মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার কিছু ঘাপলা, যা সফল হলে পাকিস্থানের পক্ষে যেত ফলাফল

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

তরুণ প্রজন্মের কাছে জিয়াউর রহমান এক জটিল চরিত্র। বিএনপির নেতাদের ইতিহাস বহির্ভূত বয়ানের কারণে জিয়া হয়ে উঠেছে ফিকশনাল ক্যারেক্টার, হলিউডি সিনেমার সুপারহিরো। তবে ইতিহাসের পাঠ এবং সুলুক-সন্ধান করা তরুণ প্রজন্মের কাছে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার দায় রয়েছে। তাদেরকে জানতে হবে ‘একাত্তরের র‌্যাম্বো’ উপাধিপ্রাপ্ত জিয়াউর রহমান আসলেই কী করেছিলেন একাত্তরে, মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান কী, পাকিস্থানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা- আইএসআই’র প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল উসমান মিঠ্ঠার ব্রেনচাইল্ড জিয়াউর রহমান কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন?

মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার স্মরণীয় কিছু কৃতকর্ম আছে যা চাইলেও অস্বীকার করা যায় না- ১) জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের একজন অন্যতম পাঠক ছিলেন। ২) জিয়া সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। ৩) জিয়া বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রের একজন অন্যতম পাঠক ছিলেন, তবে আরও নয়জন মানুষ তার আগেই একই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বলে জানা যায়। স্বাধীন বাংলা বেতারের প্রতিষ্ঠাতা, সেই কেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি যিনি পাঠ করেছিলেন সেই বেলাল মোহাম্মদ কিংবা চট্টগ্রামে হ্যান্ডবিল বিলি করা সেই এম এ হান্নানের ওপর জিয়াকে স্থান দেওয়া অবান্তর।

জিয়া ৩ মাস একটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, পরবর্তীতে নিজের নামের সেক্টর খুলে গিয়ে বিতর্কে জড়ান। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টর ছিলো বলে জানা যায়। বাকি ১০ জন সেক্টর কমান্ডার এবং তাদের সেক্টরের পরবর্তী কমান্ডারগণ, আর যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানী, এদের ওপরেও জিয়াকে স্থান দেওয়া যায় না। জিয়াকে তাদের চেয়েও বড় বীর বলা যায় না।

জিয়া বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরউত্তম খেতাব দেওয়া হয় বলে জানা যায়। বাকি ৬৮ জন বীরউত্তম, ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ তাদের ভেতর রয়েছেন মতিউর রহমান কিংবা মুন্সি আব্দুর রউফ। ওনাদের ওপরেও জিয়াকে স্থান দেওয়া যায় না।

জিয়ার আজকের তরুণ সৈনিকেরা- শুধু রে বানের চকচকে দামি সানগ্লাস, নতুন কুঁড়ি আর খালকাটার দৃশ্য দেখে যারা আজ জিয়ার সৈনিক হয়েছো, তাদের উদ্দেশ্যে- জিয়ার সৈনিক তোমরা হতেই পারো কারো এতে আপত্তি করার কিছু নেই। এই দেশে গোলাম আযমেরও সৈনিক আছে কোটির ওপরে, তাই জিয়ারও সৈনিক থাকতে পারে। কিন্তু ওই মুখে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক বোলো না; শহিদরা কষ্ট পাবে। সেই মুখে রাজাকারের বিচার চেয়ো না, শহিদ বুদ্ধিজীবীরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। যদি একান্তই এসব চাও, তবে আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেও-

বুদ্ধিজীবী কিলিং স্কোয়াড আলবদর-ছাত্রসংঘের নেতা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী শাহ্‌ আজিজুর রহমানকে ১৯৭৯ সালে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন কে? স্বাধীনতার মাত্র ৭ বছরের মাথায় একজন স্বাধীনতাবিরোধী দেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে কে? গণহত্যার মাস্টার মাইন্ড গোলাম আযম স্থাধীনতার পরও বছরের পর বছর বিদেশে বিদেশে তদবির করেছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্থানের কনফেডারেশন গঠনের জন্য, সেই গোলাম আযমকে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন কে? ৭২-এর সূচনালগ্নেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী সকল সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, নিষিদ্ধ ছিল জামায়াত-ছাত্রসংঘ। কার আমলে, কে আইন করে জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলো?

