❝১ মাসে ৫ লাখ লোকের করোনা হবে, কেন- জানলে চমকে উঠবেন❞

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

করোনা ক্রাইসিসে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আগামী ৩০ দিনে বাংলাদেশের অন্তত ৫ লক্ষ লোক করোনা আক্রা’ন্ত হবে। প্রতিদিন যদি টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭ হাজারও করে, সরকারি হিসেবে আক্রা’ন্ত হবে ২ লক্ষ।

আমার কথা অ’বাস্তব মনে হয়? আজ থেকে ১৫ দিন আগে বলেছিলাম ডেইলি ২শ আক্রা’ন্ত হওয়ার দিন আসছে। এখন এটা আমি বলেদিলাম এবং এর জন্য দায়ী একমাত্র দায়ী সরকার নয়, আমাদের অ’সচেতন, অ’শিক্ষিত, অ-স্বশিক্ষিত বা**দ জনগণ।

গ্রামে কী হইতেছে, আসেন দেখি। দুপুরের পর পোলাপাইন লকডাউন না মেনে মাঠে খেলতেছে। মুরুব্বি মানুষেরা চায়ের দোকানে গোল হয়ে বসে “পাকিস্থান আমলে দেশ কত ভালো ছিলো” তার গবেষণা করতেছে। মসজিদে ম্যাক্সিমাম জামাত চলতেছে। এদেরকে কোনো ইয়াং ছেলে বুঝাতে গেলে তাকে নাস্তিক, বে’য়াদপ ইত্যাদি গালি দেয়া হচ্ছে।

তাহলে আমাকে বুঝান, মসজিদে করোনা আক্রা’ন্তের ভয় না থাকলে করোনা রোগীর জানাযায় কেন হুজুর খুঁজে পাওয়া যায়না? আমাকে বুঝান। সেটাও তো একটি ধর্মীয় কাজ?

অনেকে বলতেছে, ঈমানি জোরের কথা। কিসের ঈমানি জোরের কথা বলেন ভাই? পাকিস্থানে তাবলীগ জামাতের দল থেকে লাহোরে করোনা ছড়াইছে। মালয়শিয়াতে তাবলীগ জামাতের দলকে সরকার ডিটেক্ট করেছে করোনার উৎস হিসেবে। দিল্লীতে তাবলীগ জামাতের প্রোগ্রাম থেকে আউটব্রেক হয়েছে। কোথাকার কোন ঈমানী হিসাব করেন ভাইয়েরা?

কত হাদিস দিয়ে দেখাতে হবে আপনাদের? এমনকি নবীজি (সাঃ)ও বলেছেন মহামা’রীর সময় দুরত্ব বজায় রাখতে এবং ঘরে নামাজ পড়তে।

তাহলে আপনারা এইটাও কথা দেন করোনা আক্রা’ন্ত হলে চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে যাবেন না। আপনেরা হুজুরের পানি পড়া খাবেন। রাজি আছেন?

আপনারা ভাবতেছেন ইসলামের সাথে শত্রু’তাবশতঃ এমনটা বলা হচ্ছে। তার মানে কি আপনারা বলতে চান ইরান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতের মত দেশগুলোও ইসলামের শ’ত্রু? আপনাদের কানের কাছে কয়শবার মাইক বাজাবো করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে গেছে। এ দেশে আমেরিকার সাথে পাল্লা দিবে ভাইরাস। করজোড়ে বলি ঘরে নামাজ পড়েন।

অনেকে বলেন বাজার খোলা ব্যাংক খোলা, খালি মসজিদের দোষ! মাথার মধ্যে সামান্যতম ঘিলু থাকলে বুঝতেন বাজারেও খুব দরকার ছাড়া না যেতে অনুরোধ করেছে সরকার। এবার আসি বাজারের ক্ষেত্রে, প্রতিদিন বাজার না করলে কিছু বাঙালীর পেট ভরেনা। কারওয়ান বাজারে এখনো প্রতিদিন অন্তত ২ লক্ষ লোক বাজারে যাচ্ছে। কারওয়ান বাজার বাদ দিলাম, মফস্বলের বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লক্ষ লোক বাজারে যাচ্ছে। কারো মানা শুনতেছে না।

এমনকি অনেক পয়সাওয়ালা লোক, এদের স্বভাব হইল ডেইলি বাজার করা। আধা লিটার তেল কিনবে, আধাকেজি সব্জি কিনবে। এত ই’তর কেন আপনেরা? ঘরে ফ্রিজ রেখেও ১ কেজি মাছ কিনেন। এত ঘাড়ত্যাড়া কেনো আপনারা?

