তারাবির নামাজ ঘরে বসে পড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

সময় এখন ডেস্ক:

রমজান মাসে ঘরে বসে তারাবি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ পরামর্শ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সৌদি আরবে পর্যন্ত মসজিদে নামাজের জন্য জমায়েত হওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা সব জায়গা সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভ্যাটিকান সিটিও সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবাদত তো আপনি যে কোনও জায়গায় বসে করতে পারেন। কাজেই ঘরে বসে নামাজ আদায় করুন। এখন তো ইবাদতের একটি বড় সুযোগ এসেছে।

ঘরে বসে তারাবির নামাজ পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা ঘরে বসে তারাবি পড়েন। যে যার মতো করে পড়েন। আল্লাহকে ডাকতে হবে। ইবাদত করতে হবে আপনার মতো করে। যতটা ডাকতে পারবেন, সেটাই আল্লাহ কবুল করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। আসন্ন রমজানে যাতে পণ্য ও খাদ্য পরিবহন ব্যা’হত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যা’হত হয়েছে। আমরা যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু বিদেশে বাঙালিরা ততটা সুরক্ষা পায়নি। অনেক দেশেই অনেক বাঙালি মৃ’ত্যুবরণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আঁধার কেটে যাবেই। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করোনা মোকাবিলায় অবশ্যই সফল হবো।

পুরো দেশ করোনা-ঝুঁ’কিপূর্ণ: ঘোষণা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

করোনা ভাইরাসের সংক্র’মণের ঝুঁ’কিতে এখন পুরো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরকারিভাবে এ বিষয়টা স্বীকার করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পুরো দেশকেই করোনা ভাইরাসের সংক্র’মণের জন্য ঝুঁ’কিপূর্ণ এলাকা বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই ঘোষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্র’মণ ঘটেছে। হাঁচি, কাশি ও পরস্পরের মেলামেশার কারণে এ রোগের বিস্তার ঘটে। বিশ্বে এ রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, এর একমাত্র প্রতিষধক হচ্ছে পরস্পর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা। যেহেতু একে অপরের সঙ্গে মেলামেলা নিষি’দ্ধ করা ছাড়া সংক্র’মণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় সে কারণেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রোগের সংক্র’মণ ঘটেছে। তাই সংক্রা’মক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূ’ল) আইন, ২০১৮ এর ১১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্র’মণের ঝুঁ’কিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হলো।

সংক্র’মিত এলাকার সবার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্র’মণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে, অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। আদেশে আরও বলা হয়, এক এলাকার থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না।

এ আাদেশ অ’মান্যকারীদের বিরু’দ্ধে সংক্র’মণ আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বলা হয় ঘোষণাতে।

এছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সরকারি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। এ আদেশ আজ বৃহস্পতিবার থেকে জারি হলো বলেও জানানো হয় ঘোষণাতে।

Spread the love
  • 273
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    273
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।