যেই লোক শাহ্‌ আজিজের মত নিকৃষ্ট কীটকে প্রধানমন্ত্রী বানায়, যেই লোক গোলাম আযমকে হাতে ধরে দেশে ফিরিয়ে আনে, যেই লোক নিষিদ্ধ জামায়াতকে দেশে পুনঃগ্রতিষ্ঠা করে, তাকে কীভাবে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ বলো তোমরা?

আসুন একটু বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে দেখা যাক:

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জিয়া বেশ কয়েকটি ঝামেলা পাকান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে “সামরিক পরিষদ” গঠনের প্রস্তাব করলে ক্ষুব্ধ ওসমানী পদত্যাগের উদ্যোগ নেন, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের মধ্যস্থতায় নিষ্পন্তি হয়। একপর্যায়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জিয়া নিজের নামে ❛জেড ফোর্স❜ গঠন করলে মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্বের সূচনা হয়। পরে ❛কে ফোর্স❜ এবং ❛এস ফোর্স❜ গঠনের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হয়। মইদুল হাসানের মূলধারা❜৭১ (১৯৯৪) এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর (২০০৯) বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সহ-অধিনায়ক এ কে খন্দকারের ভাষ্যে সে সময়ের অনুপুজ্খ বিবরণ আছে। বিডিনিউজ ব্লগের সিটিজেন লেখক হাসিবুল হক (যহরত) এর লেখায় এমন অনেক কিছুই উঠে এসেছে।

যেমন- ১৯৮৭ সালে প্রদত্ত এক সাক্ষাতকারে মেজর জেনারেল (অব) কে এম শফিউল্লাহ্ ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের ওসমানীবিরোধী তৎপরতার কথা প্রকাশ করেন। জেনারেল শফিউল্লাহ্ বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়া একসময় (জেনারেল) ওসমানীকে কমান্ডিং চিফ (পদ) থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করেন। এ ব্যাপারে তিনি আমাকে বলেন, (জেনারেল) ওসমানী পুরাতন (বৃদ্ধ) হয়ে গেছেন। সুতরাং ইয়ংদের (যুবকদের) মাঝ থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমি এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ করি এবং এ ব্যাপারে আমার সাথে তাকে আর কোনো কথা না বলার জন্য বলি।” (সূত্র: মহিবুল ইজদানি খান কর্তৃক গৃহীত সাক্ষাৎকার, সাপ্তাহিক ❛জনমত❜, লন্ডন, ২৮শে আগস্ট, ৩রা সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭)

১৯৮৯ সালের জুন মাসে সাপ্তাহিক ❛হলিডে❜ পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে লে. কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর মঞ্জুর মিলে জেনারেল ওসমানীকে তাঁর পদ ও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। জিয়া ও মঞ্জুর চেয়েছিল জেনারেল ওসমানীকে পদত্যাগ করতে বলবেন জিয়াউদ্দিন। কিন্তু জিয়াউদ্দিন তা করেনি। তার অস্বীকৃতির ফলে জেনারেল ওসমানীকে সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি বেশী দূর গড়ায়নি।” (সূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়- আবদুল মতিন, পৃষ্ঠা-৯৮, প্রথম সংস্করণ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩)

১৯৭১ সালের জুন মাসের কথা। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ মুজিবনগরে সেক্টর কমান্ডারদের বৈঠক আহ্বান করলেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে মেজর জিয়াউর রহমান বললেন, যেহেতু রণক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী লড়াই করছে, সেহেতু নীতি-নির্ধারণের লক্ষ্যে সামরিক কমান্ডারদের নিয়ে একটা ❛ওয়ার কাউন্সিল❜ অর্থাৎ ❛সামরিক কমান্ড কাউন্সিল❜ গঠন করা উচিৎ। সত্তরের নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদেরকে নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়া সত্ত্বেও বিকল্প হিসেবে ❛ওয়ার কাউন্সিল❜ গঠনের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী হতবাক হলেন। তাঁর ভ্রুযুগল কুঁচকে উঠল এবং অভ্যাসবশত অবিরাম নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি খুঁটতে লাগলেন। (সূত্র: বঙ্গবন্ধু- এম. আর.আখতার মুকুল, পৃষ্ঠা-১৬৬)