অন্তত ১ মাসের বাজার কালকের মধ্যে করে ফেলেন। আই রিপিট, ১ মাসের বাজার। রেশনিং করে খাওয়া দাওয়া করেন। এক আইটেম দিয়ে খান। ১ মাসের বাজারে যেন ২ মাস চলে।

এবার আসি এ জাতির আরো কিছু ই’তরামিতে। পাড়ার ছোট দোকানগুলো শাটার নামাইয়া রমরমা ব্যাবসা করতেছে। রাস্তার মাথার এক ছেলেকে কিছু বকশিশ দিয়ে রাখছে। সে ছেলে পাড়ায় পুলিশের গাড়ি ঢুকলে মোবাইলে কল দিয়ে বলতেছে, শাটার নামান, লাইট অফ করেন, পুলিশ ঢুকছে। বা**দের বাচ্চারা পুলিশ, আর্মি তো তোদের ভালোর জন্যই বলছে।

ত্রাণচোরদের গল্প আমরা শুনছি। এবার আসেন শুনি, এ দেশের গরীবের মধ্যেও কয় লেভেলের ই’তর আছে।

নিজে ত্রাণ নেয়, তারপর ছেলেকে পাঠায়, ছেলের বৌকে পাঠায়, নাতিকে পাঠায়। এভাবে ঘরের মধ্যে অন্তত ২০ পরিবারের ত্রাণ স্টক করতেছে। এদের মধ্যে এই মনুষ্যত্ববোধ নাই যে, ত্রাণ সবারই লাগবে। আমি একাই যদি এতটা নেই তাহলে অনেক পরিবার ত্রাণ পাবেনা।

আমরা ত্রাণচোরদের খবর নিতে গিয়েছিলাম দরিদ্র মানুষের সাথে কথা বলতে। ত্রাণ না পাওয়ার করুণ কাহিনী যেমন শুনেছি, তেমন অনেককে দেখেছি, ত্রাণ পেয়েছে কিন্তু আরো পাওয়ার আশায় মিথ্যা বলতেছে- “না আমরা ত্রাণ পাইনি”! অনেকে ঘরে স্টক করে বাইরে বলতেছে দুইবেলা পেটে ভাত পড়েনি কিছু দেন।

আর্মিকে নাকি মানুষ ভয় পায়। গ্রামের বাজারে বাজারে আর্মি মানুষের পা ধরার বাকি রাখতেছে ঘরে যাওয়ার জন্য। আর্মিকে দেখাতে ঘরের দিকে হাঁটা ধরছে আবার আর্মি চলে গেলে ফেরত আসছে।

অন্যদিকে অনেক জায়গায় ত্রাণের জন্য ভীড় করতেছে শত শত মানুষ যেটা কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঝুঁ’কি বাড়াচ্ছে।

আরো একটা ব্যাপার, লকডাউনের নির্দেশ ইয়াং জেনারেশন বেশি মানছে। ফেসবুকিং করে, মুভি দেখে কোনমতে ঘরে আছে। কিন্তু বয়স্ক মানুষেরা কারো কথা শুনতেছে না। এরা বাজারে যাচ্ছে, চা দোকানে আড্ডা দিচ্ছে, মসজিদে যাচ্ছে। কালকে দেখলাম, নামাজ পড়া শেষে বাইরে আড্ডাও দিচ্ছে। এদের আলোচনার বিষয়- এ দেশ কতটা ব্যর্থ! এ দেশ ব্যর্থ, কারণ আপনারা সিনিয়র সিটিজেনরা ব্যর্থ।

ইতালিতে সিনিয়র সিটিজেনরা বলছে- আমরা ঘরে আছি। করোনা হলে হবে। তবে অবস্থা খারাপ থাকলে যেন আমাদের পরিবর্তে তরুণদের আগে চিকিৎসা দেয়া হয়। দেশকে অনেক কিছু দিতে সক্ষম তরুণ সমাজ, ওদের বেঁচে থাকা প্রয়োজন বেশি। আর আমাদের দেশের ম্যাক্সিমাম বয়স্ক মানুষের কাজ হলো ইয়াং জেনারেশনকে গালি দেয়া, বে’য়াদপ বলা, নিজেরা অ’সচেতন থাকা। এদেশে করোনা সবচেয়ে বেশী ছড়াচ্ছে বয়স্ক মানুষের বাইরে ঘোরাফেরা, আড্ডার জন্য।

