কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে পর্যটককে ধর্ষণ

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

দেশের সবচেয়ে নিরাপদতম এবং পর্যটকবান্ধব শহর হিসেবে কক্সবাজারের একটি সুনাম রয়েছে। যেখানে গভীর রাতেও পর্যটকরা ঘুরে বেড়াতে পারেন নির্বিঘ্নে। এমন অর্জনের মুকুটে যোগ হলো একটি কলঙ্কের পালক।

স্বামী-সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ধ-ণের শিকার হয়েছেন ঢাকার এক গৃহবধূ।

সংঘবদ্ধ একটি চক্র শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে ওই নারীকে তুলে নিয়ে তার স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে কয়েক দফা ধ-ণ করে।

পরে খবর পেয়ে বুধবার রাত দেড়টার দিকে জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয় বলে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম জানান।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ওই নারী সংবাদকর্মীদেরকে জানান, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে বুধবার সকালে তারা কক্সবাজারে পৌঁছে হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে ওঠেন।

বিকেলে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এক মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।

আর ৩ যুবক আরেকটি অটোরিকশায় করে ওই নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গলফ মাঠের কাছে একটি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে পালাক্রমে ধ-ণ করে।

ওই নারী আরও বলেন, ওই ৩ যুবক তাকে পরে নিয়ে যায় জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে। সেখানে তাকে আরেক দফা ধ-ণ করা হয়। সেই সাথে এই ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে বাইরে থেকে রুম আটকে চলে যায় ওই ৩ যুবক।

পরে হোটেলের ৩য় তলার জানালা দিয়ে ডেকে এক ব্যক্তির সহায়তায় কক্ষ থেকে বের হন ওই নারী।

তার ফোন পেয়েই র‌্যাব ওই হোটেলে যায় এবং ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে তার স্বামী এবং সন্তানকেও উদ্ধার করা হয় পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনা পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে ওই নারীকে আগে থেকেই টার্গেট করা হয়েছিল। লাবণী পয়েন্ট মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা লাগার ঘটনাটি ছিল সাজানো। একটি সিচুয়শন তৈরি করার জন্য এটি ঘটানো হয়।

এই চক্রটির সাথে অটোরিকশা চালক এবং হোটেলের কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। মামলাও প্রক্রিয়াধীন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।