গান-বাজনায় নিষেধাজ্ঞা, ছাত্রীদের বোরকা পরার নির্দেশদাতা সেই চেয়ারম্যানের হঠাৎ পল্টি!

0

সময় এখন ডেস্ক:

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর কিছু নির্দেশনা সম্বলিত একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে পোস্টে বলা হয়, ওই ইউনিয়নে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজানো যাবে না গান। বাজালে জরিমানা করা হবে ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়াও যারা সাউন্ডবক্স ভাড়া দেন তাদের সাউন্ডবক্স এমন বাজেয়াপ্ত করা হবে কোনোদিন ফিরে পাবেন না। এতে মেয়েদের বোরকা পরার নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে গেলে উগ্র সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং তাদের অনুসারীদের বাহবা পেতে শুরু করেন চেয়ারম্যান। তবে একইসাথে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাধারণ মানুষ দেশে ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের আস্ফালন নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেন। যার প্রেক্ষিতে দেশের সংবিধান পরিপন্থী নির্দেশনা জারির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়।

আর তাতেই রীতিমত পল্টি খান চর্মনাই সমর্থিত এই চেয়ারম্যান।

ফেসবুকে পোস্টটি করা হয় হাফেজ মনিরুল ইসলাম নামে একটি আইডি থেকে। প্রশাসনের খোঁজ-খবর নেওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহর দাবি, পোস্টদাতা ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। ওই ব্যক্তি তার সতর্কবার্তাকে ভিন্নভাবে প্রচার করছেন।

তিনি বলেন, “আমি ওই ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করব।”

চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহর ভাষ্য, রাতে উচ্চশব্দে গানবাজনা হলে মানুষ ঘুমাতে পারে না। এজন্য রাতে গানবাজনা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। মানুষ অভিযোগ দিলে জরিমানা করা হবে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার নিয়ম রয়েছে। আমার কোনো ফেসবুক আইডি নেই। কে বা কারা আমার নাম দিয়ে এটি ফেসবুকে চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একজন আলেম হিসেবে মা-বোন ও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ছাত্রীদের পর্দার জন্য বোরকা পড়ে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। স্কুলে মোবাইল নিয়ে গেলে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটবে। এতে স্কুলে যেন শিক্ষার্থীরা মোবাইল নিতে না পারে সেজন্য অভিভাবকদের সতর্ক করার জন্য ওয়াজ-মাহফিলে আমি কথা বলেছি।

তবে এসব কোনো আইন হিসেবে নয়, শুধুমাত্র সতর্কবার্তা ও পরামর্শ উল্লেখ করা হয়েছে দাবি করে বলেন, “রাষ্ট্রের আইনের বিরুদ্ধে আমি যেতে পারি না। আমি বলেছি একরকম, আর লোকজন প্রচার করছে অন্যরকম।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন ফেক আইডি থেকে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

হাফেজ মনিরুল ইসলাম (Hafej Monirul Islam) নামের ওই ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে বলা হয়-

“আলহামদুলিল্লাহ, শুরু হল ইসলামী শাসন ব্যবস্থা। কাদিরা ইউনিয়নের বিয়ের অনুষ্ঠানে কোনো গানবাজনা চলবে না। যদি চলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। বাজারে কোনো গানের আওয়াজ যেন না শুনি। তোমার মন চাইলে এয়ার ফোন দিয়ে শোন, আরেকজনকে শুনাইও না। যারা বক্স ভাড়া দাও, মনে রেখ এমন বাজেয়াপ্ত হবে কোনোদিন ফিরে পাবে না।”

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, “কোনো অভিভাবক বোরকা ছাড়া মেয়েদের স্কুলে পাঠাবেন না। যারা পাঠাবেন তাদের তালিকা করব। কী ব্যবস্থা নেই, সেটা পরে দেখবেন। স্কুলে কোনো ছাত্র-ছাত্রী মোবাইল নিতে পারবে না। মোবাইল বাড়িতে চালাবে। অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ এটা খেয়াল রাখবেন।”

তবে এমন উৎকট আদেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বড় বাধা উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহকে অচিরেই বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সচেতন সাধারণ মানুষ।

এমন সংবিধানবিরোধী আদেশ উক্ত এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবে বলে মত তাদের। একইসাথে যারা ফেসবুকে এই পোস্ট প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সাইবার আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।