আরো ক’ষ্টের কথা- এ পর্যন্ত দেশে যে কয়জন করোনা আক্রা’ন্ত হওয়ার পরেও মিথ্যা কথা বলে, লুকিয়ে গ্রাম, মহল্লা পরিবারকে বিপদে ফেলেছে, সবকয়টাই সিনিয়র সিটিজেন বা মধ্যবয়স্ক মানুষ। কুমিল্লায় এক মুফতি, করোনা আক্রা’ন্ত হয়ে তথ্য লুকিয়ে মানুষের সাথে মিশে, মসজিদে জামাত করিয়ে, পুরো একটা গ্রামকে কোয়ারান্টাইনে পাঠাইছে।

মোটকথা, যা ক্ষ’তি হওয়ার হয়ে গেছে। করোনা নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত বিশেষজ্ঞদের মতামত যাচাই করলে জানা যায়, করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ৭০% মানুষের সচেতনতা, সরকারের নির্দেশ মানা, ঘরে থাকার উপর নির্ভর করে। বাকি ৩০% টেকনিক্যাল দিক, যা সরকারের উপর নির্ভর করে। আর এই ৭০% ভূমিকা যে সাধারণ মানুষের রাখার কথা, সে মানুষেরা চা দোকানে আড্ডা দিয়ে সরকারের সমালোচনা করছে। বাজারে যাচ্ছে, মসজিদে যাচ্ছে, মানুষের সাথে মিশতেছে।

আই টেল ইউ, সরকারের এখন পর্যন্ত যত ব্যর্থতা আছে, সেগুলা না থাকলেও এ দেশে করোনা আউটব্রেক হইত। কারণ সাধারণ মানুষ করোনা মোকাবেলার ন্যাশনাল গাইডলাইন মানতেছে না। আপনারা কয়জন জানেন, করোনার মোকাবেলার সরকারি গাইডলাইন সরকার আরো ২ মাস আগেই দিয়ে দিয়েছে?

দ্য ড্যামেজ হ্যাড বিন ডান। এই অ’শিক্ষিত, ই’তর জাতি নিজেরাই নিজেদের কবর খুঁড়েছে। জাস্টিন ট্রুডো কেন, খোদ পুতিন আইসাও এই অতিচালাক ব’দমাশদের কন্ট্রোল করতে পারত না। এখন শুধু সংখ্যা গুণতে থাকেন। উই আর ডুমড।

এখন শুধু একটা কাজ করার বাকি। কে খাইয়া ম’রবে, কে না খাইয়া মর’বে, এই চিন্তা বাদ দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এ দেশের মানুষ স্বভাবে গরীব। একজন রিক্সাওয়ালাও লকডাউনের আগে দিনে ১ হাজার করে কামাত। না খেয়ে ম’রার মত মানুষ এ দেশে খুব কমই আছে।

ঠেকায় পড়লে একটা পেঁয়াজ দিয়াও ভাত খাওয়া যায়। আধপেট খেয়ে মানুষ বছরের পর বছর বাঁচে। ৭১ এ শরণার্থীরা না খেয়ে ছিলো না? কেউত বলে নাই, যু’দ্ধ থামান, খানা দেন।

পাবলিক সেন্টিমেন্টকে অনেক পাত্তা দেয়া হইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ১৪৪ ধারা জারি করেন। পায়ে রাবার বুলেট মা’রা আর টিয়ার গ্যাস ছোড়ার নির্দেশ দেন। বৃহত্তর স্বার্থে ১০/১৫ হাজার অ’সচেতন ব’দমাশকে প’ঙ্গু করলে আমাদের কিছু যায় আসেনা। প্লিজ, অর্ডার ওয়ান ফর্টিফোর। দা’ঙ্গা পুলিশ নামান।

মানবাধিকার মাই ফুট। মানুষ না বাঁচলে মানবাধিকার কিসের?

লেখক: ওয়ারিশ আজাদ চৌধুরী
পরিচিতি: লেখক এবং সমাজকর্মী।

Spread the love
  • 65
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    65
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।