এনআইডি ডাটাবেজের তথ্যে ৫ দিনেই হত্যারহস্য সমাধান

0

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মাত্র ৫ দিনে একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য সমাধান করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগশন (পিবিআই)।

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজ থেকে আঙুলের ছাপ নিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর তদন্তে নামে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সিরাজ আল মাসুদ।

সিরাজ আল মাসুদ বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর মির্জাপুর উপজেলার আজগনা ইউনিয়নের ঘাগড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে জানা যায়, মরদেহটি ভোলার লালমোহন উপজেলার দেবীরচর এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে নাজমা বেগমের (৩১)। এনআইডি ডাটাবেজ থেকে তথ্য নিয়ে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।

পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সূত্র আমাদের কাছে ছিল না। তথ্য প্রযুক্তি ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নিহতের দ্বিতীয় স্বামী ওয়াসিম হককে (৪০) সন্দেহ করে পুলিশ। পরে, মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াসিম এই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পিবিআই কর্মকর্তা আরও জানান, বুধবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে ওয়াসিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যানের পাশে একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় নাজমা বেগমের সঙ্গে ওয়াসিমের পরিচয় হয়। পরে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেলে ওয়াসিম দিনাজপুরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

যাওয়ার আগে দেখা করতে গেলে কয়েকজনের সহায়তায় তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে নাজমা। এ সময় ৩ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে নাজমার পক্ষের লোকজন।

এ বছর মির্জাপুরে একটি ইটভাটায় কাজ নেন ওয়াসিম। ১১ ডিসেম্বর নাজমা সেখানে দেখা করতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে নাজমা তালাক চেয়ে দেনমোহরের টাকা দাবি করলে ওয়াসিম অস্বীকৃতি জানান।

এ সময় নাজমা মামলার ভয় দেখালে ক্ষুব্ধ ওয়াসিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নাজমাকে হত্যা করেন এবং ইটভাটার পাশেই কলাবাগানে নিয়ে মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।