তাবলিগ থেকে করোনা ছড়ানোয় ভারতে বেড়েছে ইসলামফোবিয়া!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তাবলিগ জামাতকাণ্ডের পর মুসলমানদের দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে দেখছে ভারত। করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে বেড়েছে ইসলাম বিদ্বে’ষ। ঘটছে নানা অ’প্রীতিকর ঘটনা। মুসলমান বলে হাসপাতালে ঠাঁই হয়নি অন্তঃসত্ত্বা নারীর। তাই অ’যত্নে জন্ম নেওয়ার পরই মা’রা গেছে নবজাতক। ঝাড়খন্ড ও রাজস্থানে সম্প্রতি এমন দু’টি ঘটনা ঘটেছে। আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন না মুসলমানরা। কোথাও হিন্দু-মুসলমান আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা।

ব্রিটেনের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝাড়খন্ডের জামসেদপুর শহরের এমজিএম হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ৩০ বছরের অন্তঃসত্ত্বা রিজওয়ান খাতুনকে। মুসলিমদের থেকেই করোনা ছড়াচ্ছে- গুজবের কারনে এমনটা ঘটেছে। হাসপাতালের গেটের সামনেই সন্তান জন্ম দেন তিনি। তবে নবজাতকটিকে বাঁচানো যায়নি। এরপর রিজওয়ানকে বাধ্য করা হয় হাসপাতালের সামনে পড়ে থাকা তারই রক্ত পরিষ্কার করতে। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা এটি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজস্থানের ভরতপুর জেলাতেও একই রকম একটি ঘটনা ঘটে। সেখানেও বাঁচানো যায়নি নবজাতকটিকে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে আলাদা আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহমেদাবাদের সিভিল হাসাপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেটি সরকারি নির্দেশ।

গুজরাটে ক্ষমতাসীন বিজেপির সদস্য ও সমর্থকরা ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী করেছে তাবলিগ জামাতকে। মার্চের মাঝামাঝি সময়, যখন বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, ঠিক তখন দিল্লির একটি মসজিদে তাবলিগ জামাতের সদস্যরা জমায়েত হন।

মার্চের শেষ নাগাদ দেখা যায়, দিল্লির মসজিদে জমায়েত হওয়াদের অনেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ওই জমায়েতে যোগ দেন তাবলিগের সদস্যরা। জমায়েত শেষে তারা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েন। সেই সাথে তারা চিকিৎসা নিতে অ’সহযোগিতা করেন। ডাক্তার নার্সরা যেন তাদের কাছে ঘেঁষতে না পারে, সেজন্য তাদের দিকে থুতু ছিটান, আইসোলেশন ওয়ার্ডে ন’গ্ন হয়ে ঘোরাফেরা করার ভিডিও পর্যন্ত দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এই আক্রা’ন্তরা কোয়ারান্টাইন না মেনে ছড়িয়ে পড়েন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফলে করোনা ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মত। আর এসব কারনে বিরক্ত হয়ে ওঠেন সমগ্র ভারতবাসী। এ সময় বিজেপিও প্রচারণা চালায়, তাবলিগের সদস্যরাই ভারতে করোনা ছড়ানোর জন্য প্রধানত দায়ী। ফলে ভারতে ইসলামফোবিয়া বাড়তে শুরু করে।

তবে শুধু মুসলিমরাই নয়, বালদেব সিং নামে পাঞ্জাবের এক শিখ ধর্মগুরুর কারনে ৪০ হাজার মানুষকে কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে তিনি মা’রা যান ১৮ই মার্চ। পরীক্ষা করে জানা যায়, তিনি করোনা আক্রা’ন্ত ছিলেন। তখনই পরীক্ষা করে ৬৫০ জনকে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। ২০টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়।

বালদেব সিং জার্মানি থেকে ইতালি হয়ে ভারতে ফিরে কোয়ারান্টাইনের নির্দেশ মানেননি। একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। পার্শ্ববর্তী শহরে ১০-১২ মার্চ অনুষ্ঠিত ২ দিনব্যাপি এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৩ লাখের মতো মানুষ যোগ দেয়।

তবে বিজেপি সরকার এখন দাবি করছে, ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্তদের ৩০ শতাংশ তাবলিগ জামাতের ওই সদস্যদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

উত্তর প্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লকডাউন ভেঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সমাবেশে নেতৃত্ব দেন। সংক্র’মণের ঝুঁ’কি নিয়েই ভারতের অন্যত্রও গত কয়েক সপ্তাহে একইভাবে জমায়েত হন। এছাড়া তামিলনাড়ুতে লকডাউনের মধ্যে গরুর শেষকৃত্যে হাজারো মানুষের ঢল দেখা গেছে। এ নিয়েও খুব বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়নি।

তাবলিগ জামাতের সদস্যদের বিরু’দ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিতে শুরু করেছে ভারত সরকার। মুসলিম নেতারা এই তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা সত’র্ক করে বলেছেন, এই তদন্ত যেন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বে’ষে পরিণত না হয়।

উত্তর প্রদেশের মিরাটে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে বলা হয়েছে, কোনো মুসলমান করোনা আক্রা’ন্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে না। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এমন শর্ত নেই। তেলেঙ্গানার অনেক হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না মুসলমানদের।

সূত্র- গার্ডিয়ান, আল জাজিরা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।