মিয়ানমারের পক্ষেই দাঁড়িয়ে গেলেন ড. ইউনূস!

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যা’তন, নিপী’ড়ন ও গণহ’ত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে মিয়ানমার। সারাবিশ্ব বলছে মিয়ানমারকে বয়কট কর, মিয়ানমারের সঙ্গে সব ব্যবসা বন্ধ কর। আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরু’দ্ধে গণহ’ত্যার বিচার চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের বিরু’দ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ফলে মিয়ানমার যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চাপে পড়েছে, তখনই মিয়ানমারের জন্য এক পশলা সুবাতাস নিয়ে হাজির হলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

১২ লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা মিয়ানমারের একটি সংস্থাকে (প্রক্সিমিটি ডিজাইনস) ১৭ কোটি টাকা ঋ’ণ দিল ইউনূসের গ্রামীণ ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল (জিসিএ) ফাউন্ডেশন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূস যেটা করেছেন সেটা মিয়ানমারের জন্য শুধুমাত্র ঋ’ণ নয়, বরং ধুঁ’কতে থাকা মিয়ানমারকে বিপুল শক্তির যোগান দেওয়া।

ইউনূস সবসময় বাংলাদেশের বিরু’দ্ধে, বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরু’দ্ধে ষড়’যন্ত্র করেন। এর আগে পদ্মা সেতু নিয়ে তিনি সারা বিশ্বে মিথ্যাচার করে বেরিয়েছেন। পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির মিথ্যা গল্পের ষড়’যন্ত্রকারী ছিলেন তিনি। তার কথাতেই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল বিশ্বব্যাংক। এই ইউনূসই বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের স্বার্থহা’নি করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং চালিয়েছেন। আর আজ যখন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য হুম’কির কারণ হয়ে উঠেছে, তখনও নিজ দেশের স্বার্থের বিরু’দ্ধেই দাঁড়ালেন ইউনূস।

গ্রামীণ ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল (জিসিএ) ফাউন্ডেশন নামের যে প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমারের প্রক্সিমিটি ডিজাইনসকে ঋ’ণ দিয়েছে সেটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন ড. মোহাম্মাদ ইউনূস। এর সদরদপ্তর লুক্সেমবার্গে। ২১টি ব্রাঞ্চ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির।

দেশ বিদেশ থেকে কোটি কোটি ডলার অনুদান পাওয়া ইউনূস মিয়ানমারে ঋ’ণ বিতরণ করলেন অথচ দেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য তিনি কিছুই করেননি। সবচেয়ে বড় লজ্জার বিষয় হলো, সারা বিশ্বের শান্তিকামী জনতা যখন মিয়ানমারের শা’স্তির দাবিতে ফুঁ’সছে। তখন শান্তিতে নোবেল জয়ী ইউনূসকে নিপী’ড়িত রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে একটা শব্দও উচ্চারণ করছেন না। যিনি পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে গলা ফাটাতে পারেন, তিনিই কেমন করে রোহিঙ্গা নিপী’ড়ন নিয়ে চুপ থাকতে পারেন সে প্রশ্ন উঠছেই। উল্টো তিনি মিয়ানমারকে ঋ’ণ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে এই দেশটির পক্ষেই নিজের অবস্থান জানান দিলেন। একই সঙ্গে রক্তপিপাসু সু চির পাশেই দাঁড়িয়ে গেলেন ইউনূস।

রোহিঙ্গা নিপী’ড়নের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল কেড়ে নেওয়ার দাবি উঠছে বিশ্বজুড়ে। ঠিক সেই একই কারণে ইউনূসের নোবেলও কেড়ে নেওয়া উচিৎ বলে মনে করছেন অনেকেই।

সবচেয়ে বড় কথা, যারা শান্তিতে নোবেল জয় করে বিশ্ববাসী আশা করে যে, তারা মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে, অ’ন্যায়ের বিরু’দ্ধে সোচ্চার হবে। সেটা না করে এই নোবেল জয়ীরাই যখন নৃশং’স, হী’ন ষড়’যন্ত্রে মেতে ওঠে তখন প্রশ্ন জাগে নোবেলজয়ী শব্দটা তাদের নামের সাথে থাকলেও সেটার আসলেই কি কোনো মূল্য আছে? ধি’ক্কার ইউনূস, সু চিদের মতো তথাকথিত নোবেলজয়ীদের, যাদের কাছে মানবতা বড় নয়, নিজেদের স্বার্থ হাসিল করাটাই যাদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়।

লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী
পেকুয়া, কক্সবাজার

Spread the love
  • 63.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    63.7K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।