পদ্মা সেতু দেখে উচ্ছ্বসিত ৪২টি দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত

0

কূটনৈতিক ডেস্ক:

কল্পনার জগৎটাকে আপনি যদি এভাবে সাজান, ছুটিতে ঘুরতে বেরিয়ে পড়লেন ঢাকার বাইরে। গাড়িতে চেপে বসলেন। ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টায় পৌঁছে গেলেন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে কিংবা ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে। এ সময়ে পড়বে না কোন যানজট, থাকবে না ফেরি পারাপারের অনিশ্চয়তা।

না, এটি স্বপ্ন নয়, রূপ পেতে যাচ্ছে বাস্তবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খা পূরণ হতে যাচ্ছে।

বিশ্ববাসীর কাছেও ‘যুগান্তকারী অর্জন’ হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণে। এবার তারই প্রতিফলন দেখা গেল। ঢাকায় অবস্থানরত ৪২টি দেশের ৪৫ জন রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিক পদ্মা সেতু দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। সেতুর ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন টুইটারের পোস্টে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান পরিদর্শন করা সত্যিই আনন্দের ব্যাপার। নবনির্মিত পদ্মা সেতু দেখেছি, যা চলতি বছরেই উন্মুক্ত হবে।”

পদ্মা সেতুর ছবি শেয়ার করে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি লিখেছেন, “টেকসই উন্নয়নের জন্য পদ্মাসেতু যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”

কসোভোর রাষ্ট্রদূত গুনার লিখেছেন, “পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ। ভীষণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে এ কাজটি করতে হয়েছে। অভিনন্দন বাংলাদেশ।”

বৃহস্পতিবার টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার পথে পদ্মাসেতু পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুঙ্গিপাড়ার ছবিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং পরিদর্শন বইতে সই করেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সমাপনী উপলক্ষ্যে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা টুঙ্গিপাড়া গেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ফেরি পার হওয়ার সময় পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। এছাড়াও, পুরো সফরকালে প্রতিমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে থেকে টুঙ্গিপাড়া ঘুরে দেখেছেন। বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়ায় বর্তমানে একটি মেলা চলছে। সেই মেলাতেও কূটনীতিকরা গিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, ১৭ই মার্চ কিংবা ২৬শে মার্চ জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে ঠাসা থাকে। ওই সময়ে কূটনীতিকদের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই এই সময়ে তাদের দেখানোর জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাত্রাপথে তাদের পদ্মা সেতু দেখানো হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা নিবেদনের পর হেলিকপ্টারে কূটনীতিকরা ঢাকায় ফিরেছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার জানিয়ে বলেছেন, নৌ, স্থল এবং আকাশপথে সারা দেশের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বরিশালের দূরত্ব কমবে, বাণিজ্যিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।

সেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের ফসল। ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে দেখা যায়, সেখানে বারবার বাংলাদেশের বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং যমুনার ওপর সেতুর দাবি করেছেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সেতুর সমীক্ষা শুরু হয়। নির্মিতও হয় যমুনা সেতু। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থারও অমূল পরিবর্তন ঘটেছে।

পদ্মা সেতু প্রকৌশল জগতে প্রায় অসম্ভব একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গার পানি আরিচায় মিলিত হয়। এই সম্মিলিত পানি মাওয়া দিয়ে যায়। নদীটা সেখানে অদ্ভুতভাবে আচরণ করে। ব্রহ্মপুত্র সিরাজগঞ্জের কাছে ১২-১৪ কিলোমিটার চওড়া। রাজশাহীতে গঙ্গার প্রশস্ততা ছয় কিলোমিটার।

যে পানি প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ততা পার হচ্ছে, সেটা মাওয়ায় ৬ কিলোমিটার প্রশস্ত নদী দিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এ ছাড়া এই নদীতে প্রচুর পলি আছে। তা সেখানে জমে যায়। যে কারণে যেখানে পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে নদী ৩ কি.মি.-এর বেশি চওড়া নয়।

চলতি বছরের জুনে চালু হবে পদ্মা সেতু। স্বপ্নের এই সেতু চালু হলে এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার। তাই বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলও হবে কয়েক গুণ বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতু চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। নতুন নতুন শিল্পকারখানা হবে। দিন শেষে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার ওপরে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।