কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তির স্বজনদেরও মসজিদে না যাওয়ার নির্দেশ

0

সময় এখন ডেস্ক:

হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের মসজিদ, মন্দিরসহ যে কোনো জনসমাগমে যেতে নিষে’ধ করা হয়েছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে যাদের জ্বর, সর্দি-কাশি তাদেরও এ নির্দেশ মানতে বলা হয়েছে। এটি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণসহ প্রশাসনকে কঠোর ও তৎপর হতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অ’মান্যকারীদের বিরু’দ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করা হয়।

হোম কোয়ারান্টাইন অ’মান্যকারীদের বিরু’দ্ধে আরও কঠোর হতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে, তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। হোম কোয়ারান্টাইন ভ’ঙ্গ করলে তাদের বিরু’দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। হোম কোয়ারান্টাইন কঠোরভাবে মানতে হবে নইলে পুরো জাতিকে এ জন্য ভুগতে হবে। হোম কোয়ারান্টাইন মানার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়।

হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনদেরও মসজিদে বা জনসমাগম স্থলে না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বির’ত রাখতে স্থানীয় জনগণকে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়।

মসজিদ বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বলা হয়, হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের স্বজনরা যেন মসজিদ, মন্দির বা কোনো জনসমাগম স্থলে না যায়। এছাড়া যাদের জ্বর, সর্দি-কাশি তারাও যেন মসজিদে না যান। এছাড়া গত ৩ মাসে যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের তালিকা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। যাতে প্রশাসন এসব ব্যক্তিদের মনিটরিংয়ের আওতায় আনা যায়।

৩ মাসের মধ্যে যারা এসেছেন তাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা, তারা কেউ অসুস্থ হয়েছিলেন কিনা, গত ১ মাসের মধ্যে যারা এসেছেন তাদেরও খোঁজ নিয়ে কোনো লক্ষণ না থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু যারা গত ১৫ দিনের মধ্যে এসেছেন তাদের মনিটরিংয়ে আনতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে হোম কোয়ারান্টাইন বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। সরকারের সব কিছু মনিটরিং করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকার কথা জনগণকে জানাতে বলা হয়। যাতে মানুষ আত’ঙ্কিত না হয়।

আপাতত ট্রান্সপোর্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেই বলে সভায় জানানো হয়। তবে কারও জ্বর, সর্দি-কাশি হলে তাদের যাতায়াত না করতে বলা হয়েছে।

সচিবালয়ের কেবিনেট ডিভিশন থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সে নেতৃত্ব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

সচিবালয়ের কেবিনেট ডিভিশন থেকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, স্বাস্থ্য সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।

Spread the love
  • 106
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    106
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।