“এক কথায় মেজর জিয়াউর রহমানের প্রস্তাব হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক দায়িত্ব এবং নীতি নির্ধারণ সব কিছুই নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরিবর্তে সামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক। ২৭শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে একবার নিজেকে ❛প্রেসিডেন্ট❜ ঘোষণা করার পর আবার ❛ওয়ার কাউন্সিল❜ গঠন করার প্রস্তাব উত্থাপন করায়, উপস্হিত অনেকেই স্তম্ভিত হলেন।” (সূত্র: সেদিন ভিতরে-বাইরে ষড়যন্ত্র : কিছু কথা বলতেই হচ্ছে- এম.আর.আখতার মুকুল, দৈনিক সংবাদ, ঢাকা, ১৭ই এপ্রিল, ১৯৯২)

“১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকায় প্রদত্ত এক সাক্ষাতকারে নুরুল ইসলাম ভান্ডারি বলেন, আগরতলা সেক্টরের দু❜টি যুব ক্যাম্পে বক্তৃতাদানকালে মেজর জিয়া বলেন, “বাংলাদেশ সরকার কিছুই করছে না। যুদ্ধ আমরাই করছি।” এর প্রেক্ষিতে তিনি মুজিবনগর সরকারের পক্ষ থেকে জিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে গোপনে ❛ইনকোয়ারি❜ পরিচালনা করেন। ওসমানী সাহেব একথা শুনে চটে গিয়ে মেজর জিয়াকে ❛শুট ডাউন❜ (গুলি) করার কথা বলেন। (সূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব- আবদুল মতিন, পৃষ্ঠা- ৯৯-১০০)

সোজা বাংলায় যদি দেখা যায় তাহলে বলতে পারি চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের নায়ক ছিলেন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম। আজ বিএনপি নেতারা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য জিয়াকে যে অবদান দেন, তার পুরোটার সত্যিকার ভাগিদার ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম। এই রফিকুল ইসলামই ২২শে মার্চ থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিদ্রোহের। ইপিআর এর প্রায় ১৫০০ বাঙালি সৈন্য নিয়ে বারবার জিয়ার কাছে গিয়ে বলেছেন বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিতে। বারবার বাঙালি অফিসারদের বলেছেন- ওরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।

২৪শে মার্চ তারিখে (২৫শে মার্চের গণহত্যার আগের দিন) ইপিআর-এর সেনাদের রেডিওতে বিদ্রোহের সিগন্যাল দেন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম। কারণ তিনি আঁচ করতে পারছিলেন পাকিস্থানি হামলার। তার ম্যাসেজের খবর পেয়ে একজন বাঙালী কর্নেল এম আর চৌধুরী এবং একজন বাঙালী ❛মেজর জিয়াউর রহমান❜ তাকে বোঝাতে রেজিমেন্টে ছুটে আসেন, বারবার বিদ্রোহের বার্তা ফিরিয়ে নিতে বলেন। বারবার বলেন- শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে আমরা পাকিস্থানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে পারি না। সব ঠিক হয়ে যাবে। যদি তুমি বিদ্রোহে অকৃতকার্য হও তাহলে এর ফলাফল ভোগ করতে হবে আমাদের, সমস্ত বাঙালী অফিসারদের।

সেদিন খুব অস্বস্তি নিয়ে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম তার সিনিয়র বাঙালী অফিসারদের বলেছিলেন- স্যার আপনারা কেন বুঝতে পারছেন না। কেন তারা জেটিতে বাঙালীদের নির্বিচারে হত্যা করছে? কেন প্রতিদিন এত অস্ত্র আসছে? শত্রু কোথায়? কেন সোয়াত থেকে অস্ত্র নামাতেই হবে? এই শত্রু কি আমরা নই? আপনারা কি মনে করেন পশ্চিম পাকিস্থান থেকে বিমানে করে তারা অন্য কিছু না এনে মাল্টা আর কমলা আনছে?

