যুবরাজের নির্দেশে সৌদিতে ২৯৮ সরকারি কর্মকর্তা আটক

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দুর্নীতিবিরো’ধী অভিযানের নামে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি আরবে গত কয়েক দিনে অন্তত ৬৭৪ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরু’দ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। ২৯৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন অথরিটি’ (নাজাহা) রোববার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, আটকদের বিরু’দ্ধে ঘুষ, অর্থ আত্ম’সাৎ ও ক্ষমতার অপ’ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। খবর আল জাজিরার।

এদের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ ৮ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আরও আছেন ২ বিচারক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৯ কর্মকর্তা। তাদের বিরু’দ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ফের শুরু হয় অভিযান। রাজ পরিবারের ৩ সিনিয়র সদস্যকে আটক করে সরকার। আটকদের মধ্যে ছিলেন- বাদশাহ সালমানের ছোট ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ এবং ভাতিজা প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ। তাদের বিরু’দ্ধে ষড়’যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতা সুসংহত করতে ও তাড়াতাড়ি বাদশাহ’র সিংহাসনে বসতে দুর্নীতির অভিযানের নামে বিরো’ধীদের হয়রা’নি করছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

মোহাম্মদ যুবরাজ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাস পরই তথাকথিত দুর্নীতি দমন সংস্থা গঠন করেন। তার নেতৃত্বে ২০১৭ সালের নভেম্বরে শুরু হয় দুর্নীতিবিরো’ধী অভিযান, ব্যাপক ধরপাকড়।

এতে সৌদি রাজপরিবারের প্রায় ২ শতাধিক প্রিন্স, মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটকদের পাঁচ তারকা হোটেল রিৎজ শার্লটনসহ রাজধানী রিয়াদের বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেলে ব’ন্দি করে নিপী’ড়ন করা হয়। যে কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল ‘ব্ল্যাকওয়াটার’ নামক একটি মার্কিন কু’খ্যাত ভাড়াটে সংস্থাকে।

১ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ অভিযানে সম্পত্তি ও নগদ অর্থসহ ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি জরি’মানা হিসেবে কোষাগারে জমা হয়। আটক হওয়াদের মধ্যে অনেকেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে জরি’মানা দিয়ে মুক্তি পান।

সে সময় যুবরাজের এ অভিযান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ দুর্নীতিবিরো’ধী অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন যুবরাজ।

Spread the love
  • 189
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    189
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।