এরশাদ ছিলেন আপাদমস্তক ভদ্রলোক- পদক পেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাফরুল্লাহ

0

সময় এখন:

মুখে সারাদিন গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেল বলে জিগির তোলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অথচ সেই তিনিই বাংলাদেশর গণতন্ত্রের অন্যতম হত্যাকারী স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পদক হাতে পেয়ে পল্টি দিলেন। প্রশংসায় ভাসালেন প্রয়াত এরশাদকে।

সাবেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মরণে তার দল জাতীয় পার্টি চালু করেছে ‘পল্লীবন্ধু’ পদক। প্রথমবারের মতো এই পদক দেয়া হলো ৮ জনকে। এদের মধ্যে মরণোত্তর পদক দেয়া হয় ৩ জনকে।

১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদ দখল করা এরশাদের ৯২ তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার এই পদক দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এরশাদের নামে প্রবর্তিত এই পদক তার প্রত্যেক জন্মবার্ষিকীতে দেয়ার ঘোষণা দেয় জাতীয় পার্টি। সেখানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির কর্মময় জীবনের উপর আলোচনা করেন এরশাদের ভগ্নিপতি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান।

যাদের হাতে পদক তুলে দেয়া হয়, তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে অবদানের জন্য পেয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শিক্ষায় অবদানের জন্য পেয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিম উল্ল্যাহ, কৃষিতে অবদানের জন্য পেয়েছেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, ক্রীড়ায় অবদানের জন্য পেয়েছেন গোলাম সরোয়ার টিপু।

শিল্পে অবদানের জন্য বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল ওয়াহেদ বাবুলের পক্ষে পদক নেন তার ভাই এমএ রহিম।

মরণোত্তর পদক যাদেরকে দেয়া হয়, তাদের মধ্যে সাহিত্যে স্বনামধন্য কবি ফজল সাহাবুদ্দিনের পক্ষে পদক নেন তার মেয়ে দিনা সাহাবুদ্দিন, সংগীতে এন্ড্রু কিশোরের পক্ষে পদক ও সম্মাননা নেন তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু ইতি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বরেণ্য নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের পক্ষে পদক নেন তার মেয়ে আরিফা কবির।

পদক পেয়ে এরশাদকে নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তার দৃষ্টিতে জাতীয় পার্টির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা একজন আপাতমস্তক ভদ্রলোক।

তিনি বলেন, এরশাদ আপদমস্তক ভদ্রলোক ও বুদ্ধিমান ছিলেন। তার দৃষ্টিটা ছিল প্রসারিত। ফেব্রুয়ারি মাসে তার অসামান্য অবদান ছিল। উনি নিয়ম করেছিলেন সাইনবোর্ডে বাংলা হতে হবে, রায় বাংলায় হতে হবে। ওনার আমলে কেউ না খেয়ে থাকেনি।

ওনার সুচিন্তা না থাকলে এখন জনসংখ্যা ৩০ কোটি হতো। উনি প্রতিমাসে জনসংখ্যার মিটিংয়ে যেতেন, আজকে ৩০ কোটি জনসংখা হলে রাস্তায় চলা যেত না। …ওনাকে ব্ল্যাকমেল করেছে, মঞ্জুর হত্যা না হলে উনি জাতিকে আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন।

সাবেক সেনাশাসকের প্রশংসা করেন শাইখ সিরাজও। তিনি বলেন, পল্লি উন্নয়নে এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য। তার সে সময়ের কাজগুলো বাংলাদেশকে আজকের জায়গায় আসতে অনেক সহায়তা করেছে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে অনেক সময় লাগত, এখন কৃষকরা সহজে পণ্য পৌঁছে দিতে পেরে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

গোলাম সরোয়ার টিপু বলেন, এরশাদের সঙ্গে আমার দুইবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। উনি বাংলাদেশে ফ্লাড লাইট চালু করেছিলেন। তারপর লিগগুলো সহজে আয়োজন করা সম্ভব হয়। তার আগে খেলায় জট লেগে যেতো। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন। আমি ওনার সঙ্গে কথা বলে অভিভূত হয়েছিলাম।

নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বলেন, আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি থাকাকালে দারুণভাবে সহযোগিতা পেয়েছি। এরশাদ কোনোদিন তদবির করেননি, ডিও লেটার দেননি।

নিজের ভাই সম্পর্কে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, কৈশোর থেকে যৌবন ও শেষ জীবন অবধি তিনি ছিলেন একাধারে ছাত্র, ডানপিটে কিশোর, তুখোড় খেলোয়ার, সাহিত্যিক, কবি, দক্ষ প্রশাসক, জননন্দিত রাজনীতিবিদ। কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়নকালে কলেজ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সে সময় তিনি একাধারে চার বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ছিলেন।

পল্লীবন্ধু পদক-২০২১ প্রদান কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে এবং জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর উপদেষ্টা এমএম নিয়াজ উদ্দিন-এর পরিচালনায় এ সময় দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।