যে কারনে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ঝুঁ’কি কমছে

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সে সময় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশে ৩ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল যে, ইতালি এবং ইউরোপ থেকে যে সমস্ত অভিবাসী বাংলাদেশি ফিরেছেন, তাদের মাধ্যমে এই করোনা সংক্র’মণ ছড়িয়েছে। খুব শিগগিরই এটা সামাজিক সংক্র’মণে রুপ নেবে এবং বাংলাদেশে করোনা ভ’য়াবহ আকার ধারণ করবে।

কিন্তু সেই ইতালি ফেরত প্রবাসীদের আসার প্রায় ৪ সপ্তাহ অতিবাহিত হচ্ছে। প্রথম করোনা রোগী শনাক্তকরণেরও ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে করোনার ব্যাপক বিস্তৃতি হয়নি। সর্বশেষ যে তথ্য তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৬০২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রা’ন্ত পাওয়া গেছে ৫৪ জন। এদের মধ্যে আবার ২৬ জন সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে গেছেন। আর মা’রা গেছেন ৬ জন।

অন্যান্য যেসব দেশে করোনা ম’হামারী আকার ধারণ করেছে, যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন; এই দেশগুলোতে দেখা গেছে, ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে করোনার বিস্তৃতি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে এবং ম’হামারী আকার ধারণ করেছে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ৩ সপ্তাহ পর এদেশে করোনার বিস্তৃতি ব্যাপক আকারে হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ১ সপ্তাহ যদি এই বৃদ্ধির জ্যামিতিক হার লক্ষ্য না করা যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশ আপাতত করোনা ম’হামারীর সম্ভাবনা এড়াতে পেরেছে এবং এদেশ করোনার ঝুঁ’কি থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসবে।

বাংলাদেশে করোনার ঝুঁ’কি কমছে কেন, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে ৫ রকমের মতামত পাওয়া গেছে।

প্রথমত; করোনা সংক্র’মিত এলাকা থেকে যে অভিবাসীরা আসার পর ইতিমধ্যে ১৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। করোনা সংক্র’মিত হওয়ার জন্য এই ১৪ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ ইউরোপ, বিশেষ করে ইতালি থেকে আগতদের মধ্যে যারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানেননি, তাদের প্রত্যেকেরই প্রায় ১৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও ৭ দিন যদি অপেক্ষা করা যায়, তাহলে মোটামুটি একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সেজন্য এই ১৪ দিনের মধ্যে যেহেতু করোনার ব্যাপক বিস্তৃতি হয়নি। সেজন্য ধারণা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে করোনার ঝুঁ’কি আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

দ্বিতীয়ত; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনার ঝুঁ’কি কমার কারণ হলো নতুন যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তাদেরকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী নামানোর পর থেকেই দেখা যাচ্ছে যে, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থাটা অত্যন্ত কঠোরভাবে আরোপ করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে তারা যে সংক্র’মণ ঘটাবেন এ রকম সম্ভাবনা ক্রমশঃ কমে আসছে।

তৃতীয়ত; বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন, এখন পর্যন্ত যেভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাতে আইইডিসিআর মনে করছে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সামাজিক সংক্র’মণ খানিকটা হয়েছে। তবে এর ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেনি। কারণ মিরপুরের টোলারবাগসহ যে সব জায়গায় সামাজিক সংক্র’মণ ধরা পড়েছিল সেই এলাকাগুলোকে তাৎক্ষণিক সফলভাবে বিচ্ছি’ন্ন করা হয়েছে। যার জন্য সামাজিক সংক্র’মণ ততটা বিস্তৃত হয়নি।

চতুর্থত; বিশেষজ্ঞদের মতে, এদেশের মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরো’ধ ক্ষমতা অনেক বেশি। যার কারণে করোনা ভাইরাস বাংলাদশের মানুষের ওপর খুব বড়সড় আঘা’ত হানতে পারেনি এবং ব্যাপক বিস্তৃতও হতে পারেনি।

পঞ্চমত; বাংলাদেশে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে করোনার প্র’কোপ যেমন বিস্তৃত হয়নি, তেমনি আস্তে আস্তে করোনার বিস্তৃতিও কমছে। কারণ ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনলজির (এমআইটি) সর্বশেষ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, করোনা আক্রা’ন্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশই হলো শীতপ্রধান এলাকা। আর মাত্র ১০ শতাংশ হলো উষ্ণ অঞ্চল। যদিও তত্ত্বটি এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উষ্ণ এলাকায় করোনা ভাইরাস বেশিক্ষণ টিকতে পারছে না। এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

এ সমস্ত কারণেই বাংলাদেশ ক্রমশ করোনার ম’হামারী ঝুঁ’কি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, আগামী ৭টি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৭ দিন যদি বাংলাদেশে করোনা সংক্র’মণের বিস্তৃতি না ঘটে তাহলে বাংলাদেশে করোনা ম’হামারী আকার ধারণ করবে না বলেই মনে করা যায়।

তবে আরও কিছুদিন ধরে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব এবং সভা সমাবেশের মতো কর্মসূচীগুলো যদি আমরা এড়িয়ে যেতে পারি তাহলে হয়তো আমরা করোনা ম’হামারী থেকে এ যাত্রায় পরিত্রাণ পেতে পারবো।

Spread the love
  • 2.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।