রাজাকারকন্যার নৌকা ডুবিয়ে দিলেন ভোটাররা, বাজেয়াপ্ত জামানত

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড রাজাকারকন্যাকে উপযুক্ত মনে করলেও ভোটাররা তাদের পছন্দ-অপছন্দের কথা জানান দিতে ভুল করেননি। নৌকা প্রতীক পাওয়া রাজাকারকন্যার ‘নৌকা ডুবেছে’ ঠিকই। আওয়ামী লীগকে তীরে ভেড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। জামানতও খুইয়েছেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের জামানত খোয়ানো সেই রাজাকারকন্যা শারমিন আক্তার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত হয়ে (নৌকা) প্রতীকে নির্বাচন করে পেয়েছেন মাত্র ৪২৭ ভোট।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, পোড়াদহ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ১৬৬। ভোট দেন ২৮ হাজার ৮৩২ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শারমিন আক্তার নাসরিন পেয়েছেন মাত্র ৪২৭ ভোট।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার দোলন কান্তি চক্রবর্তী জানান, ১২.৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থী জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না। এজন্য পোড়াদহ ইউনিয়নের নৌকা প্রার্থী শারমিন আক্তার নাসরিন পেয়েছেন মাত্র ১.৩৭ শতাংশ ভোট। তাই তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পোড়াদহ ইউনিয়নে ৬ জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ইসলামী অন্দোলনের আবু আজম ৬১৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত শারমিন আক্তার নাসরিন ৪২৭ ভোট পেয়ে ৫ম হয়েছেন।

তাই শারমিন আক্তার নাসরিনের মত আবু আজমেরও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুকুজ্জামান জন (আনারস) প্রতীকে ১২ হাজার ৫৩৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বেনজীর আহমেদ পলাশ মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯ হাজার ৮১০ ভোট।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শারমিন আক্তার নাসরিন বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা আমার বিপক্ষে অবস্থান নেন। এজন্য আমি একাধিকবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলন করেও আমি জানিয়েছি যে, পৌড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আমার বিপক্ষে অবস্থান করছে নৌকাকে হারানোর জন্য। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছ থেকে নেতাকর্মীরা সুবিধা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী শারমিন আক্তার নাসরিন তার নিজ কেন্দ্রেই ভোট পাননি। আর ভোটাররা তাকে ভোট না দিলে আমরা কী করতে পারি। আমরা তো তার পক্ষেই কাজ করেছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম জানান, নির্বাচনের আগে পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নৌকার প্রার্থী শারমিন আক্তারের পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা শোনেননি। তবে কী কারণে এমন করল ইউনিয়ন কমিটি, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ১১ অক্টোবর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বরাবর আবেদন করেন পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

তার লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন শারমিন আক্তার নাসরিনের পিতা আব্দুল গফুর মণ্ডল একজন তালিকাভুক্ত রাজাকার ও পিস কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনে শারমিন আক্তার নাসরিন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।