হঠাৎ নির্বাচনের আগে অশান্ত আন্ডারওয়ার্ল্ড!

0

সময় এখন:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খুব বেশি সময় নেই। অসম্পন্ন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার পেছনে ছুটছে সরকারী দল, টার্গেট পূরণে ব্যস্ত প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি নানাবিধ চাপ তৈরি হচ্ছে সরকারের ওপর। করোনা মহামারি আপাতত সামাল দেওয়া গেলেও গোদের ওর বিষফোঁড়ার মত চ্যালেঞ্জ হলো দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর অব্যাহত তৎপরতা তো আছেই।

এরই মধ্যে রাজধানীতে আবারও বেড়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে এই সমস্ত সন্ত্রাসীরা যুক্ত নয়। সময়ের সাথে সাথে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরাই হয়ে ওঠেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদার।

এদের অনুসারীরাই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে রাজধানীসহ সারা দেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। কেউ বিদেশে বসে আবার কেউ জেলখানায় বসে নিয়ন্ত্রণ করছে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ।

মাঝে এই সন্ত্রাসীদের তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করেছিলো সরকার। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশেই এইসব শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সেই সাথে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও লাগাম টেনে ধরা হয়। তবে সম্প্রতি এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে প্রকাশ্যেই। সেই সাথে প্রতিপক্ষসহ জনসাধারণের মনেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো পক্ষ দেশটা অশান্ত করতে চাইছে কি না- জনমনে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু কি আধিপত্য বিস্তার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণের শিকার? এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে জনমনে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪শে মার্চ) রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে প্রকাশ্যে এলোপাথাড়ি গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। সেই গুলিতে নিহত হন সরকারি বদরুন্নেসা কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী সামিয়া আফরান প্রীতিও। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে টেন্ডার, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এমনকি পুরনো দ্বন্দ্বকে সামনে রেখে মাঠে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থা।

তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারিগর বা নির্দেশদাতা হিসেবে নাম উঠে আসছে আত্মগোপনে থাকা আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টিপু হত্যাকাণ্ডের পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাত থাকতে পারে। কারণ স্বার্থে আঘাত লাগলেই তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রথম তালিকায় ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই দেশের বাইরে পলাতক। তাদের নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে।

বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশে পলাতক জীবনযাপন করছে। কেউ রয়েছে কারাগারে। তবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অনেকটা আড়ালে থেকে তারা রাজধানীর নিজস্ব জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার তাদের অজ্ঞাতসারে অন্য কয়েকটি পক্ষ তাদের নাম ব্যবহার করে, সেই আতঙ্ক কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছে নতুন অপরাধচক্র।

এদিকে, রোববার সকালে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ছুরিকাঘাতে দন্ত চিকিৎসক ডা. আহমেদ মাহী বুলবুল নিহত হয়েছেন। বুলবুল চিকিৎসার পাশাপাশি একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী। প্রথমদিকে ছিনতাইকারীদের কাজ মনে হলেও তদন্তে নেমে পুলিশ দেখতে পায় বুলবুলের পকেটে থাকা টাকা এবং মোবাইল ফোন খোয়া যায়নি। তাই ধারণাটা বাতিল হয়ে যায়।

তবে এখন মনে করা হচ্ছে ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সক্রিয় খুনিদের কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ- এমন ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কয়েকটি চক্র রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও ও যাত্রাবাড়ী এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণে এখনও সক্রিয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান। ২০০৩ সালে মালিবাগের একটি হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই সদস্যকে হত্যা করে জিসান বাহিনী। তারপর দুবাইয়ে আত্মগোপনে যায় জিসান।

আর তার সহযোগী জাফর আহমেদ ওরফে ফ্রিডম মানিক ভারতে পলাতক। টিপু হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত মাসুমকে ভারতে পালানোর আগ মুহূর্তে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কাট-আউট সিস্টেমে তাকে তৃতীয় বা চতুর্থ পক্ষের মাধ্যমে রিক্রুট করা হয়। কে বা কারা কাজের জন্য অর্থ খরচ করছে, তার কোনো ক্লু না থাকা এই পদ্ধতি হলো কাট-আউট সিস্টেম।

২০১৩ সালের ২৯শে জুলাই রাতে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর থমথমে ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড। দীর্ঘসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা শান্ত থাকলেও এখন টিপু-প্রীতি হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা দেশের বাইরে ও জেলে থেকেই ওই পরিচালনা করেন শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী। তাই সব মিলিয়ে এখন আবার প্রশ্ন উঠেছে যে, অশান্ত হয়ে উঠছে আন্ডারওয়ার্ল্ড?

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।