এটাই কি শেখ হাসিনার সবচেয়ে দুর্বল মন্ত্রিসভা?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা মোকাবেলায় যখন ব্যতিব্যস্ত পুরো দেশ এবং স’ঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, তখন অনেক মন্ত্রীর দক্ষতা, যোগ্যতা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা হেলায় সুযোগ হারিয়েছি। অ’পরিণামদর্শী আচরণ এবং কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বহীনতা, অ’দক্ষতার কারণে আজ ক্রমশ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এই মন্ত্রিসভা নিয়ে শুরু থেকেই নানারকম প্রশ্ন ছিল, নানারকম কথাবার্তা ছিল, এখন এই প্রশ্নগুলো আরো বড় হয়ে আসছে। বিশেষ করে করোনার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা আদৌ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে। সাথে সাথে এই প্রশ্নও উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, এটা ‍কি তার সবথেকে দুর্বল মন্ত্রিসভা?

এই প্রশ্নের উত্তর আপেক্ষিক এবং কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে, কোন মন্ত্রিসভা কতটা ভালো বা খারাপ ছিল। তবে একটি মন্ত্রিসভাকে মূল্যায়ন করা হয় দেশের যেকোন স,ঙ্কটে সেই মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করেন, কীভাবে জনগণের আস্থার প্রতিদান রাখেন, তার উপর। সেই বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে দক্ষতা প্রয়োজন, তার কমতি রয়েছে মন্ত্রীদের। এর পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করা যাক-

ব্যাবসায়ীদের প্রাধান্য

এই মন্ত্রিসভায় ব্যাবসায়ীদের একটি বড় প্রাধান্য রয়েছে। মন্ত্রিসভার অন্তত এক তৃতীয়াংশ বড় ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন এবং একটি বড় অংশ গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে জড়িত। এ কারণে এই মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ-ও তাদের মাঝে নেই। এ কারণে তারা যে কোনো সমস্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।

আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য

মন্ত্রিসভার নাকের ডগায় বসে আছেন সচিব এবং আমলারা। আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য থাকায় মন্ত্রীদের হাত-পা বাঁধা, তারা কোন কিছু করতে পারছেন না। এটাও মন্ত্রিসভার ব্যর্থতার একটি বড় কারণ।

জনবিচ্ছি’ন্নতা এবং জন-আস্থার স’ঙ্কট

যারা মন্ত্রী হয়েছেন তাদের খুব কমই জনপ্রিয় নেতা এবং জনগণের কাছে তারা তেমন পরিচিত বা জনপ্রিয় নন। ফলে তাদের প্রতি জন-আস্থার স’ঙ্কট বা জনবি’চ্ছিন্নতার কারণে এই মন্ত্রিসভা ব্যর্থ হচ্ছেন বলে অনেকে মনে করছেন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে অ’দক্ষতা

এই মন্ত্রিসভার অধিকাংশ মন্ত্রী মন্ত্রীত্বকে একটি চাকরি মনে করছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতস্ততা, দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। ছোটখাটো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তারা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে চুপচাপ বসে থাকেন। ফলে বড় ধরণের সমস্যা তৈরি হয়। সেটাও এই মন্ত্রিসভার ব্যর্থতার একটি বড় কারণ।

অধিকাংশ মন্ত্রীদেরই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে অধিকাংশ মন্ত্রীর দীর্ঘ বা স্বল্প মেয়াদী কোন পরিকল্পনা নেই। মন্ত্রীত্বকে তারা মনে করছেন চাকরি, আর তাই তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ২১ বছর পর প্রথম ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন তিনি একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি ২য় বারের মতো ক্ষমতায় এসে আনকোড়াদের নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন, কিন্তু সেই মন্ত্রিসভাও অনেক সফল হয়েছিল। আর ২০১৪ সালে যে মন্ত্রিসভা আওয়ামী লীগ তৈরি করেছিল সেই মন্ত্রিসভাকেও অনেকে সফল মনে করেন। সেই মন্ত্রিসভাও অনেকগুলো সমস্যা-স’ঙ্কট মোকাবেলায় সফল হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিসভা একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে জ’র্জরিত। বিভ্রা’ন্ত হচ্ছেন মন্ত্রীরা এবং অনেক মন্ত্রীই জানেন না তাদের কী করতে হবে। আর এ কারণেই অনেকে মনে করছেন এই মন্ত্রিসভাই সবথেকে দুর্বল মন্ত্রিসভা কি না, এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আরো অপেক্ষা করতে হবে।

শেখ হাসিনা যাদেরকে মন্ত্রিত্ব দেন তাদেরকে যথেষ্ট সময় দেন, এই মন্ত্রিসভার মেয়াদ এখনো পূরণ হয়নি, তাই মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, করোনার মতো মহামা’রি মোকাবেলা করতে এই মন্ত্রিসভা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে না পারেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে পারেন তাহলে এই মন্ত্রিসভা ব্যর্থ না সফল সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো জানা হয়ে যাবে সবার।

Spread the love
  • 386
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    386
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।