নির্বাচনী প্লাস্টিক ব্যানার থেকে তৈরি হলো পথশিশুদের স্কুল ব্যাগ

0

ফিচার ডেস্ক:

নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ব্যানার দিয়ে স্কুল ব্যাগ তৈরি করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

নিজেদের ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এতদিন আকাশ দেখা যেতো না প্রতিশ্রুতির ব্যানারে, সে ব্যানারগুলোই এখন চলে যাচ্ছে আবর্জনার ভাগাড়ে। সুন্দর নগরীর পরিবর্তে বর্ষাতে নগরবাসীকে এই ব্যানারগুলো উপহার দেবে জলাব’দ্ধতা, ভেঙে পড়বে ড্রেনেজ সিস্টেম।

আবার এই ঢাকাতেই অনেক পথশিশু আছে যারা থলের অভাবে তাদের কাপড় সংরক্ষণ করতে পারে না। আমাদের এতিমখানার শিশুরা বর্ষায় স্কুলে যেতে পারে না বই ভিজবে বলে।

তাই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ব্যানারগুলোকে ব্যাগে রূপান্তর করে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে, সেখান থেকে শুরু হোক সুনাগরিকের শিক্ষা।

বিনামূল্যে এই ব্যাগগুলো বিতরণ করা হবে ছিন্নমূল পথশিশুর মাঝে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে তার ক্যাম্পেইনের কয়েকশ ব্যানার বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে উপহার দিয়েছেন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তারা বলছেন, এভাবে যদি প্রার্থীরা এগিয়ে আসেন, তবে ১ হাজার ব্যাগ উপহার দিতে পারবো।

বইমেলায় পুরাতন-বাতিল জিনিসের বিনিময়ে বই দিচ্ছে ‘বিদ্যানন্দ’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার বই বিক্রিতে এক্সচেঞ্জ অফার দিচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। পুরাতন ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল বা ও’ষুধের বিনিময়ে বিদ্যানন্দের স্টল থেকে বই কিনতে পারবেন সাধারণ পাঠকরা।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গ্রন্থমেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে বিদ্যানন্দের স্টল (৭৭ নম্বর) ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই এ অফার কাজে লাগিয়ে বই সংগ্রহ করছেন।

অফারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যানন্দের স্টলটিও সাজানো হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া পরি’ত্যক্ত বোতল, পুরাতন খবরের কাগজ, নির্বাচনী পোস্টার, অ’ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রপাতি ও মেয়াদো’ত্তীর্ণ ও’ষুধ দিয়ে সাজানো হয়েছে এ স্টল। পেছনের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষ ও জলজ প্রাণীদের ওপর প্লাস্টিক ব’র্জ্যের ক্ষ’তিকর প্রভাবের চিত্র।

স্টলের বিক্রয়কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা জান্নাত বলেন, অ’ব্যবহৃত জিনিসের পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদের অ’পচয় বন্ধের উদ্দেশ্যেই পুরাতন জিনিসপত্র দিয়ে বই নেওয়ার অফার দিয়েছে বিদ্যানন্দ। কম-বেশি সবার ঘরেই অ’ব্যবহৃত থেকে মেয়াদো’ত্তীর্ণ হওয়ার পথে জীবন র’ক্ষাকারী অনেক ও’ষুধ। বা নতুন মডেলের মোবাইল, ল্যাপটপ এসব কেনার ফলে পুরনোটায় হয়তো ধূলো জমছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ জিনিসগুলো কাজে লাগিয়ে রক্ষা করা যেতে পারে জীবন, প্রচার করা যেতে তথ্য ও শিক্ষার আলো।

বিদ্যানন্দের সংগৃহীত মোবাইল বা ও’ষুধ দেশের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মেডিক্যাল ক্যাম্পে কাজে লাগানো হবে। আর ল্যাপটপগুলো দিয়ে এতিমখানার ল্যাব তৈরি করা হবে বলে জানান সুলতানা জান্নাত।

পুরাতন জিনিস এক্সচেঞ্জে চালু ও ভালো কন্ডিশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ৩ হাজার টাকা, চালু কিন্তু খারাপ কন্ডিশনে থাকলে দেড় হাজার টাকা ও চালু না হলে ৫০০ টাকা সমমানের বই দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে মোবাইলের ক্ষেত্রে চালু ও ভালো কন্ডিশনের থাকলে ১ হাজার, চালু না হলে ২০০ টাকা মূল্যমানের বই দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ও’ষুধের ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ হচ্ছে বাজার দামের অর্ধেক হিসেব করে। তবে ও’ষুধের অবশ্যই মেয়াদ থাকতে হবে।

Spread the love
  • 3.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.2K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।