কেন রাজনৈতিক দলগুলো লবিস্ট নিয়োগ করে, লবির পার্থক্য কী: সত্য জানুন

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে লবিস্ট ফার্ম নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জাতীয় সংসদে এবং পরবর্তীতে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে নথিপত্র তুলে ধরে বলেছেন, বিএনপি ৩ বছরে লবিস্ট ফার্মের পেছনে প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ করেছে। তিনি লবিস্ট ফার্মগুলোর নামের তালিকাও প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সংবাদ সম্মেলনের আগেও তিনি সংসদে বিএনপি যে লবিস্ট ফার্মের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন, তার বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। তিনি এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তার মন্ত্রণালয়কে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠাবে বলেও উল্লেখ করেন।

একইসাথে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এই টাকা বৈধভাবে খরচ করা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে অনুসন্ধানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন।

সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের পরপরই গণভবনে নিষিদ্ধ দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিক দাবি করেছে, ২০১৪ সাল থেকেই বাংলাদেশ সরকার লবিস্ট নিয়োগ করেছে, তাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বিজিআর নামে একটি ফার্মকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি লবিস্ট ফার্মকেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে এটাও দাবি করা হয়েছে, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এলকার্ড এন্ড ফে নামে লবিং ফার্মকে ১০ কোটি টাকার বেশি দেওয়া হয়েছে। এই ফার্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে লবি করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়ে যে বিতর্ক, এর আসল উদ্দেশ্য কী? কেন লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হয়? সরকারের নিয়োগকৃত লীবস্ট ফার্ম এবং বিএনপির নিয়োজিত ফার্মগুলোর কাজের ধারায় পার্থক্য কী?

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের জন্য একটি লবিস্ট ফার্ম কাজ করে।

অনেকেই হয়ত ভাবতে পারেন, লবিস্ট ফার্ম নিয়োগটি বোধহয় একটি অবৈধ ও অনৈতিক তৎপরতা। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি, প্রশাসনের পরিকাঠামো এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ মোটেই অনৈতিক কাজ নয়। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের প্রচলিত ধারা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ফার্মগুলোকে বলা হয় পি.আর ফার্ম (Public Relation Firm) বা জনসংযোগ সংস্থা।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে, তা আংশিক সত্য। সরকার আসলে জনসংযোগ ফার্ম নিয়োগ করেছিল, তাদের প্রধান কাজ হয়, মার্কিন নীতিনির্ধারক, কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদের কাছে বাংলাদেশের কার্যাবলী সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত দেয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটাই নিয়ম।

শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারত, পাকিস্থানসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের পিআর ফার্মের প্রয়োজন পড়ে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিষয়ই সরাসরি কংগ্রেসম্যান বা সিনেটরদের কাছে পৌছনো যায় না বা নীতিনির্ধারকদের কাছে যাওয়া যায় না।

সেখানে এই ধরনের ফার্মগুলো আইনগতভাবে বৈধ। তারা বৈধ লাইসেন্সের আওতায় ঘোষণা দিয়ে এই ধরনের লবিংয়ের কাজ করে। বাংলাদেশের গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করে তারা, যে বিষয়গুলোর জন্য গার্মেন্টস মালিকরা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সঠিক তথ্য জানাতে চান, তারা সেখানে একটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে।

উল্লেখ্য, এর আগে ড. মুহম্মদ ইউনূসকেও গার্মেন্টস মালিকরা লবিস্ট ফার্ম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টে বাংলাদেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত মার্কিন প্রশাসনকে অবহিত করার জন্যও আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখা একটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিল।

আবার দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে, তারেক রহমানের দুর্নীতি, গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার তথ্য, মামলার বিষয়, বিদেশে অবৈধ অর্থ, মানিলন্ডারিং, জঙ্গিবাদে অর্থায়ন, যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে বিএনপি নিজেদের অবস্থান জানাতে এবং প্রকৃত সত্য আড়াল করতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে। ফার্মগুলো মার্কিন সরকারের কাছে বিএনপিকে দুধে ধোয়া তুলসি পাতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।

অর্থাৎ, এটা পরিস্কার, দেশের কল্যাণেই হোক কিংবা অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা বা যে কোনো কাজের জন্য প্রচার-প্রচারণা চালাতে, অপপ্রচার ও গুজব প্রতিষ্ঠার জন্যও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থের বিনিময়ে তারা সব কাজই করে।

বাংলাদেশ সরকার মার্কিন প্রশাসনে নিজ সরকারের নীতি, কৌশল আদর্শ ইত্যাদি বোঝানোর জন্য লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে। এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ পন্থা, কিন্তু সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে বিএনপি, যেন সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগটি কোন গোপন বিষয়।

বিপুল অঙ্কের অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে বিএনপি যেভাবে দেশদ্রোহীমূলক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দিয়েছিল তাদের নিয়োজিত লবিস্ট ফার্মগুলোকে, তার সাথে সরকারের নিয়োজিত লবিস্ট ফার্মের কাজের ধারায় পার্থক্য রয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠী এবং তাদের নিয়োজিত লবিস্ট ফার্মগুলোর ষড়যন্ত্রের সারসংক্ষেপ:

