বিশ্বাসঘাতক বেইমান জিয়ার উপাখ্যান

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে খুন করেছে যে ব্যক্তি- তার নাম জিয়াউর রহমান। এমনকি দুঃসময়ে যারা তার প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তার সংসার বাঁচিয়েছেন; তাদেরও হত্যা করেছে সে।

বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসে নতুন মীরজাফর বলা হয় জিয়াকে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের মার্ঝখানে পাকিস্থানি সেনা কর্মকর্তা কর্নেল বেগ তার প্রশংসা করে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন তাকে কোনো একটি বিশেষ কাজে সন্তুষ্ট হয়ে।

পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াকে লেখা পাকিস্থানি কর্নেল বেগের সেই চিঠির উদ্দেশ্য কী ছিল?

জিয়ার সন্দেহজনক কাজকর্মের কারণে প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানী তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়ার নির্দেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৪ বার বীর মুক্তিযোদ্ধারা যান পাকিস্থানি সেনা কর্মকর্তা জানজুয়ার কাছ থেকে খালেদা জিয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রতিবারই মুক্তিযোদ্ধাদের ফিরিয়ে দেন। এমনকি একবার তাঁদেরকে জানজুয়ার অনুগত সেনাদের হাতে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন।

এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের পর খালেদা জিয়াকে নিয়ে আর সংসার করতে চায়নি জিয়া। কিন্তু ঘরে ছোট সন্তান থাকায়, বঙ্গবন্ধু নিজে তাদের সেই সংসারের ভাঙন রোধ করেন। জিয়াউর রহমানকে ডাবল প্রমোশন দিয়ে খালেদা জিয়ার সংসার বাঁচান বঙ্গবন্ধু। এমনকি উপ-সেনাপ্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেন জিয়াকে। খালেদাকে নিজের কন্যা বলে স্বীকৃতি দেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরেও, তা থামানোর চেষ্টা করেনি জিয়াউর রহমান। উল্টো খুনিদের এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।

পরবর্তীতে সামরিক অভ্যুত্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফের হাতে বন্দি হয় বেইমান জিয়া। সেই বন্দিদশা থেকে জিয়ার প্রাণ বাঁচান মুক্তিযুদ্ধে এক পা হারানো কর্নেল তাহের। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর ক্ষমতা দখল করে জিয়া। এরপর প্রহসনের বিচারে পথের কাঁটা যুদ্ধাহত তাহেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে সে জেনেভা কনভেনশনের তোয়াক্কা না করেই।

রাষ্ট্রপতি সায়েমের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। এরপর রাতের অন্ধকারে নিয়মিত হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাড়ে ৫ হাজারের অধিক সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা সদস্যকে খুন করে সে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে এবং ফায়ারিং স্কোয়াডে।

একাত্তরের খুনি ধর্ষক লুটেরা গণহত্যাকারী রাজাকারদেরকে প্রধানমন্ত্রী, এমপি, মন্ত্রী বানিয়ে, তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়। বিদেশে রাষ্ট্রদূতের চাকরি দেয় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের। ইনডেমনিটি আইন পাশ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথটাও রুদ্ধ করে দেয়।

ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সৃষ্টি করে যুব কমপ্লেক্স নামের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। নষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ। সদ্য স্বাধীন একটা দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য, যা করা দরকার, সব চেষ্টাই করেছে সে।

তাই খুনি ও বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য জিয়ার খেতাব বাতিল করাও এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।