আপনি কি জানেন, ডালডায় তৈরী হোটেলের খাবার কতটা ক্ষ’তিকর?

0

সময় এখন ডেস্ক:

তেলজাতীয় খাদ্য পরিহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বরাবরই জোরালো থাকে। তবু দিন দিন ঘরে-বাইরে এমন খাবারের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা দেশে হৃদরোগে আক্রা’ন্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে তেল বা চর্বিজাতীয় খাদ্যের ভেতর ক্ষ’তিকর মাত্রায় রাসায়নিককে দায়ী করে আসছিলেন আগে থেকেই।

বিশেষ করে তেল ও ডালডায় ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎ’কণ্ঠার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে দেশে ডালডার ব্যবহার রীতিমতো বিপ’জ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়ে দ্রুত এর বিরু’দ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভোজ্য তেল এবং ডালডা-বনস্পতির মাত্রাতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ (টিএফএ) হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। দেশে এত দিন তেলে ট্রান্স ফ্যাটের কোনো মাত্রা নির্ধারণ করা ছিল না। সম্প্রতি সরকার তা ২ শতাংশ (১০০ গ্রামে ২ গ্রাম) নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডালডায় ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা ১০ শতাংশের ওপরে রয়েছে বলে তথ্য আছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহবুব কবীর মিলন বলেন, ভোজ্য তেল ও ডালডায় ট্রান্স ফ্যাট ২ শতাংশ নির্ধারণ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি ভোজ্য তেল এবং বনস্পতি-ডালডা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক আলোচনায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয় ঠিক করতে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মা’রা যায়। আর এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ অ’স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে ট্রান্স ফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) নামক এক ধরনের চর্বিজাতীয় পদার্থ ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে মৃ’ত্যুঝুঁ’কি তৈরি করে। উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে সার্বিকভাবে মৃ’ত্যুঝুঁ’কি ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। যা হৃদরোগে আক্রা’ন্ত হওয়ার ঝুঁ’কি ২১ শতাংশ এবং হৃদরোগজনিত মৃ’ত্যুঝুঁ’কি ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কাছে থাকা সব শেষ তথ্যানুসারে তেলে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা ২ শতাংশের নিচে আছে। তবে ডালডায় তা ১০-এর ওপরে। আর এই ডালডাই দেশের বেশির ভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁয় ব্যবহার হয়ে থাকে নানা খাদ্য তৈরিতে, যা খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে যায়। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে— এই ডালডায় ট্রান্স ফ্যাট কীভাবে কমিয়ে আনা যাবে সেই পথ বের করা। এটা খুবই কঠিন। যদি সেটা পারা না যায় তবে হয়তো ডালডা নি’ষিদ্ধ করার চিন্তা-ভাবনায় যেতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য খুঁজে দেখা যায়, এখনো বিশ্বের ৫০০ কোটি মানুষ শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণজনিত ঝুঁ’কির মধ্যে রয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাস করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এই অবস্থা পরিবর্তনে ২০১৮ সালে একটি কার্যক্রম হাতে নেয় সংস্থাটি। যেখানে ২০২৩ সালের মধ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত বিশ্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, গবাদি পশু-প্রাণীর অন্ত্রে প্রাকৃতিকভাবে ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। যা ওই সব গবাদি পশুর মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার— ঘি, মাখনে পাওয়া যায়। এ ছাড়া কৃত্রিম বা আংশিক জারিত তেল হিসেবে ভেজিটেবল অয়েলের (পাম, সয়াবিন) সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত করার মাধ্যমে ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। যেমন— ডালডা বা বনস্পতির ভেতরে ২৫-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্রান্স ফ্যাট থাকে।

আজ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস: জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করেছে।

Spread the love
  • 56
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    56
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।