ডিএমপির ৫০ থানার আওতায় ‘ঈগলের চোখ’

0

সময় এখন ডেস্ক:

ছিনতাই-খুনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের শনাক্তে রাজধানীর প্রায় ১শ’টি অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং ডিএমপি’র ৫০টি থানায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ‘ঈগলের চোখ’যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এই প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপি’র ৫০টি থানা ও অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গেও সমন্বয় করবে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ টিম।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধীর তৎক্ষণাৎ মুখ এবং গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি আকারে রেকর্ড থাকবে। সেইসাথে অপরাধীদের পূর্ব অপরাধের তথ্য-উপাত্ত মেমোরি আকারে সংরক্ষণ করবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ‘ঈগলের চোখ’যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ প্রায় ১শ’টির মতো এলাকা রয়েছে। যেগুলো অপরাধের রেড জোন হিসেবে পরিচিত। এ সকল এলাকায় ছিনতাই, খুন, ডাকাতি, এবং চুরির ঘটনা হরহামেশা ঘটে।

ঢাকা মেট্রোপলিটনের প্রায় ৫০টি থানা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে এর আওতায় আনতে ইতিমধ্যে কাজ করছে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বিত টিম।

রাজধানীতে ডাকাতি, ছিনতাই এবং খুনের মতো বড় বড় ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্তে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীর মুখের ছবি তৎক্ষণাৎ ক্যামেরাবন্দি হবে। পাশাপাশি অপরাধী কোনো গাড়ি ব্যবহার করলে তার নম্বর প্লেটের ছবিও নিয়ে নেবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিসিটিভি ক্যামেরা।

অপরাধী আত্মগোপনে চলে গেলেও যখন রাস্তায় বের হবে সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধীর অবস্থান সম্পর্কে জানান দেবে এই প্রযুক্তি। এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের কাছে এ তথ্য চলে যাবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শ্যামলীতে বাংলাদেশ গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক এক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ার শহীদকে ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয় এই বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে। কচুক্ষেতে দু’টি এবং কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি মার্কেটের দু’টি সোনার দোকানে প্রায় এক হাজার ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়।

এর আগে আলোচিত কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় গ্রন্থ রাখার ঘটনায় হামলা ও ভাঙচুরসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এই বিশেষ প্রযুক্তির সিসিটিভি ভিডিও এবং ম্যান্যুয়াল পদ্ধতিতে দ্রুত অপরাধীকে শনাক্তের আধুনিক এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ।

ইতিমধ্যে রাজধানীর শতাধিক অপরাধপ্রবণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আরও ১শ’ এলাকায়। আর কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপরাধমূলক কোনো ঘটনার ইঙ্গিত পেলে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। এর ফলে রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, এই প্রযুক্তি নিয়ে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বিত টিম একসঙ্গে কাজ করছে। এখনো এই কার্যক্রম চলমান। ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘ঢাকার ঈগলের চোখ’-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে এসে অপরাধীরা ফোন ট্র্যাকিংয়ের ঝামেলা এড়াতে মুঠোফোন ব্যবহার না করে আত্মগোপনে চয়ে যায়। এক্ষেত্রে তাদেরকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অনেক সময় কালক্ষেপণ হয়। তাই অপরাধ দমনে পুলিশকে অপরাধীদের চেয়ে আরও চতুর ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হতে হয়।

মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ অপরাধীদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে কাজ করে যাচ্ছেন। অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি এবং মেন্যুয়ালি উভয়ভাবে বড় বড় অপরাধীদের শনাক্ত করা হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন মানুষজন। অপরাধীদের ভেতরে যদি এই বোধ তৈরি হয় যে, অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না, তাহলে অপরাধের পরিমাণ কমে আসতে বাধ্য।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।