ঢাকার ফুটপাথ দখলমুক্ত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকার ফুটপাথগুলো দখলমুক্ত রাখতে এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গতকাল নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের যারা ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট, যখন তারা কোনো প্ল্যান করবেন অন্তত ফুটপাথটা যেন মানুষের হাঁটার যোগ্য থাকে এবং সেটা যেন দখল না হয় যেদিকে দৃষ্টি দিয়েই করতে হবে।

রোববার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের ‘সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১)’ শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়নাধীন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ঢাকা শহর এক সময় চারদিকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা পরিবেষ্টিত একটি সুন্দর শহর ছিল। যা ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শহরমুখী জনতার চাপ এই শহরকে ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকার ওপর মানুষের চাপ বাড়ছে। ফলে রাজধানী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ঢাকা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। ঢাকাকে যখন সিটি কর্পোরেশন করা হলো, তখন মানুষের চাপের কারণে নাগরিক সেবা ঠিকভাবে দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পাশাপাশি, সংলগ্ন ইউনিয়নগুলো যেগুলো ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত ছিল।

এ সব ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ওয়ার্ডে পরিণত করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দু’টি ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিই। আর বাদ বাকি যেসব এলাকা রয়েছে সেগুলো অচিরেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে একটা বাড়ি বা ফ্ল্যাট না থাকলে জীবন বৃথা এই চিন্তা নাগরিকদেরকে মাথা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আমরা রাস্তার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছি। খুব সহজেই ঢাকায় আসা-যাওয়া করতে পারবেন এমন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করে দিচ্ছি।

এক্ষেত্রে ঢাকার বাইরে স্থায়ী ঠিকানা খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গুলশানে বিজিএমসির প্রায় ১০ বিঘা জমিতে একটি খেলার মাঠ করা হবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, গুলশানে জায়গা পাওয়া মুশকিল। বড়লোকের জায়গা, সব পয়সাওয়ালা লোক। আমার কিছু অভিযোগ আছে- কেউ এক ইঞ্চি জায়গা ঠিকমতো ছাড়েনি।

দুইটা বাড়ির ভেতর এমন চাপা জায়গায় থাকে, আবার সেখানে ময়লা ফেলা হয়। রান্নাঘরের ময়লা তারা জানালা দিয়ে ছুড়ে মারে উল্লেখ করে মেয়র মো. আতিকুল ইসলামকে এ বিষয়ে নজর দিতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঘনবসতিপূর্ণ হরিরামপুর এক সময় অত্যন্ত অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার মান আরও উন্নত হবে এবং সব মানুষ স্বাস্থ্যকরভাবে বসবাস করতে পারবেন।

ঢাকা শহরটাকে সীমিত শক্তি দিয়েই যতদূর সম্ভব আধুনিকায়ন করা, সবুজায়ন ও বসবাসের উপযোগী করার আমরা চেষ্টা করছি। ঢাকা উত্তর সিটিতে সর্বশেষ সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য হাতে নেয়া ‘অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১)’ প্রকল্পের মাধ্যমে এসব এলাকার নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে খেলার মাঠ, পাবলিক টয়লেটসহ নানা নাগরিক সুবিধা সৃষ্টির জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই নতুন ঢাকা আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনের জন্য সরকারের নেয়া উদ্যোগের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরে যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী এরই মধ্যে তাদের জন্য অনেকগুলো ফ্ল্যাট নির্মাণ শেষ হয়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনের টাকা লোপাট করেছিল।

তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের জীবন-যাপন সুন্দর করতে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ফ্ল্যাটে বস্তিবাসী ভাড়া থাকবেন। তারা চাইলে প্রতিদিন, চাইলে সপ্তাহে কিংবা মাসে ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন। বস্তিবাসীর জীবনমান এবং তাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সঙ্গে চলবে, বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলবে।

তিনি বলেন, ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন এবং ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা- সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই আজও আমরা বেঁচে আছি, এগিয়ে যাচ্ছি, সেই চেতনা থেকেই আমরা দ্রুত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসার প্রেরণা পাচ্ছি।

বাংলাদেশের জনগণ বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই আজকে দেশের উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে। যাতে, এর প্রত্যেকটা নাগরিক এখনকার নাগরিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে এবং উন্নত জীবন পেতে পারে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং স্থানীয় মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাকারিয়া হোসেন প্রকল্পের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

সাধারণ জনগণকে অধিকতর সেবা প্রদানের জন্য ২০১১ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দু’টি অংশে বিভক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত হরিরামপুর ইউনিয়ন এবং পূর্বাঞ্চলে উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাঁতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়নের এলাকাসমূহের ১৮টি ওয়ার্ডকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ডিএনসিসি’র নতুন এই ওয়ার্ডগুলোর জন্য ২০২০ সালের ১৪ই জুলাই ৪ হাজার ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প একনেক অনুমোদন করে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে, সেখানে বসানো হবে পিলার। সীমানার মধ্যে কারও বাসা, বৈঠকখানা, অফিস পড়তে পারে কিন্তু কেউ রেখাই পাবেন না। অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।

আমরা চাই খালগুলোতে নৌকা চলবে, খালের পাড়ে হবে ওয়াকওয়ে, থাকবে সাইকেল লেন, সবুজে ভরা গাছগাছালি। সবুজের শহর, অক্সিজেনের শহর গড়তে চাই আমরা। আমরা ইতিমধ্যে লাউতলা খাল উদ্ধার করেছি, যেটি ১৬ বছর ধরে বেদখল ছিল।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমরা গুলশান লেক, বারিধারা লেকে মাছ ছাড়তে গিয়ে দেখেছি সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ নেই। অভিজাত এলাকাতেও পয়ঃবর্জ্যের লাইন ড্রেন, খালে দেয়া হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। বাসাবাড়িতে নিজ উদ্যোগে সেফটি ট্যাংক বসাতে হবে। না হলে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাই সচেতন না হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।