মার্কিন বিচার বিভাগের অন্তর্গত ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট-ফারা’র আওতায় দেশি-বিদেশি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান মার্কিন কোনো লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি উপস্থাপন করে মার্কিন মতামত, পলিসি, আইনকে প্রভাবিত করতে পারে।

২০১৫ সালে বিএনপি লবিস্ট ফার্ম Akin Gump-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নং- ৩৪৯২। এ কাজে একিন গাম্প-এর সাথে কাজ করার জন্য বিএনপি ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানকে নিয়োগ দেয়। একিন গাম্পের দায়িত্ব ছিল- মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং সরকারের উচ্চমহলে বিএনপির প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা, যেন তারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সক্ষম হয়।

একিন গাম্প চুক্তিপত্রে বিএনপিকে আশ্বস্ত করে, মার্কিন কংগ্রেস এবং সরকারের কার্যনির্বাহী পরিষদে তাদের নিজস্ব লোকজন রয়েছে। সেই সাথে মার্কিন সরকার এবং বিরোধীদলীয় নেতাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করতে সক্ষম সংস্থাটি। হাউজ এবং সিনেটে কোনো বিল উত্থাপন করানোর মত দায়িত্বশীল লোকজন রয়েছে তাদের হাতে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচ্চমহলে কলকাঠি নাড়তেও সক্ষম বলে জানায় একিন গাম্প।

ঐ চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, একিন গাম্পকে মাসিক ৪০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার (কাজের পরিধি অনুসারে) প্রদান করার চুক্তি হয়। কাজ শুরুর আগেই বিএনপি তাদের কাছে ১,২০,০০০ মার্কিন ডলার জমা দিয়ে রাখে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত উক্ত কাজের মেয়াদ ছিল। যদিও সেই মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো কিছুতেই সফল হতে পারেনি বিএনপি-জামায়াতের ভাড়ায় চালিত ফার্মগুলো।

প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে, ২০১৮ সালে বিএনপি একসাথে দুটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে। সেসময় FARA-তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরপর দুবার ভুয়া তথ্য দাখিল করে বিএনপি। লবিস্ট ফার্ম দুটির একটি বোস্টনের Rasky Partners (রেজিস্ট্রেশন নং- ৬৫৮৬) এবং অন্যটি ওয়াশিংটনের Blue Star Strategies (রেজিস্ট্রেশন নং- ৬৫৮৭)।

তবে এবার বিএনপি আর দল হিসেবে নয়, আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে চুক্তি করে। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়- ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস এবং রাস্কি পার্টনার্সকে যাবতীয় নথিপত্র প্রদান করেছে- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। সেই চুক্তিতে মাসিক মোট ৫০,০০০ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদের দায়িত্ব ছিল– তারা ক্লায়েন্টের (বিএনপি) পাঠানো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করবে, যেভাবে বলা হবে, মার্কিন বড় গণমাধ্যমগুলোতে ঠিক সেভাবে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে, সেসব গণমাধ্যমের সাথে বিএনপির সুসম্পর্গ গড়ে দেয়া, পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে বৈঠক এবং এজেন্ডা অনুসারে মতামত প্রকাশ করা।

এছাড়া ২০১৯ সালে বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের গুজব ও অপপ্রচার সম্বলিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর করা গাদাগাদা চিঠি পাওয়া যায়। ৭১০নং রাজাকাপুত্র মির্জা ফখরুল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে শুরু করে ফরেন অ্যাফেয়ার্সের হাউজ কমিটি, সিনেটের সাবকমিটি, ফরেন অপারেশনস, সিনেট কমিটি, হাউজ কমিটি, ফরেন রিলেশন বিষয়ক সিনেট কমিটি, পূবাঞ্চলীয় সিনেট সাবকমিটি, দক্ষিণ এশিয়া-মধ্য এশিয়া এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী কমিটি, এশিয়া বিষযক সাবকমিটিসহ বিভিন্ন দপ্তরে দফায় দফায় চিঠি লিখেছেন।

মির্জা ফখরুল মার্কিন প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিয়ে লিখেছেন- সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে যে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন, তাতে বিএনপি খুশি হয়েছে।

দেশের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদনের জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন!

আরেকটি চিঠিতে তিনি মার্কিন সরকারের প্রতি দাবি তুলেছেন বাংলাদেশকে মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সহায়তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখার জন্য।

অর্থাৎ বাংলাদেশে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হোক! কী অদ্ভূত এই দলটির চিন্তা-ভাবনা!

