মা’দক সম্রাট দুই বন্ধু অবশেষে পুলিশের জালে

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

এলাকাবাসী, পঞ্চায়েত কমিটি, ওয়ার্ড মেম্বার, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন- সবাই জানে, কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া এলাকার ড্রা’গলর্ড কারা। থানায় তাদের বিরু’দ্ধে মামলাও আছে। প্রশাসনের কাছে আছে তাদের বাসাবাড়ির ঠিকানাও। কিন্তু তারা থাকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তবে গত ১৫ এপ্রিল রাতে তাদের আটক করেছে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, খরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জাফর সাদেক ওরফে রানা এবং তার বন্ধু জামাল ওরফে “ইয়া’বা মৌলই”। তারা মিয়নামার থেকে এসব আনেন। বিক্রি করে তাদের সহায়তাকারীরা। অ’স্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের ড্রা’গের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন জামাল।

ইতিপূর্বে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, তথ্য থাকলেও কৌশল ও জনবলের দিক দিয়ে এদের সঙ্গে পেরে উঠছেন না তারা। পুলিশও বলেছিল, এদের ধরতে তাদের তৎপরতা অ’ব্যাহত আছে। কিন্তু সঠিক তথ্য-উপাত্ত না থাকার কারণে তাদের ধরা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা খরুলিয়া এলাকার ব্যবসার হোতা হিসেবে রানা ও জামান জামালের নাম উল্লেখ করেন। তাদের তালিকায় আরও আছেন- রিফাত ও জুয়েল। এরা জামাল ও রানার সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেন।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, রানার বাসা খরুলিয়া সিকদার পাড়ায়। দীর্ঘদিন থেকে তিনি এই বাড়িতেই গোপনে এসব ব্যবসা করতেন। পরে জানাজানি হয়ে গেলে পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। এখন তিনি এলাকায় এসে সহকারীদের হাতে ‘প্যাকেট’ তুলে দিয়ে চলে যান। সর্বশেষ গত কয়েকমাস আগে তাকে এলাকায় দেখা গিয়েছিল বলে জানান সিকদার পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা। তবে তারা ধরা পড়ায় স্বস্তি বোধ করছেন স্থানীয়রা।

রানার বন্ধু জামাল থাকেন কলাতলীর জমজম হ্যচারী সংলগ্ন বাসায়। তিনিও নিজ বাড়িতেই ২০১২ সাল থেকে এসবের ব্যবসা করেন। স্থানীয়রা এলাকার ড্রা’গ ব্যবসায়ী বলে তার নাম জানায়।

রানা ও জামাল ধরা পড়ার আগে গত সপ্তাহে সিকদার পাড়া এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ড্রা’গের খুচরা ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ও বহিরাগত ক্রেতাদের কারনে বি’রক্ত তারা। তাদের প্রশ্ন, এরা চিহ্নিত হওয়ার পরেও কেন ধরা পড়ছে না। প্রশাসন সবকিছু জানলেও এলাকায় কীভাবে এসবের বিস্তার ঘটছে?

তারা তখন বলেন, আগে গোপনে বিক্রি হলেও ২ বছর ধরে প্রকাশ্যেই ব্যবসা করছে এলাকার সিকদার পাড়া, ভূত পাড়া, নয়া পাড়া, কোনার পাড়া, পূর্ব খরুলিয়া প্রথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। স্থানীয় ক্রেতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে ব্যবসায়ীরা। এরা রাস্তা ও গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে ইভ-টিজিংও করে স্কুলগামীদের।

সিকদার পাড়া মসজিদের সামনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বললেন, এদের কারণে উঠতি বয়সী ছেলেদের নিয়ে বেশি চিন্তায় থাকতে হয়। ব্যবসায়ীদের টার্গেট তো তরুণরাই। অপর এক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, কারা ব্যবসা করে সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কিছু বলতে নাই। বললেই আমরা তাদের টার্গেট হয়ে যাবো। তখন দেখা যাবে, আমাদের উপর উৎ’পাত শুরু হয়া যাবে।

পূর্ব খরুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের গলির এক দোকানি বলেন, যারা সেবন করে, তাদের অত্যা’চারই বেশি। টাকার জন্য এরা এলাকায় ছি’নতাই, বাসাবাড়িতে এমনকি মসজিদের দান বাক্সের টাকা পর্যন্ত চুরি করে।

ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, পুরো এলাকাটাই খারাপ হয়ে গেছে। সিকাদর পাড়া পঞ্চায়েত কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের কারনে এলাকাবাসী অতি’ষ্ঠ। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পঞ্চায়েতের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের বক্তব্যগুলো নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে জানানোর পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। এরপরই অভিযানে রানা ও জামাল আটক হয়। সদর থানা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুম খান আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদেরকে পালাতক আসামী হিসেবে আটক করা হয়েছে।

অ’স্ত্র ব্যবসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরাও শুনেছি তাদের কাছে অ’স্ত্র আছে, তবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেনেছি, তারা পুরনো রোহিঙ্গা। তাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাথে তাদের যোগাযোগটা ভাল। সেভাবেই তারা ব্যবসা চালু রেখেছে। তবে পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Spread the love
  • 3.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.8K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।