রোগাক্রান্ত মুরগির মত ঝিমিয়ে গেছে বিএনপির রাজনীতি!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

একসময়ের প্রবল পরাক্রমশালী বিএনপি বর্তমানে পথ হারিয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান রাজনীতিতে ‘আনফিট’ হওয়ায় অনেকটা নেতিয়ে গেছে দলটি। তাছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় আশাহত নেতা-কর্মীরা এখন আর রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী নন, ফলে সাংগঠনিকভাবে দুর্বলতার কারণে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে বিএনপি।

রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী সাধারণ মানুষ বলছেন, বিএনপিকে এখন রাণীক্ষেত রোগে আক্রান্ত মুরগির মত ঝিমিয়ে গেছে। অল্প কিছুটা জনসমর্থন এখনও টিকে থাকলেও দেশের রাজনীতিতে বিএনপি এখন শুধুমাত্রই সাইনবোডসর্বস্ব একটি সংগঠন। প্রতিদিন সরকারের সমালোচনা আর অহেতুক বিরোধিতা করে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কাজ নেই তাদের- মত সাধারণ মানুষের।

তৃণমূল পর্যায়ের অবস্থা খুবই সঙ্গিন। কোথাও দাঁড়াতে পারছে না। না রাজনীতির ময়দানে, না বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল প্রণয়ন— সব জায়গায় বিএনপির নীতি ও পরিকল্পনা মার খাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝতেও খাবি খাচ্ছে দলটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির অধঃপতনের জন্য দায়ী কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আর সিনিয়র নেতৃবৃন্দের একতরফা সিদ্ধান্ত। এছাড়া রাজনীতির ‘ব্যাড বয়’ খ্যাত তারেক রহমানের কুকীর্তির ইতিহাস এবং খালেদা জিয়ার অযোগ্যতা- এ সব মিলে বিএনপি বর্তমানে পর্যুদস্ত।

সরকারের ওপর জনসাধারণ অসন্তুষ্ট নয়। জনগণের কাছে বর্তমান সরকারের চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প নেই। ফলে বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। মূলত বিএনপির নেতৃত্বের দুর্বলতা, সময়কে অনুধাবনের অক্ষমতা, একগুঁয়েমি, বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্য ও দক্ষ নেতা নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে দলটি ক্ষমতার বাইরে।

বিএনপি সরকারে নেই, মাঠেও নেই। বিরোধী দল হিসেবেও যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ তারা। তাই প্রশ্ন- রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান কোথায়? কেবল ঘরোয়া বৈঠক ও চাপার জোরে বিএনপি এ অবস্থায় কী করতে পারবে?

বিএনপির প্রবীণ নেতারা বলছেন, দল গোছানোর চেষ্টা চলছে। নতুন করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের, আবার মির্জা ফখরুলের সঙ্গে রিজভীর দ্বন্দ্বের কথা। তৃণমূলের নেতারা নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্ত। ফলে সমন্বয়হীনতা আরো বেশি ঘনীভূত হচ্ছে।

বর্তমানে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। ভবনের তৃতীয় তলায় যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের অফিস থাকে তালাবন্ধ। এখানেও নেতা-কর্মীদের দেখা যায় না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাণীক্ষেত রোগাক্রান্ত মুরগির মত অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে বিএনপির খামার। এটাই তাদের পরিণতি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।