আফিফ ঝড়ে জয় পেল টাইগাররা

0

স্পোর্টস ডেস্ক:

হারের বৃত্তে অন্ধের মত ঘুরপাক খেতে খেতে দিশেহারা বাংলাদেশ দল অবশেষে আলোর দেখা পেল। আফগানিস্তানের কাছে একমাত্র টেস্টে হারলেও ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুরুটা হলো ঘুরে দাঁড়ানো এক জয়ে। রোমাঞ্চ ছড়িয়ে জিম্বাবুয়েকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। তবে সেই ধারাটা আর টেকেনি বেশিক্ষণ। স্কোর যখন ২৬ তখন পরপর ২ বলে আউট হয়ে যান লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। পরে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান। তখন মনে হচ্ছিল এ যেন উইকেট হারানোর মিছিল! ১০ বলের মধ্যে টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

পরে মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ৬০ রানের ব্যবধানে দুজন ফিরে গেলে ম্যাচ প্রায় ঝুঁকে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ের দিকে। তবে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ম্যাচটা নিজেদের দিকে চলে আসে আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেকে হোসেনের ঝড়ো এক জুটিতে।

বিশেষ করে সবেমাত্র দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা আফিফ হোসেনই গড়ে দেন এর মঞ্চ। শুরু থেকে ঝড় তুলে ম্যাচ ছিনিয়ে আনেন জিম্বাবুয়ের কাছ থেকে। মাত্র ২৪ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। অবশ্য জয় থেকে ৩ রান দূরে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে ৫২ রানে।

তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়। তবে ১৭.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেক। সাইফ ৪ মেরে জয় তুলে নেন। মোসাদ্দেক অপরাজিত ছিলেন ২৪ বলে ৩০ রানে।

তার আগে মিরপুরে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। আউটফিল্ড ভেজা থাকার কারণে দেরিতে খেলা শুরু হওয়ায় খেলা গড়ায় কার্টেল ওভারে।

অবশ্য শুরুটা ছিল রেকর্ডময়। সাকিব আল হাসান ২য় ওভারেই বল তুলে দেন তাইজুলের হাতে। প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা এই স্পিনার প্রথম বলেই তুলে নেন উইকেট। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে তার প্রথম শিকার ব্রেন্ডন টেলর। যা টি-টোয়েন্টিতে খুবই বিরল।

অবশ্য তাতেও সমস্যা হয়নি জিম্বাবুয়ের। অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ব্যাটে চলে রানের চাকা। তার মাঝে আরভিনকে থিতু হতে দেননি মোস্তাফিজ। ১১ রানে বিদায় দেন তাকে। তার পরেই ছন্দ পতন ঘটে জিম্বাবুয়ের। বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ানো মাসাকাদজাকে ফেরান সাইফউদ্দিন। ২৬ বলে ৩৪ রানে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর দ্রুত গতিতে ব্যাটিং এলোমেলো হয়ে যায় তাদের। ৬৩ রানে পতন হয় ৫ উইকেটের।

তবে সেই জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই করার মতো স্কোর দাঁড় করিয়েছে শেষে। আর এই স্কোরের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রায়ান বার্লের। তাণ্ডব চালিয়ে করেছেন ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি। মাত্র ৩২ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন তিনি ৫৭ রানে।

যেখানে সাকিবের ১ ওভার থেকেই নিয়েছেন ৩০ রান। তার সঙ্গে অবদান রেখেছেন টিনোটেন্ডা মুতোম্বজি। এই ব্যাটসম্যান ২৬ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় খেলেছেন হার মানা ২৭ রানের ইনিংস।

Spread the love
  • 163
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    163
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।