১০ হাজার টাকা দানকারী সেই ভিক্ষুককে জমিসহ ঘর ও দোকান দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

0

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তার জন্য খোলা তহবিলে ১০ হাজার টাকা দান করা সেই ভিক্ষুক নাজিমউদ্দীন (৮০) পাচ্ছেন জমিসহ ঘর ও দোকান।

আজ বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাজিমউদ্দীন উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

গতকাল মঙ্গলবার করোনা তহবিলে দান করার পর ‘ত্রাণের জন্য ভিক্ষুকের জমানো অর্থ দান!’ শিরোনামে সময় এখনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তাকে নিয়ে প্রচারিত সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই ওই ভিক্ষুককে ঘর তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তার জন্য খোলা করোনা তহবিলে ১০ হাজার টাকা দান করার সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সংবাদটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। বুধবার সন্ধ্যার পরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করে ভিক্ষুকের জন্য বাড়ির ডিজাইন এবং প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

পরে রাতেই ওই ভিক্ষুকের বাড়িতে গিয়ে বসতভিটার কাগজপত্র দেখা হয় বলে জানান ইউএনও। তিনি বলেন, কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায় তার যে জমিটা আছে তা নি’ষ্কণ্টক নয়। তাই তাকে উপজেলার নিকটবর্তী আমাদের যে সকল সরকারি খাস জমি আছে, সেখান থেকে ১২ শতাংশ জমি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই জমিতে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবিএম এহছানুল মামুন বলেন, ভিক্ষুক নাজিমউদ্দীনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। তাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মুদি দোকানও দিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনা তহবিলে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের বাতিয়াগাঁও এলাকায় ইউএনও রুবেল মাহমুদের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন নাজিমউদ্দীন। নিজের বাড়ি মেরামতের জন্য ২ বছরে ভিক্ষা করে ওই টাকা জমিয়েছিলেন তিনি।

টাকা দানের সময় ভিক্ষুক নাজিমউদ্দীন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইয়ে ২ বছরে এ টেহা জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দ্যাশে এহন মানুষ ক’ষ্ট করতাছে, আমি এ টেহা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দেক, খাইয়ে বাঁচুক।

বিষয়টি হতবাক করে তোলে ইউএনও, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ উপস্থিত সবাইকে। পরে এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

Spread the love
  • 13.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।