নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কাটছেন কৃষক লীগের নেত্রী এমপি শামীমা

0

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের হাওরে কৃষক লীগের ৭৩ জন কর্মীকে নিয়ে ধান কাটায় অংশ নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার।

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় এ নেত্রী মঙ্গলবার জামালগঞ্জের হাওরে ধান কাটতে নামেন। সেখানে ভিমখালী ইউনিয়নের মাহমদপুর গ্রামের কৃষক নূরুল হক ও চানপুর গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিনের ১২০ শতাংশ জমির ধান কেটে দেন তারা। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল কেটে দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ধান কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাওরেই অবস্থান করেন এমপি শামীমা। বুধবার তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার শনি ও হালির হাওরে কৃষক লীগের দেড় শতাধিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তিনি ফের ধান কাটতে নামবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও তার নির্দেশনায় সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগও মঙ্গলবার খরচার হাওরের লালপুর গ্রামের কৃষক নাজমুল হাসানেরও জমির বোরো ধান কেটে দেয়।

সংসদ সদস্য এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার গত পহেলা বৈশাখ নিজেই জামালগঞ্জের একটি হাওরে ধান কাটতে নামেন। ওইদিন জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবীদের ধানকাটায় নামতে আহ্বান জানান তিনি। এ সময় শ্রমিকদের মাস্ক, সাবান, গামছা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এছাড়াও জামালগঞ্জের ধানকাটায় নিয়োজিত ৮ শতাধিক শ্রমিকককেও খাদ্য সহায়তা দেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধির এ ভূমিকা প্রশংসা পাচ্ছে সর্বমহলে।

এমপি শামীমা শাহরিয়ার বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতি উপজেলায় ধানকাটার জন্য কৃষক লীগের স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠিত হয়েছে। তাদের নিয়ে ধান কাটার কাজ অ’ব্যাহত থাকবে। হাওরের ধান থাকা পর্যন্ত কৃষক লীগ পাশে থাকবে অ’সহায় কৃষকদের। যখন যে ধরণের সহায়তা প্রয়োজন হবে তখনই তা করা হবে।

কৃষকের পাকা ধান ঘরে তুলে দিতে নেমেছেন সর্বস্তরের মানুষ

শ্রমিক সং’কট এড়াতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রতিয়ারপাড়া বাদশাহ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গনেশ চক্রবর্র্তীর সহায়তায় স্থানীয় শ্রমিক, কর্মহীন মানুষ, স্বেচ্ছাশ্রমী ছাত্রসহ ৩৩ জন শ্রমিক হাওরে কৃষকের পাকা ধান কাটছেন। ওই ৩৩ জনের মধ্যে ২৩ জন শ্রমিক হিসেবে আব্দুল বারিক নামে এক দরিদ্র কৃষকের ক্ষেতের ধান কাটেন। অপর ১০ জন কৃষক সৈয়দ মিয়ার জমির ধান কেটেছেন।

স্বেচ্ছায় ধান কাটতে আসা কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মামুন আহমদ বলেন, শ্রমিক সং’কটের কারণে পাকা ধান নিয়ে দু’শ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন কৃষক। আমরা ১১ জন শিক্ষার্থী আমাদের স্যারের সহযোগিতায় কৃষক আব্দুল বারিকের ধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটেছি। হাওরে ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত ধান কাটব আমরা।

শিক্ষক গনেশ চক্রবর্তী জানান, একদিকে করোনার ভ’য় অন্য দিকে আগাম বন্যায় শ’ঙ্কায় কৃষকরা। এ অবস্থায় হাওরে পাকা ধান নিয়ে বিপদে তারা। আমাদের ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জগন্নাথপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্রসহ স্থানীয় শ্রমিক, কর্মহীন ৩৩ জন লোক সংগ্রহ করে মাঠে গিয়ে আমরা কৃষকের ধান কাটতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার শ্রমিক সং’কটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আজ থেকে জগন্নাথপুরের প্রতিটি হাওরে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের চেষ্টায় শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষ ধান কাটছেন। আশা করছি ১ সপ্তাহের মধ্যে ফসল তোলা সম্ভব। এবার এ উপজেলায় ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, আগাম বন্যার শ’ঙ্কায় দ্রুত পাকা ধান কাটতে হাওরজুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল থেকে ছোট বড় ১৫টি হাওরে কৃষকের পাশে ধান কাটতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ হাওরে নেমেছেন। আমরা প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।