নাজনীন জাঘারির মুক্তিতে টিউলিপের কূটনৈতিক সাফল্য এবং বার্গম্যানের গাত্রদাহ

0

কূটনৈতিক ডেস্ক:

ইরানের কারাগার থেকে ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক নাজানীন জাঘারি র‍্যাটক্লিফের ৬ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তিলাভে কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিকের প্রশংসায় বিশ্বমিডিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে টিউলিপ সিদ্দিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নাজনীন নিজেও।

অথচ বঙ্গবন্ধুর নাতনীর এমন প্রশংসনীয় অবদান গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের দোসরদের। তাদের বিদেশি পেইড এজেন্ট কথিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে দলটি।

উল্লেখ্য, থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের একটি প্রকল্পের ম্যানেজার নাজনীন জাঘারি র‍্যাটক্লিফকে ২০১৬ সালের এপ্রিলে তেহরান বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। পরে তার বিরুদ্ধে ইরান সরকারকে উৎখাতের চক্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়।

দেশটির এক আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। বন্দিজীবন শেষে গত বুধবার (১৬ই মার্চ) তেহরান থেকে লন্ডনে ফেরেন ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক নাজনীন জাঘারি র‍্যাটক্লিফ।

স্থানীয় সময় সোমবার (২১শে মার্চ) প্রথমবারের মতো এ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ওয়েস্টমিনস্টারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নাজনীনের সঙ্গে ছিলেন তার এলাকার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

এ সময় নাজনীনের মুক্তিতে কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাজনীন জানান, তার মুক্তির দাবিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারাই সোচ্চার হয়েছিলেন, তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ তিনি।

জাতির জনকের নাতনী টিউলিপের এই সফলতার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে গুজবসেল-এর পেইড পোর্টাল সাউথ এশিয়া জার্নালে কলাম লিখেছেন ড. কামালের জামাতা- যুদ্ধাপরাধীদের লবিস্ট ডেভিড বার্গম্যান।

প্রসঙ্গত, টিউলিপ বাংলাদেশের রাজনীতি করেন না, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অহেতুক তাকে জড়িয়ে প্রতিবেদন করার উদ্দেশ্য হলো ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা। এটা তার ব্যক্তিগত ক্রোধ এবং আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেই কলামের বিষয়বস্তুর সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকের কোনো সম্পর্কই নেই। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধেও মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তথ্য-সন্ত্রাস ও মিথ্যাচার করেছে এই ডেভিড কুলাঙ্গার বার্গম্যান।

আর এ বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ড. কামালের জামাতা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাংবাদিকতা করেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাই যার মূল লক্ষ্য।

১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ তালিকাভুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে রাজাকারদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও গুজব চালাতে শুরু করেন বার্গম্যান।

মূলত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের বাঁচানোর জন্য টাকার বিনিময়ে তিনি এই কাজ করেছেন। এখনও করে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের দুটো পত্রিকায় কাজ করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন। কিন্তু অনৈতিকতা, অসততা, সাংবাদিকতার নীতিমালা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কারণে বহিষ্কৃত হন।

তারও আগে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর দায়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হন। সেবার ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপে বিস্তর জলঘোলা করার পর কারাবরণ এড়ান এবং নিজ দেশে ফিরে যান এই হলুদ সাংবাদিক।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ড. কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের নেতিবাচক অংশগ্রহণ সর্বজনবিদিত। সেই পরিবারের একজন হয়ে ডেভিড বার্গম্যান বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতা শুরু করেন অনেকদিন ধরেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালে আদালত অবমাননার দায়ে তাকে জরিমানা করা হয়। একইসাথে আদালতের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন বিচারক।

বাংলাদেশে তাকে যে পরিমাণ অপমানিত এবং অপদস্থ হতে হয়েছে, মূলত এসব কারণেই তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেয়ে- না খেয়ে লেগে আছেন। যে কোনো ছুতায় তিনি বাংলাদেশ নিয়ে অপপ্রচার চালান। সুইডেন নিবাসী গুজব-সেল এর গণমাধ্যম শাখার প্রধান তাসনিম খলিল সম্পাদিত এবং সিআইএ’র উইং এনইডি’র অর্থায়নে পরিচালিত পোর্টাল নেত্র নিউজ এর ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেভিড বার্গম্যান।

এই বার্গম্যানই তার এক লেখায় দাবি করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আসলে ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হয়নি’। তার দাবি, এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ লাখ! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বার্গম্যানের এ দাবির তুলনায় শহিদের সংখ্যা ছিল ১০ গুণ।


ছবি: মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সংখ্যা

এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। কারণ এতে পাকিস্থানি ও তাদের এদেশিয় দোসরদের অপরাধ লঘু করা যায়। আর এটাই বার্গম্যান তথা বিএনপি-জামায়াতের মূল এজেন্ডা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।