সরলপথে ব্যর্থ হয়ে বিদেশি প্রভুদের শরণাপন্ন বিএনপি

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

বিএনপির রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়ই একটা কথা বলা হয়, বিএনপি ‘পেছনের রাস্তা’ দিয়ে ক্ষমতায় বসতে চায়। এখানে পেছনের রাস্তা বলতে ষড়যন্ত্র ও ভয়ানক কোনো চক্রান্ত করার কথা বোঝানো হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম নৃশংসতার উদাহরণ ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট। সেই জঘন্যতম ঘটনার আসল সুবিধাভোগী হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসনের প্রারম্ভ তার হাতেই। আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রও চলে বারবার।

২০০১ সালে আরেক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহন করে বিএনপি। সেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে দেড় কোটি ভুয়া ভোটার অন্তর্ভূক্তির পাশাপাশি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় একবার-দুবার নয়, বারবার। সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, পথের কাঁটা আওয়ামী লীগকে দূর করে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতা দখল করা।

তবে সেসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গেছে, জনগণের কাছে বিএনপির মুখোশ খুলে গেছে। ফলে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার পর তাদের অস্তিত্বই এখন বিলীন হওয়ার পথে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা এত সহজে হাল ছাড়তে রাজি নয়। দেশ থেকে পাচারকৃত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের যথাযথ ব্যবহার করছে তারা ‘পেছনের রাস্তা’ পরিস্কার করতে।

যার অংশ হিসেবে বিদেশি প্রভুদের পদ-মর্দন করার জন্য উপযুক্ত তৈল-এর বন্দোবস্তকরন কর্মসূচি চলছে। ভাড়ায় চালিত বিভিন্ন বিদেশি লবিস্ট ফার্মের পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দরজায় ধর্না চলমান। যেখানে যত সংস্থ আছে, তাদের সদর দরজার নিচ দিয়ে লিফলেট, আবেদন, দরখাস্ত ঠেসে দিচ্ছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

যার ফলে সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছে বিএনপির হয়ে ভাড়ায় চালিত লবিস্ট ফার্মগুলো এবং বাংলাদেশে কাজ করা কিছু এনজিও। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিতে ক্রমাগত ব্যর্থ হয়ে বিদেশি প্রভুদের সাহায্যে ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় বিএনপি এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড করছে।

টানা তিনবার সরকার পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশের অভাবনীয় উন্নয়নের ফলে বিএনপিকে জনগণ বর্জন করেছে। বিএনপির কোনো আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি। ফলে দেশের ভেতরে সরকার পতনের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বিদেশি প্রভুদের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি।

তারই অংশ হিসেবে আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত পলাতক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অর্থায়নে কয়েকজন ব্লগার এবং কথিত সাংবাদিক ক্রমাগত দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছে। সর্বশেষ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পেছনে বিএনপির অর্থায়নে রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির হাত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, বিএনপির সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও দেশটি পাকিস্থানের পক্ষে ছিল। সেদিক থেকে রাজাকারদের আশ্রয়দাতা বিএনপির সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক সম্পর্ক নিয়ে আমি অবাক নই।

বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াক সেটা বিশ্বের অনেক দেশই চায় না। বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে না পেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আঁতাত করেছে, যা আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় স্পষ্ট হয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, পেছনের রাস্তা দিয়ে ক্ষমতায় আসার ইতিহাস বিএনপির নতুন নয়। জন্ম থেকে দলটির প্রতি জনগণের আস্থা নেই। এর আগে ২০০১ সালে দেশের গ্যাস আমেরিকান কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার শর্তে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এবার তারই ধারাবাহিকতায় দেশের বাইরে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ।

তবে এই চেষ্টায় পানি ঢেলে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে কৈফিয়ত তলব করার পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। মাত্র ৬ দিনের মাথায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অংশ হিসেবে গত ৭ বছর ধরে র‌্যাবের পেছনে লেগে আছে বিএনপি। ২০১৪ সালের ১২ই নভেম্বর কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের মাঠে জনসভায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বিদেশি প্রভুদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন র‌্যাবকে যেন উচ্চতর প্রশিক্ষণ, অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রদান বন্ধের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে র‌্যাবের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন সময় প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু র‌্যাব থাকলে বিএনপির পেছনের রাস্তায় ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন পূরণ হবে না কখনই। জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না নির্বিঘ্নে।

দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র সফল করতে না পারার ভয় থেকেই মূলত ভাড়ায় খাটা লবিস্ট ফার্মগুলোর মাধ্যমে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করতে বিদেশি প্রভুদের দ্বারস্থ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।