কলকাতা থেকে রওনার দিন ৪ জন অনুসরণ করে মাজেদকে

0

সময় এখন ডেস্ক:

কলকাতা থেকে উধাও হওয়ার দিন বঙ্গবন্ধুর খু’নি ক্যাপ্টেন (বরখা’স্ত) আবদুল মাজেদকে ফলো করা ৪ জনের পরিচয় খুঁজছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।

ফাঁ’সি কার্যকর হওয়া আব্দুল মাজেদ সিলেটের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করছে ভারতের গোয়েন্দারা। মাজেদ কলকাতায় বাস করলেও কয়েকশ’ কিলোমিটার ঘুরপথে গুয়াহাটি-শিলং হয়ে বাংলাদেশে ঢোকেন। তাকে নিয়ে কলকাতার দৈনিক বর্তমানের করা প্রতিবেদনের একটি পর্বে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে, মাজেদ নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরেছেন, না কি কেউ তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে সেটা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না ভারতীয় গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কলকাতা পুলিশ জানায়, যেদিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সেদিন মাজেদকে অনুসরণ করেছেন ৪ ব্যক্তি। একপর্যায়ে মাজেদের সাথে কথাও বলেছেন তারা।

ভারতীয় ‘দৈনিক বর্তমান’ তাদের প্রতিবেদনে বলছে, অনুসরণকারী ওই ৪ জনের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা।

গত ৬ এপ্রিল মাঝরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হন মাজেদ। সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, কলকাতায় মাজেদ নিজেকে আবদুল মজিদ পরিচয় নিয়ে পলাতক ছিলেন। এর আগে লিবিয়া ও পাকিস্থানেও লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবদুল মাজেদ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান। পরে ভারত থেকে পালিয়ে প্রথমে যান লিবিয়ায়। সেখান থেকে আসেন পাকিস্থানে। লিবিয়া ও পাকিস্থানে সুবিধা করতে না পেরে আবারও ভারতে ফেরেন। বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করার পর গত ৩-৪ বছর ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন কলকাতায় অবস্থান করার সময় পলাতক খু’নি আবদুল মাজেদ তেমন কিছু করতেন না। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ ছিল তার। দেশে ফেরার পর মিরপুর ডিওএইচএস-এর ১ নম্বর সড়কের ১০/এ বাসায় ওঠেন। গোপনসূত্রে তথ্য পেয়ে গোয়েন্দারা তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করে আদালতে পাঠান।

আদালতে আবদুল মাজেদকে ধানমন্ডি থানার ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় (সন্দেহমূলক) বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা মামলায় রেফারেন্সসহ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং গ্রেপ্তারের পর কারাগা’রে রাখার আবেদন করে পুলিশ। আবেদন মঞ্জুর করে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা মামলায় তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে গত ১২ই এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে মাজেদের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করা হয়।

Spread the love
  • 333
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    333
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।