আরও ৮ শিশু।

বন্ধ হয়নি মেয়েদের ওপর এসিড সন্ত্রাসও। ২০২১ সালে ১০ কন্যাশিশুর শরীরে এসিড ছোঁড়া হয়েছে।

২০২১ সালে ১৯৭ জন মেয়ে শিশুকে অপহরণ ও ৯ শিশুকে পাচার করা হয়েছে। অপহরণের পর ১০৬ জনকে উদ্ধার করা গেছে। পাচার হওয়া ৯ জনের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৩ জন।

কন্যাশিশুরা গৃহেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে স্বামীর নির্যাতনের শিকার ৬ জন, ১৮ জন নিজ বাড়িতে, ৬ জন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে নির্যাতন ভোগ করেছে। ৪৭টি ইভ টিজিংয়ের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সংগঠনটি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্তত ১৩ কন্যাশিশুকে বাল্যবিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৮৭ শিশুকে বিয়ে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদপত্রে উঠে আসা খবর থেকে কন্যাশিশুর প্রতি অবহেলাজনিত ৩৫টি ঘটনা তালিকাভুক্ত করেছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। ৩৩টি ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকে তারা পরিত্যক্ত হয়েছে, দুটি ক্ষেত্রে শিশুদের বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।