লন্ডনে কঠোর নজরদারিতে তারেক রহমান!

0

স্পেশাল করেসপন্ডেন্স:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড এবং প্যারিসে প্রায় ২ সপ্তাহ সফর করবেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি জলবায়ু সম্মেলনে যোগদান করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, বিএনপি-জামায়াত জোট নানা রকম অপতৎপরতা করতে পারে, এরকম শঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। এই বিষয়টি যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে দেখেছে এবং এর সত্যতা পেয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফরকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন, প্যারিস ও গ্লাসগোতে যে অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দেবেন, সেখানে যেন কোনরকম অপতৎপরতা না হয় সেকারণে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

আর এই নিরাপত্তার অংশ হিসেবে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে লন্ডন থেকে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরের সময় তারেকের লোকজন সেখানে অপতৎপরতা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লন্ডন পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে সেটি সফল হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় যুদ্ধাপরাধী ও বিএনপি-জামায়াত জোট সেখানে বেশ কিছু মিছিল সমাবেশ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করেছিল। এই রকম পরিস্থিতি যেন লন্ডনে না হয় সেজন্য এখন থেকেই কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

উল্লেখ, ২০০৭ সাল থেকেই লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন তারেক রহমান এবং লন্ডনে বসেই তিনি সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী নানা রকম অপতৎপরতা করছেন। বিশেষ করে যখনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যান সেখানে বিভিন্ন রকম কর্মসূচি দিয়ে তিনি সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেন।

এছাড়াও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ইন্ধনের অভিযোগ আছে্ সেসময় লন্ডন পুলিশ তদন্তে তারেক এবং তার দলের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছিল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তারও করেছিল ব্রিটিশ সরকার।

সেসময় তারেক এজন্য লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে তার দলের লোকজন এমনটি করবে না বলে মুচলেকা দিয়েছিলেন। তবুও একটি প্রাণির লেজ কখনই সোজা হয় না। কিছুদিন আগেই ব্রিটিশ এমপি ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিকির গাড়িতে হামলার ঘটনায়ও তারেক রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। যা এখনও তদন্তাধীন।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরে যেন কোনরকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে তারা তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্টদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জারি রেখেছে। তারা কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোনো পরিকল্পনা করছেন কি না ইত্যাদি দেখভাল করা হচ্ছে।

পাশাপাশি তারেক রহমান যেন এসময় কোনো গোপন বৈঠক করতে না পারে এবং বিএনপির কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি দিতে না পারে, সেটিও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তবে তারেক রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়নি। তিনি পর্যবেক্ষণে আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চলাকালে তারেক রহমান যেন কোনো অপতৎপরতা করতে না পারে এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিরক্ত করার জন্য কোনো কর্মসূচি দিতে না পারে সেজন্য কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে যেন এই বলয় ভেদ করে কোনো দুষ্কৃতিকারী কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফর নির্বিঘ্ন হবে। লন্ডন পুলিশ এবং যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর নিরুপদ্রব করার জন্য সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। বাংলাইনসাইডার।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।