শেখ হাসিনা কি তবে ব্যর্থ হচ্ছেন?

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষীকি সমাগত প্রায়, ১৭ মার্চ থেকে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উৎসব পালন করা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের এটি মনে হয় সবচেয়ে বড় অর্জন যে তিনি ক্ষমতায় থেকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করছেন। জাতির পিতার যে স্বপ্ন ছিল সেই পথেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত দেশ হবে। বাংলাদেশ একটি সম্মান এবং মর্যাদার দেশ হবে। সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে বন্দনা করবে। জাতির পিতা যু’দ্ধ বিধ্ব’স্ত একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেই স্বপ্নের পথেই হাঁটছিলেন। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর বাঙালি জাতির বিপরীত যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ ক্রমশঃ একটি পরনির্ভর এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। কিন্তু ৯৬ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে শেখ হাসিনা দেশকে নবযাত্রার দিকে এগিয়ে নিয়ে আসেন।

মাঝখানে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে জ’ঙ্গিবাদ, মৌ’লবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রা’স মাথাচড়া দিয়ে উঠলেও আবার ২০০৮ সাল থেকে টানা ১১ বছর তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যেমনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ স্বাধীনতার পর তিনি মুক্তির সংগ্রামের পথে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই মুক্তি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি।

বাংলাদেশ এখন অর্থনীতিক মুক্তির দ্বারপ্রান্তে। এই সব সাফল্যের পরও মুজিববর্ষের প্রাক্কালে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন, আওয়ামী লীগকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কি শেখ হাসিনা ব্যর্থ হয়েছেন? আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে রাখতে গিয়ে কি শেখ হাসিনা ব্যর্থ হচ্ছেন?

এই কারণগুলো সাম্প্রতিক সময় আলোচনা হয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা রকম অ’পকর্ম, দুর্নীতি, দু’র্বৃত্তায়ন এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নানা রকম অ’পকর্মের কারণে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে অনেক ভালোবাসতেন। আওয়ামী লীগের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। দলের জন্য তিনি মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করেছিলেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে ত্যাগী, পরীক্ষিত নিষ্ঠাবান কর্মীরা এক গণজাগরণ তৈরী করেছিলেন এবং সেই গণজাগরণের মাধ্যমে ৬৯’র গণঅ’ভ্যুত্থান হয়েছিল, ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল, ৭১’র মুক্তিযু’দ্ধে শুধুমাত্র জাতির পিতার এক ডাকে মানুষ তার জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সেই আওয়ামী লীগ আর আজকের আওয়ামী লীগ কি এক?

আওয়ামী লীগে যখন পাওয়া যাচ্ছে পাপিয়া, সম্রাট কিংবা ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতাদেরকে, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে আওয়ামী লীগের আদর্শের মান কোথায়? শুধুমাত্র সম্রাট, পাপিয়া জি কে শামীম নয়, আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে এখন নানা অ’নৈতিক কর্মকাণ্ডের উৎসব। দলের অনেক নেতার কাছেই এখন দল, সংগঠন, পদ পদবি হলো টাকা বানানোর মেশিন। অনেকেই মনে করেন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে টেন্ডারবাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অ’নৈতিক কর্মকাণ্ড করাটাই হলো সবচেয়ে বড় কাজ। অনেকে দলীয় পদ পাওয়ার জন্য টাকা পয়সাও দেন। এই রোগ এখন তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। তৃণমূলের অনেকে এখন মনে করেন, একটি পদ থাকলেই তারা ক্ষমতার দাপট দেখাতে পারবেন। কিন্তু জাতির পিতা তার সাংগঠনিক নীতিতে সবচেয়ে যে বিষয়টিকে ঘৃ’ণা করতেন তা হলো, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জনগনের ওপর দা’পট দেখানো। জাতির পিতা একটি শক্তিশালী সংগঠনের রুপকল্প করেছিলেন। এজন্যই আওয়ামী লীগ বারবার নির্যা’তিত হওয়ার পর আবার জ্বলে উঠেছে। ৭৫’র ১৫ আগস্টের নি’র্মমতার পরেও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে জাতির পিতার আদর্শের ওপর ভর করে। তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ কি জাতির পিতার আদর্শের সংগঠন হিসেবে আছে?

জাতির পিতা যেভাবে আওয়ামী লীগকে একটি আদর্শ নির্ভর, ত্যাগী এবং মানুষের কল্যানকামীতার সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন সেই সংগঠন কি আওয়ামী লীগ আছে?

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা এই সমালোচনার জবাবে বলেন, পথভ্র’ষ্ট, নীতিভ্র’ষ্ট নেতাকর্মীর সংখ্যা মাত্র অল্প কয়েকজন। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী আন্তরিক নিবেদিত প্রাণ এবং দলের জন্য উৎসর্গীকৃত। এরাই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। তবে তারা এটাও স্বীকার করেন, পথভ্র’ষ্ট এবং উড়ে এসে জুড়ে বসা বা হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের চিহ্নিত করে যদি তাদেরকে এখনই সরিয়ে নেওয়া না যায়, তাহলে আওয়ামী লীগকে নিয়ে জাতির পিতার যে স্বপ্ন তা ফিকে হয়ে যাবে।

লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী
পেকুয়া, কক্সবাজার

Spread the love
  • 96
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    96
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।