দুই সিটিতেই জিতবে নৌকার প্রার্থীরা || বিশ্লেষকদের মতামত

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

১ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী প্রায় সমান্তরাল গতিতে তাদের স্ব স্ব প্রচারণা চালিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তারা তাদের বার্তাগুলো পৌঁছে দিতে পেরেছে। এই নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের কোনো অ’নিয়মের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো বাধা প্রদানের বিষয়ও চোখে পড়েনি।

দীর্ঘ প্রায় ১ মাসের প্রচারণায় ছোটখাট কিছু সহিং’সতার ঘটনা ঘটেছে। যেই ঘটনা যেকোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রেই বেশ স্বাভাবিক ঘটনা বলেই নির্বাচক বিশ্লেষকরা মনে করেন। সিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে জনমত জরিপ করে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা। সেখানে দেখা গেছে যে দুই সিটি নির্বাচনেই মেয়রপদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

জনমত জরিপের বাইরেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কেন জয়ী হতে পারেন, সেই ব্যাপারেও কতগুলো কারণ ও বিশ্লেষণ করা যাক।

১. উন্নয়ন ভাবনা

ঢাকার ভোটাররা রাজনৈতিক ইস্যুর চেয়ে এই নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন। বিশেষ করে যানজট, জলজট এবং ডেঙ্গুর হাত থেকে মুক্তির বিষয়টি এবার ভোটে প্রাধান্য পেয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা ইভিএম নিয়ে বিত’র্কের মতো বিষয়গুলোকে ভোটাররা তেমন পাত্তা দিচ্ছেন না। আর অন্যান্য ইস্যুতে সাধারণ ভোটাররা সবসময় মনে করছেন, যদি তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তাহলেই উন্নয়নের গতিধারা অ’ব্যাহত থাকবে এবং তারা একটি বাসযোগ্য নগরী পাবে। কারণ বিরো’ধী দলকে ভোট দিলে ঢাকার যে উন্নয়নের গতি থেমে যাবে, সেটা বোঝার জন্য ভোটারদেরকে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়ার প্রয়োজন হয় না। আর এই উন্নয়নের ইস্যুতেই ভোটের ল’ড়াইয়ে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী অনেক এগিয়ে গেছে।

২. বিএনপির নেতিবাচক প্রচারণা

এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি শুরু থেকেই নে’তিবাচক প্রচারণা করেছিল। বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনকে অ’যোগ্য বলেছে, ব্যর্থ বলেছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ করেছে, পাশাপাশি অভিযোগ তুলেছে ইভিএম নিয়ে। বিএনপির পুরো প্রচারণার কৌশলটিই ছিল নে’তিবাচক। এই নে’তিবাচক কৌশলের কারণে সাধারণ মানুষ বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থীর চেয়ে আওয়ামী লীগের দুই মেয়রপ্রার্থীর ওপর আস্থা রেখেছে বেশি। সাধারণ মানুষদের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছে, বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রতিদ্ব’ন্দ্বিতা করছে না, বরং তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবি’দ্ধ করার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য খালেদার মুক্তি, নগরের উন্নয়ন নয়।

৩. ভোটারদের অ’নাগ্রহ

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে একটি অ’নাগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটাররা মনে করছে যে নির্বাচনে ভোট দিয়ে তাদের কী লাভ হবে বা ভোট দিয়ে তারা কোনো পরিবর্তন করতে পারবে কি না- এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে যথেষ্ট সং’শয় এবং সন্দেহ রয়েছে। এছাড়াও শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন কতটা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটি ভাবনা কাজ করছে। আর সেই বিবেচনা থেকেই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ হয়তো ভোটের ব্যাপারে একটা উদাসীনতা দেখাবে। যার ফলে সাধারণ ভোটারদের উন্নাসিকতা বিএনপির বিপক্ষে যাবে বলেই নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন।

৪. ইমেজ ও জনপ্রিয়তা

আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর এগিয়ে থাকার চতুর্থ কারণ হলো, শেখ হাসিনার ইমেজ ও জনপ্রিয়তা। এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে অবিসংবাদিত জনপ্রিয় নেতা হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা এই নির্বাচন কার্যক্রম থেকে দূরে থাকলেও এই নির্বাচনে তিনিই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। তার জনপ্রিয়তা এবং তার ইমেজ আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মূলত শেখ হাসিনার ইমেজ এবং তার ওপর সাধারণ ভোটারদের আস্থা আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীকে জয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে নেবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

৫. দুই প্রার্থীর তুলনা

ভোটের আগে অবশ্যই ভোটাররা দুই প্রার্থী মধ্যে তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করেন। বিএনপির দুজন প্রার্থীই অপেক্ষাকৃত নবীন, অনভিজ্ঞ এবং রাজনীতিতে প্রায় উদ্বা’স্তু। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দুজন প্রার্থীই প্রতিশ্রুতিশীল এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস একজন তরুণ আইকন হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তার ইমেজ সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত ভালো। ৩ বারের নির্বাচিত এমপি তিনি। সাধারণ মানুষ নিশ্বাস করেন, তাপস মেয়র হলে সিটি কর্পোরেশনের জন্য ভালো কিছু করতে পারবেন।

অন্যদিকে আতিকুল ইসলাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতিলাভ করেছেন। সেই তুলনায় বিএনপির দুজন প্রার্থী শুধু পিতৃ পরিচয়ে এবার নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তাদের ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্জন নেই। এ কারণেই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী বিএনপির চেয়ে অনেক এগিয়ে যাবে।

লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী
পেকুয়া, কক্সবাজার

Spread the love
  • 8.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8.2K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।