জনসমাগমে জামায়াত-বিএনপির ইন্ধন: ‘সরকারকে একটা শিক্ষা দিতে হবে’ (অডিও)

0

সময় এখন ডেস্ক:

লকডাউনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারির নামাজে জানাজায় প্রায় লাখো মানুষের সমাগম নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বে অব’হেলার অভিযোগে পুলিশের ৩ কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে প্র’ত্যাহার করাও হয়েছে।

ঘটনার পর বেড়তলাসহ ৩ উপজেলার ৮টি গ্রাম লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব গ্রামের বাসিন্দাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিপুল জনসমাগমের পেছনে জামায়াতে ইসলামি ইন্ধন ছিল। পাশাপাশি বিএনপির নেতৃবৃন্দেরও মদদ ছিল বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল-আশুগঞ্জ) বিএনপির সাংসদ উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এবং সংরক্ষিত নারী এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার জড়িত থাকার খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এই জানাজায় অংশ নিতে নিজের অনুসারীদের গোপনে তাগাদা দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপি জামায়াতের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। এই আসনেরই এমপি ছিলেন কু’খ্যাত তাহের ‌উদ্দীন ঠাকুর। সরকারকে বিত’র্কিত করতে শনিবার লাখো মানুষের সমাগম ঘটানো হয়। করোনার সময়েও সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে বিএনপির এই দুই এমপি জনসমাগম ঘটানোর পেছনে কাজ করেছেন বলেও দাবি অনেকের।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হকের সাথে লোক সমাগমের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কথোপকথনের অডিও ফাঁ’স হয়েছে। ১ মিনিট ৪৫ সেকেণ্ড দৈর্ঘ্যের সেই কথোপকথনটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। কথোপকথনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন-

লকডাউন ফকডাউন পাত্তা দিয়েন না। অনেক লোক সমাগম করতে হবে। আপনাদের মাদ্রাসার লোকজনকে টান দেন। সরকারকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। পুলিশ কিছুই করতে পারবে না। একটা থানা-ফাঁড়িতে কয়টা পুলিশ থাকে? হাজার হাজার মানুষের তারা কিছুই করতে পারবেন। আর যদি করেও আমাদের লোক থাকবে। আপনাদের লোকদেরকেও রেডি থাকতে বলেন।

যদি বাধা দেয়া তবে মতিঝিলের চেয়া অবস্থা খারাপ করে দেয়া হবে। বিষয়টি মির্জা ফখরুল সাহেব জানেন।

মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, সব কিছু ঠিক থাকবে। প্রচুর লোক সমাগম করা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় জেলা শহরের মার্কাস পাড়ায় নিজ বাসভবনে মা’রা যান মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারি। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

শনিবার সকাল ১০টায় লাখো মানুষ খবর পেয়ে জানাজায় অংশ নেয়। এ সময় মানুষের সারি ছড়িয়ে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যন্ত। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব মানার নির্দেশ থাকলেও জানাজা ঘিরে এ ধরনের সমাবেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা চলছে। [নিউজবাংলারআলো]

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।