খু’নি মাজেদের ছিল ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার ও ভোটার কার্ড, কিনেছিল ফ্ল্যাট!

0

সময় এখন ডেস্ক:

দুটি নম্বরে প্রতিদিন নিয়মিত ফোন করে বাংলাদেশে কথা বলতেন বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকারী আব্দুল মাজেদ। নম্বর দুটি হল: +৮৮০১৫৫২৩৮৭৯** এবং +৮৮০১৭১১১৮৬২**। আর এই ফোনালাপই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে!

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে মাজেদের পরিবারের সদস্যদের ফোন ট্র্যাপ করে রাষ্ট্রীয় কোনো এজেন্সি। ফলে মাজেদ কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, সে তথ্য জানা যায়। এরপরই তাকে গ্রেপ্তারের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়।

তবে কলকাতা শহরে মাজেদের অবস্থান জানতে সম্ভবত ভারতের কোনও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নেন বাংলাদেশি এজেন্সি। যদিও এ বিষয়ে কোনও সরকারই মুখ খোলেনি। তবে তদন্তে জানা গেছে, কলকাতায় মাজেদ যে দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন, তার একটিও নিজের নামে ছিল না। তিনি স্ত্রীর নামে সিম কার্ড কিনেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লিগ সরকার গঠন করার পর রাতারাতি দেশ ছাড়েন মাজেদ। সে সময় ভারত হয়ে লিবিয়া ও পাকিস্থানে চলে যান তিনি। কিন্তু সুবিধা করতে না পারায় সেখান থেকে কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় কি কোনও ক্ষমতাশীল ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছিলেন মাজেদ? এ প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মনে। মাজেদের পার্ক স্ট্রিটের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।

ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ওই পাসপোর্ট বানানো হয়েছে। নিয়ম মেনে পার্ক স্ট্রিট থানা পুলিস ভেরিফিকেশন করার পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে হাওড়া উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সব কাগজপত্রই ছিল মাজেদের। আধার কার্ডও বানিয়েছেন তিনি। তার আধার কার্ডের নম্বর হল- ৭৯৪১ ৯৫৯১ ২৮৬৪। এছাড়াও ২০১২ সালে মাজেদ সচিত্র ভোটার কার্ড বানিয়েছিলেন।

মাজেদের স্ত্রী সেলিনা ওরফে জরিনাকে জিজ্ঞাসা’বাদ করে জানা গেছে, ঘড়ির কাঁটা মেপে চলতেন মাজেদ। এমনকি খাবার দিতে সামান্য দেরি হলে রেগে যেতেন তিনি।

মাজেদ নি’খোঁজ রহস্যের তদন্তে নেমে ভারতীয় গোয়েন্দারা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হন, বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তাকে কেউ জোর করে নিয়ে যায়নি। তেমন হলে চিৎকার কিংবা ধ’স্তাধ’স্তির প্রমাণ থাকত। একজন হলেও প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যেত। এর অর্থ মাজেদ স্বেচ্ছায় ওই ৪ ব্যক্তির সঙ্গে গিয়েছিলেন। তবে কি সেদিন মাজেদের পরিচিত কাউকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল?

ভারতীয় গোয়েন্দারা জানান, সুদের কারবার ও টিউশনির টাকায় মাজেদের সংসার চললেও সম্প্রতি তালতলা এলাকায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বুক করেন মাজেদ। গোয়েন্দাদের ধারণা, সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে টাকা আসত মাজেদের কাছে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাটে আর পা দেওয়া হয়নি তার। তার আগেই যবনিকার প’তন ঘটলো।

দৈনিকবর্তমান

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।