ইউটিউবে ‘হুমকি’ প্রশ্নে গুগলকে পাল্টা শাসালো রাশিয়া

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়াকে একঘরে করার হুমকি, মৃত্যুকামনাসহ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মেটা, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলো। আর এ বিষয়টি একেবারেই পছন্দ করছে না রাশিয়া।

রাশিয়ান নাগরিকদের ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে হুমকি দেওয়া বন্ধ না করলে এটিকে পুরো রাশিয়া অঞ্চলে গুগল সেবা বন্ধের পূর্বাভাস বলে ধরা হবে। শুক্রবার রাশিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে গুগল-এর মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটকে।

রাশিয়া এবং বেলারুশের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করার আহ্বান রয়েছে প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনে, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর রাশিয়া-বিরোধী অবস্থানের প্রমাণ বলে দাবি রাশিয়ার অনলাইন যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকোমনাদজর-এর। তবে এ বিজ্ঞাপনগুলো কারা প্রচার করছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি রাশিয়ান সংস্থাটি।

ইউটিউবের কার্যক্রম সন্ত্রাসী প্রকৃতির এবং এতে রাশিয়ান নাগরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন- বলছে সংস্থাটি।

রসকোমনাদজর স্পষ্টভাবে এসব বিজ্ঞাপনী প্রচারণা ও দাবির বিরোধিতা করে এবং গুগলকে যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়াবিরোধী ভিডিও সম্প্রচার বন্ধ করতে বলছে।

গুগল এরই মধ্যে রাশিয়া সরকারের শনাক্ত করা একটি বিজ্ঞাপন সরিয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এ বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলননি।

ইউক্রেইন বিষয়ে মস্কো এবং বিদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলাকালীন ‘সিরিজ’ বিরোধের সর্বশেষ ঘটনা এটি।

রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমকে বৈশ্বিকভাবে ব্লক করায় রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক ও রাজনীতিবিদদের তীব্র চাপে রয়েছে ইউটিউব।

ইউক্রেইনের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের “রুশ হানাদারদের মৃত্যু চাই”- জাতীয় পোস্ট প্রকাশে অনুমতি দেওয়ায় এ সপ্তাহে ইনস্টাগ্রাম ব্লক করেছে মস্কো। এর আগে রাশিয়ার গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াতে ফেসবুকের অ্যাক্সেসও বন্ধ করেছে দেশটি।

ইউটিউব আগামী সপ্তাহে অথবা শুক্রবারের মধ্যেও বন্ধ হতে পারে- রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা ‘আরআইএ’ এবং ‘স্পুৎনিক’ এক নামহীন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে।

স্থানীয় বিকল্প

সাবেক রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ শুক্রবার মেটা এবং ইউটিউব-এর নাম উল্লেখ করেই সামাজিক মাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সেইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর রাশিয়ার বাজারে পুনরায় প্রবেশের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

বাক স্বাধীনতার ‘অভিবাবকরা’-ই এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর মৃত্যু কামনার অনুমতি দিয়েছে। ফেরত আসতে চাইলে, তাদের নিজেদের স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে এবং রাশিয়া এবং দেশটির নাগরিকদের প্রতি সদয় মনোভাব রাখতে হবে।

একই পানিতে দু’বার পা ছোঁয়ানোর সুযোগ পাবেনা তারা।– মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে লিখেছেন মেদভেদেভ।

রাশিয়ার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম তৈরির দরকারী সব প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা আছে, এবং পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর একচোখা তথ্য নিয়ন্ত্রণের ধারা এভাবে চলতে দেওয়া হবে না।

ফেসবুকের বিপরীতে রাশিয়ায় রয়েছে সামাজিক সাইট ‘ভিকুনতাকতু’। ইউক্রেইনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর থেকে প্ল্যাটফর্মটি অতীতের নিজস্ব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশকে নাৎসিমুক্ত করতে রাশিয়ার ‘বিশেষ অভিযান’ শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যে সাইটটি প্রায় ৩ লাখ নতুন ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে বলে উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

রাশিয়ায় ইনস্টাগ্রাম বন্ধ হওয়ার দিন থেকে সাইটটিতে প্রতিদিন ৮.৭ শতাংশ হারে ৫ কোটির বেশি ব্যবহারকারী যোগ করে নতুন রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে ভিকুনতাকতু।

রাশিয়ানদের ভিডিও ইউটিউব থেকে রাশিয়ার বিকল্প ‘রুটিউব’-এ সরিয়ে নিতে বলেছেন ‘রাশিয়ান স্টেট দ্যুমা’ কমিটির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সদস্য অ্যান্টন গোরেলকিন।

আমি এখনই সবাইকে ইউটিউব ছেড়ে দিতে বলছি না। তবে, সাময়িক ঘটনাগুলো বিবেচনায়, সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখাটাই শ্রেয়। নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেল-এ লিখেছেন তিনি।

তথ্য যুদ্ধের ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হলে ইউটিউবেরও ইনস্টাগ্রামের মতোই পরিণতি হবে- এ সপ্তাহের শুরুতেই বলেছেন গোরেলকিন।

ইনস্টাগ্রামের অভাব পূরণে নতুন ছবি-শেয়ারিং অ্যাপ ‘রসগ্রাম’ এ সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে চালু করার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগতারা।

টিকটক’কে টক্কর দিতে গ্যাজপ্রম মিডিয়া ‘ইয়াপ্পি’ নামের ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নভেম্বরেই চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।