এবার দেখা যাক জামায়াতে ইসলামীর লবিস্ট নিয়োগ বিষয়ে।

লবিস্ট ফার্মগুলোকে জামায়াতের অর্থায়ন বিষয়ে মোট ৪টি নথি পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের রেজিস্ট্রেশন নং-৬২১৮ ও ৬২১৯, ২০১৫ সালের রেজিস্ট্রেশন নং-৬২৭২, ২০১৬ সালের রেজিস্ট্রেশন নং-৬৩৩৬ এবং ২০১৮ সালের রেজিস্ট্রেশন নং-৬৫১৭।

রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে এটা পরিস্কার, একের পর এক ব্যর্থ হয়ে জামায়াত লবিস্ট ফার্ম বদলেছে। এদের ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিস্ট ফার্মগুলো যথাক্রমে- KGGlobal, Cassidy & Associates, Cloakroom Advisors ও Husch Blackwell Strategies। সবগুলো চুক্তিতেই প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া আছে “Organization for Peace and Justice” (প্রকৃত অর্থ- শান্তি কমিটি)। এটি নিউইয়র্কে একটি অবাণিজ্যিক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত।

জামায়াতের পক্ষে চুক্তিগুলিতে স্বাক্ষর করেছেন জনৈক জিয়াউল ইসলাম। মূলত ব্যক্তি পরিচয় আড়াল করতেই একটি ছদ্ম নাম ব্যবহার করা হয় বলে ধারণা।

চুক্তিতে প্রদত্ত দায়িত্বগুলো হলো- জামায়াত নেতৃবৃন্দের (যুদ্ধাপরাধী) প্রতি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সহানুভূতি সৃষ্টি করা, তাদেরকে শান্তি এবং ন্যায়বিচার সংস্থার কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বিচার বন্ধ করে তাদেরকে মুক্ত করতে সহায়তা করা।

লবিস্ট ফার্মগুলোর ওপর অর্পিত দায়িত্বের আরও কিছু হলো- বাংলাদেশের ওপর মার্কিন চাপ তৈরি করা, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে মার্কিন কংগ্রেসকে দিয়ে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করানো, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনি গ্রাহণযোগ্যতা বিনষ্টে বিভিন্নমুখী অপতৎপরতা চালানো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন তকমা দিয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধিতা করানো ইত্যাদি।

এ কাজের জন্য জামায়াত Husch Blackwell Strategies-কে বাৎসরিক ১,৩২,০০০ মার্কিন ডলার ও Cassidy & Associates-কে মসিক ৫০,০০০ মার্কিন ডলার দিয়েছে।

সরকারও লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। তবে বিএনপির লবিস্ট ফার্ম এবং সরকারর নিয়োগ করা লবিস্ট ফার্মগুলোর মাঝে বেসিক পার্থক্য রয়েছে, কাজের ধারায় পার্থক্য রয়েছে, উদ্দেশ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বিএনপির লবিস্ট ফার্মগুলো কাজ করছে মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যত ধ্বংস করার জন্য। বিপরীতে সরকার রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করছে দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উজ্জ্বল করতে। দেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য, বিনিয়োগের সুবিধা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশেষায়িত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমদানিকারক দেশগুলোর কাছে তুলে ধরতে।

মার্কিন লবিস্ট ফার্মগুলো বৈধ লাইসেন্স নিয়ে সেদেশে কাজ করে। দেশটির সিনেটর এবং কংগ্রেসম্যানদের কাছে সরাসরি বৈদেশিক বিষয়ে আলাপের সুযোগ নেই বলে তাদেরকে নিজ নিজ দেশের বিভিন্ন বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য দিতে লবিস্ট ফার্মগুলোকে কাজে লাগায় বিভিন্ন দেশের সরকার। সিনেটর এবং কংগ্রসম্যানদের অফিসে প্রবেশাধিকার রয়েছে তাদের।

আর তাই বাংলাদেশ সরকার বিজিআর নামক একটি স্বনামধন্য লবিস্ট ফার্মকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর, রপ্তানিযোগ্য পণ্য, জয়বায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির হার, পর্যটনের সম্ভাবনা, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে সঠিক দিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরা, বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্জন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্তির চেষ্টাসহ দেশের জন্য কল্যাণকর বিভিন্ন ইস্যুতে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

এখানে বিজিআর-এর সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সাথে। ধানমন্ডি কার্যালয়ের ঠিকানায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাথে নয়। আর চুক্তির অর্থ বৈধ পথে অনুমোদিত পন্থায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসারেই পাঠানো হয়েছে। নাগরিকরা চাইলেই এ তথ্য সরাসরি তথ্য আইনের আওতায় চাইতে পারেন, জবাবদিহি করাতে পারেন সরকারকে।

বিএনপি যেসব কাজ করানোর জন্য লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে, নথিতে দেখুন তথ্য-প্রমাণ:

এখনই সময়, জনগণকে সাথে নিয়ে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। সময় এসেছে জনগণের সামনে তাদের মুখোশ খুলে দেওয়ার। পলাশীর প্রান্তরে এক মীর জাফরের হাতে এই বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছে। আর কোনো মির্জা ফখরুল বা মীর জাফরকে স্বাধীন বাংলার মাটিতে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়া যাবেনা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।