সেদিন সিনিয়র অফিসারদের জীবনের কথা ভেবে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম তার দুটি রেডিও বার্তার একটি প্রত্যাহার করে নেন। অর্থাৎ প্রথম আক্রমণটা বাঙালীদের মাধ্যমে হচ্ছে না কিন্তু দ্বিতীয় বার্তা অনুসারে ওরা আক্রমণের সাথে সাথেই শুরু হবে সংগ্রাম। আর নিয়তির কী বিধান! যে বাঙালী কর্নেল এম আর চৌধুরী এই অকুতোভয় ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম-কে প্রতিহত করলেন ২৪ তারিখে বিদ্রোহ করতে, সেই বাঙালী কর্নেল এম আর চৌধুরীকেই ২৫শে মার্চেই ২০ বালুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা গ্রেপ্তার করে এবং হত্যা করে।

ঠিক সেই সময়ে অর্থাৎ ২৫শে মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় বীর সেনানী তৎকালীন মেজর আর পরবর্তী জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়ার নির্দেশে নৌবাহিনীর একটা জীপ গাড়িতে করে বন্দরে সোয়াত জাহাজের দিকে যাচ্ছেন অস্ত্র খালাস তদারকি করতে। ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম সেদিন থেকেই কার্যত সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছেন। তার ❛লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে❜ বইয়ের ৮৩ পৃষ্ঠার শেষ প্যারার পঞ্চম লাইন থেকে ৮৪ পৃষ্ঠার ২য় প্যারার শেষ লাইন পর্যন্ত এমন এক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যেই ঘটনা ঘটলে জিয়ার ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। সেখান থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি-

❛ঠিক এই সময় নৌ-বাহিনীর একটি গাড়ি আগ্রাবাদের দিকে এগিয়ে এলো, আমার মর্টার জিওসি জানালো– কিছু নৌ সৈনিক গাড়িতে আছে; দেবো না কি শেষ করে। আমি বললাম (ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম)- এখনি না, এটা সম্ভবত পর্যবেক্ষণ গাড়ি, রাস্তা দেখে ফিরে গেলে আরও বেশি সৈন্য আসবে। সেটাই আমাদের টার্গেট হওয়া উচিত। পরবর্তীতে জানতে পারলাম সেই গাড়িতে ছিলেন মেজর জিয়া। আমি ধৈর্য না ধরলে সেই গাড়িটি মর্টারের গোলায় উড়ে যেতো। আরও বড় শিকারের অপেক্ষায় ছিলাম দেখেই সেদিন তারা বেঁচে গিয়েছিলেন।❜

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বারবার স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার জন্য খোঁজা হচ্ছিল ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামকে। এই দেশপ্রেমিক সেনা তখন নিজের বাঙ্কার আর চট্টগ্রাম শহরকে অরক্ষিত রেখে কালুরঘাট আসতে অস্বীকৃতি জানান। তারপর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খোঁজ পায় একজন মেজরের, যিনি শহরে প্রতিরোধ না গড়ে তার ১৫০ জন সৈন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন রামগড়ের পথে। তারপর তো ইতিহাস।

কিন্তু জনগণ সেই ইতিহাস জানে না- যে, এই ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামই ১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পাকিস্থানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়ার ‘গুলি না চালানো’ বীরত্বের ইতিহাসের সাক্ষী চট্টগ্রামের অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। যাদের সবাই জিয়ার সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন- তাদের লেখা কিছু বইয়ের নাম উল্লেখ করা যায়-

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে- ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম, যুদ্ধের ময়দান থেকে মেজর জিয়ার পলায়ন- সিরু বাঙালী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- বেলাল মোহাম্মদ, একাত্তরের রণাঙ্গন- শামসুল হুদা চৌধুরী, জীবনের শেষ নেই- কর্নেল অলি আহমেদ।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।