টিপস: মশা থেকে রেহাই পাওয়ার সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায়

0

দৈনন্দিন জীবন:

কোনx নির্দিষ্ট সময় নেই, সারা বছরই মশার প্রচন্ড উপদ্রব চলে। মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেকেই সহজ উপায় হিসেবে বেছে নেন কয়েল। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন কি, এক বছরে আপনি কয়েলের পেছনে কত টাকা খরচ করেছেন? আর সব থেকে বড় কথা হলো, কয়েল মানব শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর সেটা কি আপনি জানেন?

শিশুদের জন্য তো আরও ভয়াবহ। অ্যারোসল যদি ব্যবহার করার চিন্তা থেকে থাকে, তবে জেনে রাখুন- এটা মানব শরীর এবং পরিবেশের জন্য আরো ভয়াবহ ক্ষতিকর। অথবা ইলেকট্রিক ব্যাট আছে, কিন্তু মশার সাথে কতদিন ব্যাডমিন্টন খেলবেন? ১০টা মারবেন ১০০ মশা সামনে এসে হাজির হবে। আপনি মরে যাবেন কিন্তু আপনার মশা মারা আর শেষ হবে না!

মশা মারার কয়েলের ক্ষতিকর দিক

১। আপনি যদি একটি মশার কয়েল টানা ৮ ঘন্টা জ্বালিয়ে রাখেন তাহলে ১৩৭টি সিগারেটের পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া আপনি গিলছেন।

২। কয়েলে যে গুঁড়ো দেখেন, সেটা এতটাই সূক্ষ্ম যে তা সহজেই আমাদের শ্বাসনালীর এবং ফুসফুসের পথে গিয়ে জমা হয়ে বিষাক্ততা তৈরি করে।

৩। কয়েলের ধোঁয়া চোখের ভীষণ ক্ষতি করে, দীর্ঘদিন ব্যবহারে চোখের ভয়াবহ ক্ষতিসাধন হতে পারে।

৪। কয়েল মশাকে তাৎক্ষণিকভাবে মারে কিন্তু মানবদেহে স্লো পয়জনিং করে, ধীরে ধীরে মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

অ্যারোসলের ক্ষতিকর দিক

১। অ্যারোসল হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মানুষের হার্ট সরাসরি অ্যারোসলের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

২। অ্যারোসলের রাসায়নিক উপাদান চোখের ক্ষতি করে, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে চোখের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আসুন জেনে নেয়া যাক, মাত্র ২০ টাকা খরচ করে কীভাবে পুরো ১ বছর মশার উপদ্রব থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

কীভাবে বানাবেন?

প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সবার আগে একসাথে জোগাড় করে নিন।

উপাদান

২ লিটারের একটি কোমল পাণীয়য়ের প্লাস্টিকের বোতল (বোতলের গড়নটি লক্ষ্যণীয়), ১ গ্লাসের ৩ ভাগের ২ ভাগ মৃদু গরম পানি, ১ কাপের ৩ ভাগের ২ ভাগ ব্রাউন সুগার (ব্রাউন সুগার নিয়ে আলাদা বর্ণনা দেয়া হয়েছে), ১ চা চামচ ইষ্ট, ধারালো ছুরি এবং অ্যাডহেসিভ টেপ।

ব্রাউন সুগার

ব্রাউন সুগার হচ্ছে অপরিশোধিত লালচে বর্ণের আখের চিনি। সুপার স্টোরগুলোতে পেতে পারেন। না পাওয়া গেলেও চিন্তার কোনো কারন নেই। ১ কাপ সাধারণ চিনিতে ১ টেবিল চামচ ঝোলাগুড় (রাব) ভালোভাবে হাত দিয়ে মাখিয়ে নিলেই তৈরী হয়ে যাবে ব্রাউন সুগার।

ইষ্ট

যে কোনো সুপার স্টোর কিংবা বড় জেনারেল স্টোরগুলোতে ইস্টের বিভিন্ন সাইজের বোতল বা প্যাকেট পাওয়া যায়। আবার মুদি দোকানে খোলা ইস্টও পাওয়া যায়। সেখান থেকে অতি অল্প পরিমাণে কিনে নিতে পারেন। ইস্ট সাধারণত বেকারির খাবার তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। বিস্কুট বা পাউরুটির তৈরির জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান এই ইস্ট।

প্রস্তুত প্রক্রিয়া

মশা থেকে মুক্ত থাকতে হলে আপনাকে প্রস্তুত প্রণালীগুলো ধাপে ধাপে অনুসরণ করতে হবে। ওপরের ছবিটি লক্ষ্য করুন। এই গড়নের বোতল সংগ্রহ করাটা জরুরী। প্রথমে প্লাষ্টিকের বোতলটির ছিপি খুলে ফেলুন। তারপর বোতলটি উপর দিক থেকে ৩/৪ ইঞ্চি রেখে একটি ছুরি দিয়ে কেটে ফেলুন।

তারপর বোতলের নিচের বড় অংশটিতে ব্রাউন সুগার ঢেলে দিন, নাড়াবেন না। তারপর এক কাপ (২০০ মি.লি.) মৃদু গরম পানি ঢালুন। তারপর ১ টেবিল চামচের ৩ ভাগের ২ ভাগ ইষ্ট ছেড়ে দিন। এবার বোতলের উপরের অংশটিকে উল্টো করে বড় বোতলের ভেতরে ফানেলের মত করে বসিয়ে দিন।

বোতলের উপরের খোলা মুখ দিয়ে মশা ভেতরে ঢুকবে। এরপর অ্যাডহেসিভ টেপ দিয়ে বড় এবং ছোট অংশটির জোড়া শক্ত করে লাগিয়ে দিন। ব্যস! হয়ে গেল মশা মারার ঘরে তৈরী ফাঁদ। এবার ফাঁদটিকে ঘরের যে কোনো কোণায় রেখে দিন। চলতে পারবেন পুরো এক বছর।

এটি যেভাবে কাজ করে

ব্রাউন সুগারের সাথে ইষ্টের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত কার্বন ডাই অক্সাইড মশাকে আকৃষ্ট করে। মশা বোতলের সরু মুখটি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সুগারের আঠালো দ্রবণে পড়ে মরে যায়।

টিপস ও সর্তকতা

অধিক কার্যকারীতার জন্য এমন কয়েকটি ফাঁদ শোবার ঘর ও রান্নাঘরেও রাখতে পারেন। যদি কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন কমে আসে, তবে অল্প মৃদু গরম পানিতে ১ চামচ ইস্ট একটি কাপে গুলিয়ে রেখে দিন, ফেনা উৎপন্ন হলে তা বোতলে ঢেলে দিন। আরও অনেকদিন চলবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।