বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুদানবাসী

0

প্রতিরক্ষা ডেস্ক:

দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীরা নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক সেবা দিয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। একদিকে অস্ত্র হাতে নিরাপত্তা প্রদানে অন্যদিকে নারী জনগোষ্ঠীকে সেলাই মেশিন, কুটিরশিল্পসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলছেন। দিচ্ছেন মাতৃত্বকালীন চিকিত্সাসেবা। খেলাধুলার প্রশিক্ষণসহ করোনা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলছে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরা।

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা ও ওয়াও প্রদেশে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি র‌্যালি, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। জুবায় এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেজর ডা. নিগার। তার সঙ্গে রয়েছেন ক্যাপ্টেন মহুয়া, ক্যাপ্টেন তোবাসহ ২৪ জন নারী সদস্য। ৩ জন অফিসার ও বাকিরা সৈনিক।

আর ওয়াও প্রদেশে বিশ্ব নারী দিবসের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লে. কর্নেল সিনথিয়া, মেজর জিনাত, ক্যাপ্টেন নাফিজা, ক্যাপ্টেন মিরাজী ও ক্যাপ্টেন রিয়া। এই ৫ কর্মকর্তাসহ ৪১ জন সদস্য কর্মসূচি পালনের দায়িত্বে রয়েছেন।

এই জুবা ও ওয়াও প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়শই গোত্রে গোত্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দিনে-রাতে টহল দেন নারী শান্তিরক্ষীরা। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার দিকটিও তারা দেখেন পরম মমতায়। ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে নারী-শিশুদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চশমাও দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব মানবিক সেবা দেওয়ায় সুদানবাসী নারী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত নিকোলাস হেইশাম দক্ষিণ সুদানে নারী শান্তিরক্ষীদের এই কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, জাতিগত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র হাতে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারী শান্তিরক্ষীরা।

জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপনে বাংলাদেশের নারী সেনারা যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। এসব কর্মকাণ্ড দেখে আমি অভিভূত। আশা করি, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মানবিক সেবা দেখে অন্য দেশের শান্তিরক্ষীরাও শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

দক্ষিণ সুদানে কর্মরত নারী শান্তিরক্ষীদের তিনি শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেন।

দক্ষিণ সুদানে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দক্ষিণ সুদানে আমরা নারীদের সব ধরনের মানবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া আর্থসামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে দক্ষিণ সুদানের নারীরা এখন কাজ করছেন।

দক্ষিণ সুদানের ওয়াও প্রদেশের ওয়েস্টার্ন বাহার এল গজলের গভর্নর সারাহ স্লেটো রিয়াল দেশটিতে কর্মরত নারী শান্তিরক্ষীদের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, নারী ও শিশুদের এমন কোনো সেবা নেই, যা দেওয়া হচ্ছে না। মানবিক সেবায় নারী শান্তিরক্ষীরা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।