রহস্যাবৃত হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু, মুখ খুলছে না পরিবার!

0

সময় এখন ডেস্ক:

বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ও দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী ৪ মাস আগে লন্ডনে মারা গেছেন হারিছ চৌধুরী।

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর তথ্য নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় তার বড় বোন ও এক ছোট ভাই গণমাধ্যমকে বলেছেন, তারা শুনেছেন, তবে নিশ্চিত নন। লন্ডনে বসবাসরত হারিছ চৌধুরীর মেয়েকে টেলিফোন করা হয়েছে। সেখান থেকেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এক-এগারোর পালাবদলে দেশ ছাড়েন হারিছ চৌধুরী। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দেশ ছাড়ার পর থেকে কোন হদিস ছিলো না তার। ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী বা আত্মীয়-স্বজন কেউ তার ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি।

হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বলা হচ্ছে, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে লন্ডনে মারা গেছেন তিনি। গত সোমবার বিএনপি নেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন এই নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

মঙ্গলবার রাতে হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর এ বিষয়ক আলোচনা বড় হয়।

আশিক চৌধুরী তার ফেসবুক আইডিতে হারিছ চৌধুরী ও তার ছবি সংযুক্ত করে লেখেন, ‘ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন’। এরপর এই ‘মৃত্যুর খবরের’ ডালপালা বাড়ে।

এ বিষয়ে গতকাল খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, মাস দুয়েক আগেও ফেসবুকে একই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আশিক চৌধুরী। কিন্তু তখন বিষয়টি তেমন আলোচনায় আসেনি। মঙ্গলবার রাতে তিনি কেন আবার একই স্ট্যাটাস দিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মৃত্যুর গুঞ্জনের সত্যতা যাছাই করতে লন্ডনে হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলে এক ব্যক্তি ফোনটি ধরেন। নাম-পরিচয় জানালে তিনি শুরুতেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এই নম্বর আপনি কীভাবে পেলেন? গত ১৫ বছরে কেউ ফোন করে কিছু জানতে চায়নি।’

ফেসবুকে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে আলোচনার কথা জানালে তিনি ওই সব স্ট্যাটাসের লিংক তাকে পাঠানোর অনুরোধ জানান। কয়েকবার তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, হারিছ চৌধুরী বেঁচে আছেন কি না? তিনি এর জবাব দেননি। তবে বলেছেন, পরে যোগাযোগ করবেন। তিনি নিজে তার পরিচয়ও প্রকাশ করেননি।

গত সোমবার বিকেলে হারিছ চৌধুরীর রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা গণমাধ্যমকে বলেন, মারা গেছেন শুনেছেন। এর বেশি কিছু জানেন না। এক-এগারোর পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

গতকাল সকালে আশিক চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বড় ভাইয়ের কথা হঠাৎ মনে পড়ল তাই স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে দিইনি। আমাকে খুব স্নেহ করতেন।

তিনি আরো বলেন, হারিছ ভাই মারা গেছেন এটা সত্য। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন। পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি লন্ডনে মারা যান। সেখানেই কবর দেওয়া হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝিতে করোনায় মারা যান তার আরেক ভাই সেলিম চৌধুরী।

কার কাছ থেকে এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন জানতে চাইলে আশিক চৌধুরী বলেন, হারিছ চৌধুরীর ছেলে-মেয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। তারা জানিয়েছেন।

কিন্তু বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত একজনকে পাওয়া গেছে যাকে আশিক চৌধুরী বলেছেন, হারিছ চৌধুরী গোপনে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি ঢাকায় মারা যান। গেণ্ডারিয়ায় তাকে দাফন করা হয়।

আশিক চৌধুরীর এই দুই রকম বক্তব্যের কারণে অনেকের মধ্যে হারিছ চৌধুরীর অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এমন ধোঁয়াশা অবস্থায় হারিছ চৌধুরীর বড় বোন একলাসুর নাহার বলেন, আমি আশিকের কাছ থেকে শুনেছি। নিজে কিছু জানি না। ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।

হারিছ চৌধুরীর বড় এই বোন আরো বলেন, মিথ্যা বলব না। ৩ বছর আগে আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর দুবার ফোন দিয়েছিল হারিছ। তার পর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি। আমি কানাডায় ছিলাম। ছোট ভাই সেলিম মারা যাওয়ার পর কয়েক মাস আগে দেশে আসি। তখন হারিছ মারা যাওয়ার খবর আশিকের কাছে শুনেছি।

হারিছ চৌধুরীর ছোট ভাই ডা. মুকিত চৌধুরী বসবাস করেন ইরানে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে আমাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ২০০৭ সালের পর থেকে ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়নি।

সিলেটের কানাইঘাটের দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগরে হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি। ৫ ভাই, ৫ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। হারিছ চৌধুরীর দুই ভাই মারা গেছেন। সবার ছোট ভাই কামাল চৌধুরী জন্মলগ্ন থেকেই অসুস্থ। তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

এক ভাই থাকেন ইরানে। তিনি পেশায় চিকিৎসক। হারিছ চৌধুরীর ছেলে ও মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। মেয়ে ব্যারিস্টার, ছেলে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।